বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
ক্রয়কৃত জমি দখল, স্থাপনা ধ্বংস করে চাষাবাদ। তিন প্রতিবন্ধির জীবন বিপন্ন, পরিবারকে জীবননাশের হুমকী  পীরগঞ্জে বৃষ্টির অভাবে আমন ক্ষেতে ফাটল; ফলন নিয়ে শঙ্কায় কৃষক বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পীরগঞ্জে মসজিদের ঢালাই কাজের উদ্বোধন বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে আমাদের ভাবনা বিরামপুরে মুখর পরিবেশে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পালিত পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন 

দাদন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় বাদীর বাড়ীতে পুলিশ!

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : বুধবার, ২৪ মার্চ, ২০২১
  • ৩৪৯ বার পঠিত

উত্তম সরকার, বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুরে মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে নিম্ন আয়ের মানুষ অসংখ্য দাদন ব্যবসায়ীর যাতাকলে আটকে গিয়ে এখন সর্বশান্ত হয়ে মানবেতর দিনাতিপাত করছে হাজারও পরিবার। তার মধ্যে এমনি একজন অধিক মুনাফা লোভী চিহ্নিত দাদন ব্যবসায়ী স্কুল শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে এক ভুক্তভোগী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভূক্তভোগী নৈশ প্রহরী। আর এ অভিযোগ করার কারণে উল্টো পুলিশি হয়রানীর শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের খামারকান্দি গ্রামের মৃত বিরাজ মন্ডলের ছেলে খামারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী মো: নজরুল ইসলাম একই গ্রামের চিহ্নিত দাদন ব্যবসায়ী মাগুড়ারতাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র রায়ের নিকট থেকে ২০১৩ সালে নিজ নামের ব্যাংক চেক বন্ধক রেখে দুই লক্ষ টাকা উচ্চ হারে সুদে নেয়। বিনিময়ে প্রতিমাসে সাত হাজার টাকা করে সুদ দিয়ে আসছিলেন। দাদনের সুদ নিয়মিত দিয়ে আসার ফলে সাম্প্রতিক করোনা মহামারীর কারণে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ে। একারণে ওই দাদন ব্যবসায়ীর রোষানল থেকে বাঁচতে তার নিকট আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে ধার-দেনা করে এক লক্ষ টাকা পরিশোধ করেন। বাদ বাঁকী টাকা পরিশোধ করার জন্য কিছু দিনের সময় চেয়ে নিলেও দাদন ব্যবসায়ী সুদের টাকা না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে বন্ধক রাখা চেক ডিজওনার করে আদালতে ওই নৈশ প্রহরীর নামে পাঁচ লক্ষ টাকার আদায়ে মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে যাহার মামলা নং ০১সি/২০২১(শের) যাহা বর্তমান বিচারাধীন রয়েছে। মামলা বিচারাধীন থাকা স্বত্বেও বিভিন্ন লোকজন দিয়ে নানাবিধ হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। এরই একপর্যায়ে দাদন ব্যবসায়ির রোসানল ও হুমকির হাত থেকে বাঁচতে বাধ্য হয়ে ভোক্তভোগী গত ১৮ মার্চ ২০২১ তারিখে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর দাদন ব্যবসায়ী শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.লিয়াকত আলী শেখ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটি ২২ মার্চ ২০২১ইং তারিখে স্মারক নং ৪৭.৬১.১০৮৮.০০০.১৮.১৫২.১৫/১১০ এর আলোকে উভয় পক্ষকে চিঠি প্রেরণ করেন। যাতে আগামী ৩১ মার্চ ২০২১ রোজ বুধবার সকাল ১১ ঘটিকায় উভয় পক্ষকেই তদন্তকারীর অফিস কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতেও উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্ত দাদন ব্যবসায়ী তদন্তকারীর কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত না হওয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। এর প্রেক্ষিতে উল্টো দাদন ব্যবসায়ী ২৩ মার্চ মঙ্গলবার বিকালে ভুক্তভোগী নজরুল ইসলামের বাসায় পুলিশ পাঠিয়ে দেয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানা পুলিশের এসআই সাচ্চু বিশ্বাস ওই নৈশ প্রহরীর বাড়িতে গিয়ে তাকে না পেয়ে মোবাইল ফোনে আগামী দুই দিনের মধ্যে টাকা না দিলে তোকে থানায় আটকে রেখে টাকা আদায় করা হবে বলে ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন। আর্থিক করুনাবস্থায় দাদন ব্যবসায়ীর আদালতে মামলা, থানায় অভিযোগ নিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে। এ বিষয়ে দাদন ব্যবসায়ী বিকাশ চন্দ্র রায়ের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে, তিনি রাগাম্বিত হয়ে বলেন, আমি থানা বা আদালতে অভিযোগ দিয়েছি কিনা, তাতে আপনাদের কি?এ ব্যাপারে শেরপুর থানার এস আই সাচ্চুর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন এ বিষয়ে ফোনে কিছু বলতে পারবো না সাক্ষাতে কথা হবে।এ বিষয়ে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তবে ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দারোগার সাথে কথা বলে আপনাদের জানানো হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com