ছাদেকুল ইসলাম রুবেল।- ভরা মৌসুমেও উত্তরের ভলভান্ডার খ্যাত জেলা গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে আলুর চড়া দামে ক্ষোভে ফুঁসছে ক্রেতারা। পাইকারি ৫০ থেকে ৬০ টাকার আলু খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়।
সোমবার নতুন বছরে (১ জানুয়ারি) উপজেলার বিভিন্ন বাজারে গিয়ে এ চিত্র চোখে পড়ে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। বাজারে নতুন আলু এসেছে। রয়েছে পুরাতন আলুও। তারপরও দাম না কমায় হতাশ ক্রেতারা।
মৌসুম চললেও আলুর দামবৃদ্ধির কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতীয় আলু আমদানি বন্ধ ও দেশীয় আলুর সরবরাহ কম থাকা হরতাল অবরোধ রাজনীতির অস্থিশলতার কারণে দাম বেড়েছে।এদিকে নতুন আলু এলেও খুচরা বাজারে এখনো পুরোনো আলুর দাম চড়া। পুরোনো আলু বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দরে।
উপজেলার প্রাণ কেন্দ্রের এক মাত্র কালিবাড়ি বাজারের আড়তদার চয়েন বলেন, বর্তমান বাজারে আড়তে সাধারণ মানের প্রতি কেজি আলু ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে সরবরাহ কিছুটা কম। কয়েক মাস ধরে আলুর দাম চড়া। গত অক্টোবরের শেষে আলুর দাম সর্বোচ্চ ৭০ টাকায় পৌঁছায়। এরপর ভারত থেকে আলু আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। তবে এখন আলু আমদানি হচ্ছে না।আড়তদাররা বলছেন, বৃষ্টির কারণে আলুর জোগানে ঘাটতি হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে আরও কিছুদিন আলু আমদানি করার প্রয়োজন ছিল। আলুর এমন ঘাটতির কারণেই দাম বাড়তি বাজারে।
মাঠেরবাজার,নুতুন বাজার,ঢোলভাঙ্গা,আমলাগছি বাজারে একই অবস্থা। নিত্যপণ্য কিনতে আসা নাছির বলেন, বাজারে ক্রেতার কখনও স্বস্তি নেই। বিক্রেতারা কয়েকদিন পরপর একটি একটি করে পণ্যের দাম বাড়ায়। ভরা মৌসুমে আলুর দাম ৬০ টাকা কেজি কিনতে হচ্ছে। সঙ্গে চালের দামও বাড়তে শুরু করেছে। সঙ্গে পেঁয়াজের পর আদা-রসুনের দামও বাড়ছে হু হু করে,ডিম মাছ,মাংসের বাজারে যায়া অসম্ভাব। কিন্তু এগুলো যে দেখবে তারা যেন নিশ্চুপ। তদারকি সংস্থার লোক দেখানো তদারকির জন্য আমরা ক্রেতারা অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে ঠকছি।পৌর বাজার বাশকাটায় আসা আমির হোসেন বলেন, গত কয়েক বছরের মধ্যে ভরা মৌসুমে আলুর দাম এতে বেশি হয়নি। এবার এখনো আলুর দাম অনেক বেশি। প্রশাসনের তদারকি প্রয়োজন।
পৌর সদরের কাপড়ের দোকানী আজাদুল বলেন,আমার জীবনে কখনো ভরা মৌসুমে আলুর দাম এত বেশি দেখিনি। দাম কমার কথা, উল্টো বেড়ে চলেছে।আমলাগছি বাজারের আলু বিক্রাতা হাবিব বলেন, দেশীয় আলু পুরোপুরি বাজারে আসতে আরও ১৫ দিনের মতো সময় লাগবে। এর মধ্যে ভারতীয় আলু না আসায় সংকট দেখা দিয়েছে। আর এ সুযোগে খুচরা ব্যবসায়ীরা বাড়তি দামে আলু বিক্রি করছেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, এখন নির্বাচনকে ঘিরে ব্যস্ততার মধ্যে সময় যাচ্ছে। সুযোগ পেলে বাজারে গিয়ে মনিটরিং করবো।
Leave a Reply