বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
ক্রয়কৃত জমি দখল, স্থাপনা ধ্বংস করে চাষাবাদ। তিন প্রতিবন্ধির জীবন বিপন্ন, পরিবারকে জীবননাশের হুমকী  পীরগঞ্জে বৃষ্টির অভাবে আমন ক্ষেতে ফাটল; ফলন নিয়ে শঙ্কায় কৃষক বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পীরগঞ্জে মসজিদের ঢালাই কাজের উদ্বোধন বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে আমাদের ভাবনা বিরামপুরে মুখর পরিবেশে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পালিত পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন 

সিডনিতে বাংলাদেশির মৃত্যু: অতপর

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৫৯ বার পঠিত
 সিডনী থেকে আব্দুল্লাহ ইউছুফ শামীম ।- সিডনিতে মোঃ ফরিদ-উজ-জামান (৫৯), ইউনিট–১, ২২ তলা, ফিলিপ স্ট্রিট, ওয়াটারলুতে বসবাসরত এ বাংলাদেশির মৃত্যু ও দাফনের পর তার আত্মীয়স্বজনের সন্ধান মেলেনি।
৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে তার দাফন সম্পন্ন করে  মুসলিম সিমেট্রিজ বোর্ড, নিউ সাউথ ওয়েলস-এর উদ্যোগে সম্ভাব্য ওয়ারিশ খুঁজে পেতে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন/কনস্যুলেটে যোগাযোগ করেও তার কোনও রেকর্ড পাওয়া যায়নি।
ফরিদ-উজ-জামান চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। ১৯৯৭ সালে সিডনিতে আসার পর তিনি সরকার-সাবসিডিযুক্ত একটি আবাসনে একাকী বাস করতেন। মৃত্যুর পর স্থানীয়ভাবে খোঁজাখুঁজি ও অনুসন্ধান চালানো হলেও কোনও আত্মীয় বা পরিচিত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। মুসলিম সিমেট্রিজ বোর্ড মানবিক বিবেচনায় অজ্ঞাতপরিজন হিসেবে তার দাফন সম্পন্ন করে। প্রতিষ্ঠানটি NSW এ নিবন্ধিত একটি অলাভজনক সংগঠন, যা পরিবারবিহীন ও অসহায় ব্যক্তিদের  দাফন নিশ্চিত করে, কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় সংযোগ ছাড়াই।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ হাইকমিশন/কনস্যুলেটে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো কার্যকর সহযোগিতা মেলেনি। পরে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, নাগরিক নিবন্ধন বা সরকারি ডাটাবেসে অনুসন্ধানের জন্য তারা পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বরাবর চিঠি পাঠানো হয়।  তাদের উদ্দেশ্য কেবলমাত্র মৃত ব্যক্তির পরিবারের কাছে খবর পৌঁছে দেওয়া, কোনো আর্থিক সহায়তা বা আইনি প্রক্রিয়া নয়।
অভিযোগ উঠেছে: সিডনি কনস্যুলেট বা দূতাবাস এ ঘটনায় ন্যূনতম সৌজন্য, সহানুভূতি বা সাড়া প্রদর্শনেও ব্যর্থ হয়েছে। এতে কমিউনিটির মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন:
“কেন তারা বাংলাদেশের সরকারি দপ্তরের মতো অনীহা ও অলসতা দেখাচ্ছে?”
“প্রবাসীদের ট্যাক্সের অর্থে বেতন পেয়ে তারা প্রবাসীদের মৌলিক সেবা দিতেও অনাগ্রহী কেন?”
কমিউনিটির অংশ থেকে অভিযোগ এসেছে, দূতাবাসের কিছু কর্মকর্তা গ্রাহকসেবা সম্পর্কে অজ্ঞ,  অসৌজন্যমূলক আচরণে অভ্যস্ত, এবং দায়িত্ববোধহীন মনোভাবের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সেবাগ্রহীতারা ভুগছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন—
“একজন মৃত বাংলাদেশির জন্য যখন ন্যূনতম সহযোগিতা দিতে তারা অপারগ, তখন জীবিত প্রবাসীরা কীভাবে তাদের কাছ থেকে সেবা আশা করবে?”
এদিকে বিষয়টি জানানো হলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মাননীয় প্রফেসর ইউনূসের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা প্রফেসর আনিসুর রহমানকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
১৪ নভেম্বর ২০২৫ সকাল ৯:৪৫ মিনিটে সিডনিতে তাঁর আগমন উপলক্ষে দূতাবাস ও কনস্যুলেটের দুইজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সিডনি বিমানবন্দরে গিয়ে প্রফেসর আনিসুর রহমানের খেদমতে হাজির হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে তিনি তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রবীণ ও নবীন বাংলাদেশি নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে, বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেটের অনীহা ও কর্মবিরতির কারণে ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা জানতে একটি অনলাইন জরিপের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com