মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন  পীরগঞ্জ মাতৃসদন ক্লিনিকে প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যু, স্বজনদের আহাজারি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ইন্তেকাল করেছেন পীরগঞ্জে থমকে গেছে পৌরসভার  সড়কের উন্নয়নের কাজ!!-প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা এলাকাবাসীর পীরগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার স্বর্ণের হার ছিনতাইয়ের অভিযোগ ঘোড়া ঘাটে সড়ক দূর্ঘটনায় মা ও মেয়ে নিহত চালক আহত

কটিয়াদীতে ট্রিপল মার্ডার: অপর খুনিদের বাঁচানোর চেষ্টা প্রধান আসামির

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২০
  • ৪২৫ বার পঠিত

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) থেকে সুবল চন্দ্র দাস।- কটিয়াদীর বনগ্রাম ইউনিয়নের জামশাইট গ্রামে ট্রিপল মার্ডারের প্রধান আসামি দ্বীন ইসলাম আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনজনকে একাই হত্যা করার কথা বলেছেন। তার এ কথা বিশ্বাস করেন না মামলার বাদী ও এলাকাবাসী। বাদী বলেছেন, এর মাধ্যমে অপর খুনিদের আড়াল করার চেষ্টা করছেন দ্বীন ইসলাম। অনুসন্ধানে জানা যায়, নিহত আসাদুল ইসলাম (৫৫) স্ত্রী ও ছেলে নিয়ে ঢাকায় কাজ করতেন। আসাদ তার ছোট ভাই দ্বীন ইসলামের কাছ থেকে বাড়ির কিছু অংশ কিনে নেন। এ নিয়ে দ্বীন ইসলাম, তার বোন নাজমা আক্তার, তাসলিমা আক্তারসহ অন্যদের সঙ্গে আসাদের মতবিরোধ ছিল। এ বিষয়ে একাধিক সালিশ-দরবারও হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোনাহর আলী বলেন, মোফাজ্জল তার বাবা-মা, বড় ভাইকে অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে কটিয়াদী থানায় জিডি করতে এলে পুলিশের দুই-তিনটি দল নিয়ে অভিযানে নামি। মুমুরদিয়ার একটি চায়ের দোকান থেকে প্রধান আসামি দ্বীন ইসলামকে আটক করি। পরে ছোট বোন তাসলিমা, নাজমা, মা জরিনা আক্তার কেওয়া, ভাগ্নে আল-আমিন ও ভগ্নিপতি ফজলুর রহমানকে আটক করে লাশ উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। একপর্যায়ে নতুন মাটি দেখতে পেয়ে মাটি খুঁড়ে গভীর রাতে তিনজনের লাশ উদ্ধার করি। ৩০ অক্টোবর ময়নাতদন্তের পর তিনজনের লাশ নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়। এ ব্যাপারে নিহতের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে দ্বীন ইসলাম, বোন নাজমা, ভাগ্নে আল-আমিন ও ভগ্নিপতি ফজলুর রহমান, আজিজুল ইসলাম, মা কেওয়া, মিজান, রায়হান, তাসলিমাসহ ৯ জনকে ও অজ্ঞাতপরিচয়ে আরও ৬-৭ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। গত রোববার প্রধান আসামি দ্বীন ইসলাম ভাই, ভাতিজা ও ভাবীকে একাই হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়ার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। দ্বিতীয় দফায় বোন নাজমা, ভাগ্নে আল-আমিন ও মা কেওয়াকে তিন দিনের রিমান্ড দিলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর আদালতে পাঠানো হয় মামলার বাদী তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমার বাবা-মা, ভাইকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে পেশাদার খুনিদের নিয়ে হত্যাকান্ডটি ঘটানো হয়েছে। কিন্তু প্রধান আসামি দ্বীন ইসলাম পুলিশ ও ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছে যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তা সম্পূর্ণ সত্য নয়। একা এক ব্যক্তির পক্ষে তিনজনকে খুন করে লাশ চাপা দেওয়া অসম্ভব। এর মাধ্যমে অপর খুনিদের আড়াল করার চেষ্টা করছেন দ্বীন ইসলাম। আমি তাকে পুনরায় রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রকৃত খুনিদের খুঁজে বের করে তাদের ফাঁসির দাবি করছি। প্রকৃত খুনিরা বাইরে থাকায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বনগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিলন বলেন, অবশ্যই দ্বীন ইসলামের সঙ্গে আরও অনেকেই জড়িত থাকতে পারে। অ্যাডভোকেট বজলে কাদের মুকুল বলেন, ১৬১ ধারায় পুলিশের কাছে, ১৬৪ ধারায় ম্যাজিষ্ট্রটর কাছে জবানবন্দি দিলে তাকে আর রিমান্ডে নেওয়ার আইনগত সুযোগ নেই। তবে অধিক তদন্ত ও খুনের রহস্য উদ্ঘাটনের কোনো ফাঁক-ফোকর থাকলে তাকে পুনরায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার রেওয়াজ রয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, দ্বীন ইসলামের বক্তব্যের সঙ্গে অন্য আসামিদের বক্তব্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপর আসামি নাজমা বেগমকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবার আবেদন করা হয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে সব কথা বলা যাবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com