বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
ক্রয়কৃত জমি দখল, স্থাপনা ধ্বংস করে চাষাবাদ। তিন প্রতিবন্ধির জীবন বিপন্ন, পরিবারকে জীবননাশের হুমকী  পীরগঞ্জে বৃষ্টির অভাবে আমন ক্ষেতে ফাটল; ফলন নিয়ে শঙ্কায় কৃষক বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পীরগঞ্জে মসজিদের ঢালাই কাজের উদ্বোধন বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে আমাদের ভাবনা বিরামপুরে মুখর পরিবেশে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পালিত পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন 

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে ডাকবাক্স

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : শনিবার, ১২ জুলাই, ২০২৫
  • ১৩২ বার পঠিত

ঘোাড়াঘাট (দিনাজপুর) থেকে আজহারুল ইসলাম সাথী ।- বিলুক্তি চিঠির ডাক বাক্স এক ফেলে আসা আবেগের ঠিকানা একসময় ভালোবাসা, খবর আর না বলা অনুভূতিগুলো পৌঁছে যেত চিঠির কাগজে ভরে।

আর সেই চিঠিগুলো মানুষ ফেলতো এই লাল রঙের ছোট্ট বাক্সে- যা ছিল অপেক্ষার প্রতীক, প্রিয়জনের চিঠির আশায় দিন গোনা এক হৃদয়ের ঠিকানা।

মোবাইল, ইমেইল, ইমো কিংবা মোবাইল, ইমেইল, ইমো কিংবা হোয়াটসঅ্যাপ তখন ছিল না- ছিল পোস্টম্যানের সাইকেলের ঘণ্টাধ্বনি, আর হাতে লেখা চিঠির কালি থেকে ছড়িয়ে পড়া অদ্ভুত এক ঘ্রাণ। আজ এই চিঠির বাক্সগুলো আর ভরে না কারও হাতে লেখা বার্তায়, তবুও দাঁড়িয়ে থাকে কোথাও একা, নীরবে… একজন প্রহরীর মতো, যে পাহারা দেয় ফেলে আসা এক আবেগময় যুগের। সময় বদলালেও কিছু কিছু স্মৃতি, কিছু প্রতীক্ষা, কখনো পুরনো হয় না. আধুনিকতার ছোঁয়ায় এক সময়ের চাহিদার তুঙ্গে থাকা ডাক বাক্স কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে।

ডাক বাক্স কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে কত শত সাহিত্য, কবিতা ও উপন্যাস। যা পাঠকের হৃদয়ে এখনো লালন করে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে মানুষ আধুনিকায়নের দিকে এগোচ্ছে। আর আধুনিকতার ছোঁয়াতেই হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের ডাক বাক্স । তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণে রাখা উচিত মানুষের গন্ধ মাখা, গোটা গোটা অক্ষরে লেখা চিঠির জন্য কেউ অপেক্ষার প্রহর গুনে না, এখন সেকেন্ডের ব্যবধানে পৃথিবীর এ প্রন্ত থেকে ও প্রন্তে টুংটাং আওয়াজ তুলে খুদে বার্তা পৌঁছে যায়। চিঠি শুধুই একটি যোগাযোগের মাধ্যম ছিল না, বরং এটি একটি শিল্প।

সুন্দর হাতের লেখা, লেখন শৈলীতে পরিপূর্ণ একটি চিঠির গুরু হাজারটি ইলেকট্রনিক খুদে বার্তায় মিলবে না। কখনো কখনো চিঠির হাতের লেখার পরিবর্তনের দিকে ভালো করে লক্ষ্য করলে লেখকের আবেগের তারতম্য অনুধাবন করা যেতো। খুশির সংবাদের চিঠি গুলো লেখার সময় কোনো কোনো শব্দ কলমের ডগা থেকে সাদা কাগজে বেরিয়ে আসার সময় উত্তেজনায় লেখকের আঙুলকেঁপে উঠত, দুঃসংবাদের চিঠি গুলোতে খুঁজলে হয়তো দুই আধ ফোঁটা চোখের জলের দাগও পাওয়া যেতো। একটা চিঠিতে আগে যতটা স্নেহ, ভালোবাসার বহিঃপ্র্রকাশ ঘটতো একটা খুদে বার্তায় কখনোই তা প্রকাশ পায় না। অথচ দূর অতীতে একেকটি চিঠিতে ব্যক্তি জীবনের সঙ্গে এলাকার সার্বিক খবরাখবরও তুলে ধরা হতো, যেন হাতে লেখা ছোট্ট একখানা খবরের কাগজ পড়ছি। কাগজে লেখা চিঠির আবেগের ভাষা হৃদয়ের গভীরে যে ক্ল্যাসিক্যাল সুর তোলে যন্ত্রের চিঠি কি তা কখনো পারবে ? চিঠির সাথে ফিকে হয়ে যাচ্ছে চিঠিতে ব্যবহার করা সম্বোধনের শব্দগুলো, এখন আর প্রিয়তমেষু, সুচরিতেষু, প্রাণেশ্বর, প্রীতিভাজনেষু, শ্রদ্ধাভাজনেষু, শ্রীচরণেষু শব্দের ব্যবহার চোখে পড়ে না। নব্বই দশকের সমযটাতে দুরদুরান্তে থাকা মানুষ কিবা শিক্ষার্থীদের দিনের শেষ কাজ ছিল কিছু জমানো চিঠির উত্তর লিখে ফেলা, আর দিনের প্রথম কাজ ডাকবাক্সে নতুন কোনো চিঠি জমা হয়েছে কিনা তার সন্ধান করা। ডাকঘর আর ডাকবাক্সের এখন আর যৌবন নেই। কোনো কোনো স্থানের ডাকবাক্সের ঢালাইয়ের লোহার স্থানে স্থানে মরিচা ধরে ক্ষয়ে পড়েছে। দেশের কোথায় এখন ডাকবাক্স তেমন আর চোখে পড়ে না। কবিগুরুর কথাকে সত্য প্রমাণ করে বিজ্ঞান দিন দিন উৎকর্ষিত হচ্ছে আর আবেগ পৃথিবী থেকে বিদায় নিচ্ছে। চিঠির স্থান দখল করে নিয়েছে ইমেইল, ইমো কিংবা হোয়াটসঅ্যাপ মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম। ডকুমেন্ট পাঠানো হচ্ছে ইমেইলে। ডিজিটাল এ যুগে ডাকঘরের আবেদন দিনদিন ফিকে হয়ে যাচ্ছে। হয়তো আগামীর শিশুদের সাথে ডাকবাক্সের দেখা হবে জাদুঘরে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com