মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন  পীরগঞ্জ মাতৃসদন ক্লিনিকে প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যু, স্বজনদের আহাজারি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ইন্তেকাল করেছেন পীরগঞ্জে থমকে গেছে পৌরসভার  সড়কের উন্নয়নের কাজ!!-প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা এলাকাবাসীর পীরগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার স্বর্ণের হার ছিনতাইয়ের অভিযোগ ঘোড়া ঘাটে সড়ক দূর্ঘটনায় মা ও মেয়ে নিহত চালক আহত

কিশোরগঞ্জ কারাগার মডেল সংশোধনাগার

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২০
  • ৪৮২ বার পঠিত

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) থেকে সুবল চন্দ্র দাস।- আদিকাল থেকেই কারাগারকে গণ্য করা হয়ে আসছে সাজা ভোগ করার বন্দিশালা হিসেবে। আর সেই কারণেই কারও কারাদন্ড হলে অন্য ভাষায় বলা হয়ে থাকে ৫ বছরের সাজা, ১০ বছরের সাজা বা যাবজ্জীবন সাজা। কিন্তু কারাগার যে হয়ে উঠতে পারে সংশোধনাগার, কর্মসংস্থানের প্রশিক্ষণাগার, সেই রকমই একটি মডেল কারাগার হয়ে উঠছে কিশোরগঞ্জের কারাগার। এখানে কৃষি, নার্সারি, মৎস্য চাষ, জুতা তৈরি, সেলাই, রন্ধন ও রেস্তোরাঁ ব্যবস্থাপনা, সংস্কৃতি চর্চা, নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা এবং ক্রীড়া চর্চাসহ ৯টি ট্রেডে বন্দীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। তাদের মনিটরিংয়ের জন্য তৈরি করা হয়েছে ‘রেডিয়েন্ট প্রিজনারস’ নামে একটি ওয়েবসাইট, তৈরি করা হয়েছে ডাটাবেজ। অর্থাৎ, এখানে কাজ শিখে কেউ দন্ড খেটে মুক্ত জীবনে ফিরে গেলে তিনি হারিয়ে যাবেন না বা কর্তৃপক্ষের নজরের আড়ালে চলে যাবেন না। মুক্ত জীবনে গিয়ে তিনি যেন তার প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে নতুন করে জীবন গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করতে পারেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির বদৌলতে সেই তাদারকির সুযোগটি রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে তাকে পুঁজির সংস্থান করে দেয়ার উদ্যোগও নেয়া হচ্ছে। ২০ বছরের কম বয়সী বন্দিরা মুক্ত হওয়ার পর তাদের কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কিশোরগঞ্জ শহরের মাঝখানে ১৯৪৮ সালে প্রায় পৌনে তিন একর জায়গার ওপরে একটি কারাগার নির্মাণ করা হয়েছিল। যার সর্বাশেষ ধারণ ক্ষমতা ছিল ২৪৫ জনের। জনসংখ্যা বেড়েছে বহুগুণ। অপরাধ বেড়েছে, মামলা বেড়েছে, বন্দীও বেড়েছে। ফলে এই পুরনো কারাগারে ধারণ ক্ষমতার চারগুণ পাঁচগুণ বন্দীকে গাদাগাদি করে থাকতে হয়েছে। যে কারণে শহরতলির খিলপাড়া এলাকায় ৩০ একর জায়গার ওপর নির্মাণ করা হয়েছে দুই হাজার বন্দীর ধারণ ক্ষমতার আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত নতুন কারাগার। প্রায় দু’বছর ধরে সেখানেই এখন সকল বন্দীদের রাখা হচ্ছে। সেখানে বিস্তর খালি জায়গা রয়েছে। রয়েছে বহু ভবন। বর্তমান জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরীর উদ্যোগে বর্তমানে কারাগারটিকে কেবলমাত্র বন্দিশালার পরিবর্তে একটি বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়েছে। কারাগারে কৃষি, নার্সারি, মৎস্য চাষ, জুতা তৈরি, সেলাই, রন্ধন ও রেস্তরাঁ ব্যবস্থাপনা, সংস্কৃতি চর্চা, নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা এবং ক্রীড়া চর্চাসহ ৯টি ট্রেডে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর নাম দেয়া হয়েছে ‘কিশোরগঞ্জ কারাবন্দী সংশোধনাগার মডেল’। জেলার, ডেপুটি জেলার ও কারা রক্ষীদের দক্ষ প্রশিক্ষকদের দিয়ে মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। তারা বিভিন্ন ট্রেডে বন্দীদের ৩০ জনের ব্যাচ করে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। বিভিন্ন ট্রেডে ৭ দিন, ১৫ দিন এবং ৩ মাসের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। বন্দীদের মধ্যেও অনেকেই বিভিন্ন বৃত্তিমূলক কাজে আগে থেকেই দক্ষ। তারাও অন্য বন্দীদের প্রশিক্ষিত করার কাজে সহায়তা করছেন। শেখানো হচ্ছে গান, আয়োজন করা হচ্ছে ফুটব ম্যাচের। বন্দীদের দিয়ে কারাগারের ভেতরের বিশাল খালি চত্বরে শাকসবজি চাষ করানো হচ্ছে। ২০১৯ সালে এখানে ৩ লাখ ১৪ হাজার টাকার সবজি উৎপন্ন করে কারাগারের খাবার খরচ বাবদ সরকারের অর্থের সাশ্রয় করা হয়েছে। বন্দীরা প্রশিক্ষণ নিয়ে জুতাও তৈরি করছেন। কারামুক্তদের জন্য একটি করে আইডি নম্বর দেয়া হচ্ছে। কারামুক্ত হওয়ার পর তাদের কর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। এমনকি ২০ বছরের কম বয়সী বন্দীরা মুক্ত জীবনে যাবার পর তাদের কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ রাখা হয়েছে। বন্দীদের ডাটাবেজ ও ওয়েবসাইট তৈরি করে এই কাজে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদেরও যুক্ত করা হচ্ছে। তারা স্ব স্ব উপজেলার কারামুক্তদের বিষয়ে খোঁজ রাখা এবং কর্মসংস্থানের বিষয়ে উদ্যোগ নিতে পারবেন। ইতোমধ্যে ২৩৩ জন বন্দী প্রশিক্ষণ নিয়ে কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে বেরিয়ে গেছেন। কারাগারের মূল ফটকের ভেতরের চত্বরে নির্মাণ করা হচ্ছে বিশাল শেড। আর এই শেড হবে বন্দীদের তৈরি পণ্যের শোরুম। শোরুমে বাইরের পাইকারি আর খুচরা ক্রেতারা এসে পণ্য কিনে নিয়ে যাবেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। দেশ মাতৃকার মুক্তির জন্য তার বাবা জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন। সেই আবেগ আর দেশ প্রেমের চেতনা থেকেই জেলা প্রশাসক কারাগারকে সংশাধনাগারে রূপান্তরের কাজে মনোনিবেশ করেছেন। এই অভাবনীয় উদ্যোগের ফলে কিশোরগঞ্জের কারাগারটি সারা দেশের জন্য একটি মডেল হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com