মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৪ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন  পীরগঞ্জ মাতৃসদন ক্লিনিকে প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যু, স্বজনদের আহাজারি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ইন্তেকাল করেছেন পীরগঞ্জে থমকে গেছে পৌরসভার  সড়কের উন্নয়নের কাজ!!-প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা এলাকাবাসীর পীরগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার স্বর্ণের হার ছিনতাইয়ের অভিযোগ ঘোড়া ঘাটে সড়ক দূর্ঘটনায় মা ও মেয়ে নিহত চালক আহত

ঘোড়াঘাটে মানবেতর জীবন যাপন বৃদ্ধা ফুলমণি মুর্মু’র

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৩৬ বার পঠিত

ঘোড়াঘাট প্রতিনিধি আজহারুল ইসলাম সাথী।-দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে বেলওয়া মৌজার ছাতনিপাড়া গ্রামে আজও নীরবে কষ্ট বয়ে চলেছেন আদিবাসী বৃদ্ধা ফুলমণি মুর্মু।

আনুমানিক ৯০ থেকে ৯৫ বছর বয়সী এই বৃদ্ধা বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীর আর অনিশ্চিত আগামীর ভয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। সন্তান থাকা সত্বেও অর্ধাহারে-অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। সরকার থেকে পাওয়া সামান্য বয়স্ক ভাতা তার জীবনের ন্যূনতম চাহিদাও পূরণ করতে পারছে না।

ফুলমণি মুর্মু কাঁপা কণ্ঠে বলেন, আমাকে কেউ দেখাশুনা করে না। নাতি একটু কাজকর্ম করে যেটুকু খরচ করে নিয়ে আসে, তা দিয়েই আমি অনেক কষ্ট করে রান্না করে খাই। কথাগুলো বলতে গিয়ে তার চোখে জমে ওঠে দীর্ঘদিনের বেদনা। ফুলমণি মুর্মুর জীবনের শেষ সম্বল এখন তার ১১-১২ বছর বয়সী নাতি স্যামুয়েল হেমব্রম। যে বয়সে স্কুলব্যাগ কাঁধে নিয়ে পড়াশোনায় স্কুলে যাওয়ার কথা, সেই বয়সেই জীবিকার তাগিদে কাজ করতে হচ্ছে পরে বাড়ীতে। মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে টুকটাক কাজ করা আর গরু-ছাগল চরিয়ে যে সামান্য আয় আসে, তা দিয়েই চলে দাদি-নাতির সংসার। শিশুশ্রমের ওপর ভর করেই টিকে আছে দাদি-নাতির স্বপ্নের সংসার।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তার বসত ঘরটি দারিদ্র নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ঘরের টিনে মরিচা ধরে একাধিক স্থানে ফুটা হয়ে পানী পড়েছে, মাটির দেয়াল ক্ষয়ে গেছে। বৃষ্টি নামলেই ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ে পানি। মেরামত করার মতো কোনো আর্থিক সামর্থ্য নেই তার। ঘরের বারান্দায় একটি পুরোনো চৌকি পেতে নাতিকে নিয়ে কোনো রকমে রাত যাপন করেন তিনি। মাথার ওপর টিনের ছাদ থাকলেও সেখানে নেই নিরাপত্তা, নেই স্বস্তি। একদিন নাতি স্যামুয়েল বাড়িতে ছিল না। কাজের সন্ধানে বাইরে গিয়েছে সে। বারান্দায় বসে ছিলেন ফুলমণি মুর্মু-চোখে শূন্যতা, মুখে নীরবতা। কথা বলতে চাইলে ঠিকভাবে বলতে পারছিলেন না তিনি। দীর্ঘদিনের অভাব, অনাহার আর জীবনের কঠিন বাস্তবতা যেন তার কণ্ঠ স্বরও কেড়ে নিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ছোট মুর্মু জানান, প্রায় ১৬ বছর আগে ফুলমণি মুর্মুর স্বামী তরু হেমব্রম মারা যান। এরপর থেকেই জীবনের কঠিন সংগ্রাম শুরু হয় তার। ফুলমণি মুর্মুর চার ছেলে ও দুই মেয়ের সংসারে এক সময় মুখরতা থাকলেও আজ সেই ঘর নিঃস্ব। কিছুদিন আগে এক ছেলে মারা গেলে আরও অসহায় হয়ে পড়েন তিনি। বর্তমানে জীবিত তিন ছেলে ও দুই মেয়ে থাকলেও কেউই বৃদ্ধা মায়ের খোঁজ নেন না।

মৃত ছেলের একমাত্র সন্তান স্যামুয়েলকেই আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছেন ফুলমণি মুর্মু। এছাড়াও এলাকাবাসীর অনেকেই বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই অসহায় বৃদ্ধা ও তার নাতির পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি। খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা না হলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে ফুলমণি মুর্মু । বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ২নং পালশা ইউপি চেয়ারম্যান কবিরুল ইসলাম প্রধানের সাথে কথা বলার জন্যে তার ইউপি কার্যালয়ে গিয়ে তাকে না পেয়ে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড সদস্য রবিউল ইসলাম রবিন জানান, বয়স বিবেচনায় বয়স্ক ভাতা ছাড়া তাকে সরকারি অন্য কোন সুযোগ সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মাসুদ রানার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বর্তমানে সরকারি বয়স্ক ভাতার আওতাভুক্ত থাকায় বিধি অনুযায়ী তাকে অন্য কোনো ভাতার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ নেই। তবে তিনি আশ্বাস দেন, বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে অন্যান্য দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্ভাব্য সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনার জন্য চেষ্টা করা হবে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবানা তানজিন বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন দিলে, আবেদনের প্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com