বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
ক্রয়কৃত জমি দখল, স্থাপনা ধ্বংস করে চাষাবাদ। তিন প্রতিবন্ধির জীবন বিপন্ন, পরিবারকে জীবননাশের হুমকী  পীরগঞ্জে বৃষ্টির অভাবে আমন ক্ষেতে ফাটল; ফলন নিয়ে শঙ্কায় কৃষক বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পীরগঞ্জে মসজিদের ঢালাই কাজের উদ্বোধন বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে আমাদের ভাবনা বিরামপুরে মুখর পরিবেশে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পালিত পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন 

ঘোড়াঘাটে নাস্তার তালিকায় এখন শীতের পিঠা

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : রবিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২০
  • ৪২৭ বার পঠিত
ঘোড়াঘাটে শীতের পিঠা তৈরি করছেন পিঠা বিক্রেতা মোঃ কেতু মিয়া।

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি।- শীত মানেই পিঠার উৎসব। আবহমান গ্রাম বাংলার প্রতিটি পরিবারে শীতের আমেজে চলে নানা রকম পিঠার আয়োজন সেই সাথে শহরের ফুটপাত, বাসা বাড়ির সামনে, হাট বাজারে, জনবহুল এলাকায় শীতকে কেন্দ্র করে স্বল্প আয়ের মানুষেরা মুখরোচক নানা রকমের পিঠার দোকান দিয়ে জীর্বিকা করে সংসার চালায়। কিছুটা মৌসুমী ব্যবসার মত। তবে এসব পিঠার দোকান চলে সকালে ও সন্ধ্যায়। নানা রকম পিঠার মধ্যে অন্যতম হল ভাপা পিঠা। শীতের কনকনে বাতাসে নানা রকম গরম পিঠার স্বাদ নিতে পিঠা প্রিয় মানুষদের মন আকৃষ্ট করে ওঠে। সরিষা বা ধনে পাতা বাটা অথবা শুঁটকির ভর্তা মাখিয়ে চিতই পিঠা মুখে দিলে ঝালে কান গরম হয়। দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে শীতের আমেজ শুরুর সাথে সাথে উপজেলার রাণীগঞ্জ বাজার, ঘোড়াঘাট বাগেরহাট, বলগাড়ী বাজার, হরিপাড়াহাট, ওসমানপুর বাজার, বলাহার বাজার ও ডুগডুগীহাটে অলি-গলির ফুটপাতের বিভিন্ন পয়েন্টে এখন চলছে পিঠা তৈরি ও বেচাকেনার ধুম। স্থানীয় পিঠা প্রিয় মানুষেরা শীতের পিঠার স্বাদ গ্রহণ করতে পিঠার দোকানগুলোর সামনে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা ভিড় করছেন । অনেকেই সকালে সন্ধ্যায় পিঠা দিয়েই নাস্তা সারছেন। এক কথায় নাস্তার তালিকায় এখন পিঠা যোগ হয়েছে। অনেকে আবার পরিবারের চাহিদা মেটাতে পিঠা ক্রয় করে বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন। শীতে পরিবারের সবাই নানা পিঠা খেতে উৎসাহী হয়। গ্রাম থেকে শহরের সকল পরিবারেই চলে এ চাহিদা। কিন্তু এ পিঠা তৈরিতে নানা ঝামেলা পোহাতে হয় গৃহবধুদের। দরকার পড়ে নানা উপকরণ। তার সঙ্গে লাগে অভিজ্ঞতা। সব মিলে অন্যসব খাবারের মত সহজে তৈরি করা যায় না শীতের পিঠা। তবে শ্রমজীবী, রিক্সা-ভ্যান চালক, ড্রাইভার, বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত শ্রমিকসহ অভিজাত শ্রেণীর লোকজনের কাছে অত্যন্ত প্রিয় খাবার শিতের পিঠা। শিতের পিঠা তৈরিতে সামর্থের প্রয়োজন পড়ে। তাদের সংসারে অধিক মূল্যে চিনি, গুড়, দুধ কেনা কষ্টসাধ্য। তাদের কাছে পিঠা খাওয়া শুধুই স্বপ্ন। কিন্তু তারপরও থেমে থাকেনা তাদের পিঠা খাওয়া। দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষদের পিঠা খাওয়ার জন্য উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠেছে প্রায় শতাধিক পিঠার দোকান। এসব পিঠার দোকান বসছে প্রতিদিন ভোর ৫ টা থেকে সকাল ৮ টা এবং বিকাল ৫টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত। এ সমস্ত ভাসমান পিঠার দোকানের অধিকাংশ মালিকরাই হলো হতদরিদ্র পরিবারের। স্বচ্ছলতা ফেরাতে সংসারে অর্থের যোগান দিতে তারা রাস্তার পাশে তেল পিঠা, চিতই পিঠা ও ভাঁপা পিঠা তৈরি করে বিক্রি করছে। প্রতিটি পিঠা ৫ টাকা থেকে ১০ টাকায় বিক্রি করছে তারা। ভ্যান চালক, দিনমজুর, পথচারী ও শিশু-কিশোর ছাত্র-ছাত্রীরাও এ সমস্ত পিঠা দোকানের প্রধান ক্রেতা। ঘোড়াঘাট উপজেলার রানীগঞ্জ বাজারের এক দরিদ্র পিঠা বিক্রেতা মোঃ কেতু মিয়া জানায়, তিনি পিঠা বিক্রি করে প্রতিদিন ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা আয় করে থাকেন। এ কারণে শীত মৌসুমে তাদের সংসারে অভাব একেবারেই থাকে না। কেতু মিয়া মূলত ভাঁপা পিঠা তৈরি করে বিক্রি করে। এতে থাকে নারিকেল, খেজুর গুড় ও বাদাম। পিঠাগুলো খেতেও সুস্বাদু। রিক্সা চালক মোঃ আইনুল ইসলাম বলেন, এসব দোকানের বিভিন্ন রকমের পিঠা পেয়ে খুব খুশি। এসব পিঠা তারা নিজেরাও খান ও পরিবারের লোকজনদের জন্য নিয়ে যান। স্থানীয় অনেকেই বলেন, পিঠা ব্যবসায়িরা বেকারত্ব ঘোচাতে ও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি তারা লালন করছেন দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com