মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন  পীরগঞ্জ মাতৃসদন ক্লিনিকে প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যু, স্বজনদের আহাজারি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ইন্তেকাল করেছেন পীরগঞ্জে থমকে গেছে পৌরসভার  সড়কের উন্নয়নের কাজ!!-প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা এলাকাবাসীর পীরগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার স্বর্ণের হার ছিনতাইয়ের অভিযোগ ঘোড়া ঘাটে সড়ক দূর্ঘটনায় মা ও মেয়ে নিহত চালক আহত

বিরামপুরে স্ত্রীকে তালাক দেয়ায় স্বামীর বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫৪ বার পঠিত
  বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি মোঃ আবু সাঈদ ।-দিনাজপুর জেলার বিবামপুর শবনম মোস্তারী রত্না (৩৯) নামে এক মহিলাকে তাঁর স্বামী মনোয়ার হোসেন নিকাহ রেজিস্ট্রি কাজি অফিস মাধ্যমে ৮ মাস পূর্বে তালাক প্রদান করায় ওই এলাকায় রত্না ও তার লোকজনরা মনোয়ার হোসেনের বাড়ি ঘরের দরজা জানারা ভেঙ্গে মালামাল লুটপাট করে এক লঙ্কাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
এ বিষয়ে ভাংচুর, ক্ষয়ক্ষতির পরিমান, লুটপাট হওয়া মালের ফর্দ প্রস্তুত ও মূল্য নির্ধারণসহ মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে মনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন।
 ভুক্তভোগি মনোয়ার হোসেন উপজেলার ১নং মুকুন্দপুর ইউনিয়নের ভেলার পাড়া গ্রামের মৃত; সিদ্দিক আলীর ছেলে।
মনোয়ারের বড় ভাই অবসর প্রাপ্ত সেনাবাহিনীর সার্জন্ট আব্দুল কাদের বলেন, উপজেলার ১নং মুকুন্দপুর ইউনিয়নের ভেলার পাড়া গ্রামের মৃত: সিদ্দিক আলীর ছেলে মনোয়ার হোসেন একই উপজেলার ৬নং জোতবানী ইউনিয়নের জোত মাধব গ্রামের মোশারব হোসেনের মেয়ে শবনম মোস্তারী রত্না (৩৯) বিশ্ব বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত অবস্থা মন দেয়া-নেয়া করেন। মনোয়ারের পরিবারের লোকজনের মতামত ছাড়ায় ২৯/০৭/ ২০১০ সালে রেজিস্ট্রি কাবিননামা মূলে রত্নার পরিবার মনোয়ারের সাথে রত্নার  বিবাহ দেন। সাংসারিক জীবনে তাঁদের ঘরে ছেলে মাহাদ মনোয়ার (১৩) ও মেয়ে মেহেনাজ মনোয়ার (৬) নামে ছেলে-মেয়ে রয়েছে।
তারা আরো জানান, ভুক্তভোগী মনোয়ার একটি এনজিওতে দীর্ঘদিন ধরে জোনাল ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করতেন। তাঁর স্ত্রী বাড়িতে থেকে ০০০১৭ নং রেজিসাট্রেশন কৃত মাহানাজ সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে মনোয়ারের গড়া এনজিওর নাম পরিবর্তণ করে ঋন দেয়া-নেয়ার কাজ করতেন। এতোদিনের বিশ্বাসের মধ্যে হঠাৎ মনোয়ারের চাকরির টাকায় ৬৯ শতাংশ জমি মনোয়ারের নামে রেজিস্ট্রি দলিল না করে তার স্ত্রী রত্না তার নিজ নামে দলিল সম্পাদক করে মালিকানা হওয়ায় তাঁদের মধ্যে এই দন্দ চলে আসছে বলে তারা মনে করেন।
ঘটনার বিষয়ে রত্নার সাবেক স্বামী মনোয়ার হোসেন বলেন, শবনম মোস্তারী রত্না অন্যত্র পরকিয়া প্রেমে জড়িয়ে আমার সংসারে অশান্তির সৃষ্টি করে। রত্না প্রতারণামূলক ভাবে সু-কৌশলে  আমার এনজিওর ২২ লাখ টাকা নিজের নামে নিয়েছে। সেই সাথে আমার টাকায় জমি কেনার কথা বলে পলিখাপুর ও জোত মাধব মৌজার ৬৯ শতাংশ জমি প্রতারণা করে তার নিজ নামে দলিল সম্পাদনা করিয়েছেন। রত্নার সাথে বনিবনা না হওয়ায় আমি ২ নভেম্বর ২০২৪ স্থানীয় ভাবে তালাক প্রদান করি। এবং এর সাত মাস পর অন্যত্র ২য় বিবাহ করি। আমি আমার চাকুরিস্থলে থাকায় আমার তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী শবনম মোস্তারী রত্না তালাকপ্রাপ্তির পরও পেশি শক্তির জোর দেখিয়ে স্থানীয় দের ম্যানেজ করে আমার বাড়ি-ঘর দখল করে আমাকে প্রবেশে বাঁধা সৃষ্টি করে। সে আমাকে শায়েস্তা করতে ২৪ জুন ২০২৫ ইং তারিখে দিনাজপুরের বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালতে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) ২০২৫ আইনের ১১ (ক) (ক)/৩০ ধারা মতে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় আমি, আমার ভাই ও ভগ্নিপতিসহ অনেককে আসামী করে হাজত বাস করিয়েছে। আমি রত্নার অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে গত ১১ নভেম্বর আমার বাড়ি দখলে নিয়ে বসবাস করছি।
মনোয়ার দুংখ প্রকাশ করে বলেন, ১২ নভেম্বর বুধবার বেলা সাড়ে তিন ঘটিকায় আমার বাড়ি জবর দখলে নিতে প্রতিবাদ ও প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার লক্ষে শবনম মোস্তারীর রত্না, তাঁর পরিবারের লোকজন ও বহিরাগত ভাড়াটিয়াদের নিয়ে দিনে দুপুরে দেশিয় অস্ত্র ও পাথর ছুড়ে আমার বাড়ি- ঘরের জানালা ও দরজা ব্যাপক ভাংচুর করে, ঘরে প্রবেশ পূর্বক আসবাবপত্র সহ যাবতীয় মালামাল লুটপাটের করে নিয়ে গেছে।  এ বিষয়ে ভাংচুর, ক্ষয়ক্ষতির পরিমান, লুটপাট হওয়া মালের ফর্দ প্রস্তুত ও মূল্য নির্ধারণসহ মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে মনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন।
বুধবার বেলা সাড়ে তিন ঘটিকায় উপজেলার জোতবানী ইউনিয়নের জোত মাধব গ্রামের মোশারব হোসেনের মেয়ে শবনম মোস্তারী রত্না উপজেলার ১ নং মুকুন্দপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল হালিম, সংরক্ষিত মহিলা সদস্যা, গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যম কর্মিদের নিয়ে শালিসে বসে সাবেক স্বামীর ঘরে  রত্নার আসবাবপত্র তাঁর টাকায় কেনা বলে  দাবী করেন। মনোযার রত্নার দাবীকে অযৌক্তিক বলে প্রতিবাদ করায় শালিসের একপর্যায়ে উভয় পক্ষের দাবী দাওয়ার বিষয়টি সমযতা না হওয়ায় শালিস পন্ড হয়ে যায়।
এ বিষয়ে শবনম মোস্তারী রত্না তাঁর বিষয়ে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার স্বামী বিভিন্ন সময়ে আমাকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে অত্যাচার করে আসছিলো। আমাকে তালাক দিয়ে দ্বিতীয় বিবাহ করছেন। আমি মনোয়ার হোসেনকে প্রধান বিবাদী করে আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালতে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) ২০২৫ আইনের ১১ (ক)(ক)/৩০ ধারা মতে একটি মামলা দায়ের করেছি। মনোয়ারের ঘরে আমার আসবাবপত্র সহ প্রয়োজনীয় মালামাল রয়েছে। যা মনোয়ার আমাকে দেয়নি।
১নং মুকুন্দপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ১১ নভেম্বর মঙ্গলবার রত্নার বিষয়ে মনোয়ার হোসেনের বাড়িতে গেলে তিনি বলেন, আপনি বুধবারে আমার বাড়িতে আসেন রত্নার যা আছে দিয়ে দেবো। তাই আমার এলাকায় যাতে এ ঘটনাকে কেন্দ্রকরে কোনো সংঘাত বা সংঘর্ষ না হয় সেই কারণেই বিরোধ মিমাংসার জন্যেই এসেছি। এসে মনোয়ার জানান তার ঘরে রত্নার কাপড় ছাড়া আর কিছুই নাই। সেটিও তাঁরই ক্রয়কৃত।  শালিসে রত্না মালামালের কোনো ক্রয় বা মালিকানার রশিদ দেখাতে না পারায় শালিসি বৈঠকে রত্নাকে কোনো মালামাল বুঁঝে দিতে পারি নাই। উপস্থিত সকলের নিকট থেকে বিদায় নিয়ে চলে এসেছি। তবে বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও মালামাল লুটপাটের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।
এবিষয়ে মুঠোফোনে বিরামপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মমতাজুল হক এঁর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনার বিষয়টি ফেইসবুক পোস্টে দেখেছি। ঘটনার পর থেকে কোনো পক্ষই থানায় আইনি সহায়তা নিতে আসেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাফেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এলাকার সর্বস্থরের সচেতন মহল ১ং মুকু্দপুর ইউনিয়নের ভেলারপাড়া গ্রামের মনোয়ার হোসেনের সাবেক স্ত্রীর শবনম মোস্তারী রত্নার আদালতে করা মামলা ও ১২ নভেম্বর বুধবার বিকেল সাড়ে তিনটায় মনোয়ারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাটের বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com