রংপুর থেকে জেলা প্রতিনিধি।- রংপুর নগরীর ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বিন্নাটারি সার্বজনীন শিব ও দুর্গা মন্দিরের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই-গ্রæপের মধ্যে সংর্ঘষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের ১০জন আহত হয়েছে। আহতরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এঘটনায় বিন্যাটারি এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোন মুর্হুতে আবারও রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে স্থানীয়রা ধারণা করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছে। এব্যাপারে উভয় পক্ষের মামলার প্রস্তুুতি চলছে বলে জানা গেছে।
মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয়রা জানান, নগরীর ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বিন্নাটারি সার্বজনীন শিব ও দুর্গা মন্দির পরিচালনার জন্য তিন বছরর পর পর কমিটি গঠন করা হয়। বিগত ২০১৮ সালে ২১ সদস্য বিশিষ্ট তিন বছর মেয়াদী কমিটি গঠন করা হয়। চলতি বছরের ২৮ আগষ্ট কমিটির মেয়াদ শেষ হলে পুরাতন কমিটির নেতৃবৃন্দ মন্দিরের দাতা সদস্যদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। দাতা সদস্যরা কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেন। গত শনিবার রাতে কমিটি গঠনের লক্ষে সভা আহব্বান করেন তারা। সভা চলাকালীন সময়ে স্থানীয় দিলীপ চন্দ্র বর্মন,লেবু অধিকারি, দিপংকর বর্মন, মৃণাল চন্দ্র রায়, সাধু মহন্ত, কৈলাশ চন্দ্র রায়সহ ২০/২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হয়ে হামলা চালায়। এসময় তারা মন্দিরের প্রাচীর,মন্দিরের স্টোর রুম ভাংচুর ও গাছ-গাছালি কেটে ফেলে। এতে বাঁধা দেয়ায় কমল চন্দ্র, নিত্যানন্দ রায়, উজ্জল রায়, দিপংকর বর্মনসহ ১০ জন আহত হন। খবর পেয়ে হাজীরহাট মেট্রোপলিটন থানা পুলিশের একদল সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। এদিকে গুরুতর আহত কমল চন্দ্র রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকিরা রংপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এঘটনায় বিন্যাটারি এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোন মুর্হুতে আবারও দুই গ্রæপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন।
মন্দিরের জমিদাতা নিরঞ্জন চন্দ্র বর্মন ও বিধু রঞ্জন বর্মন জানান, কমিটির মেয়াদ ২৮ আগষ্ট শেষ হয়। গত শনিবার রাতে নতুন করে কমিটি গঠনের লক্ষে সভা আবাহŸান করা হয়। সভা চলাচকালীন স্থানীয় একদল উচ্ছৃংঙ্খল ও দাঙ্গাবাজ ব্যক্তি আর্তকিত হামলা চালিয়ে মন্দিরের প্রাচীরসহ বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতি সাধণ করে। ওই কুচক্রী মহলটি দীর্ঘদিন ধরে মন্দিরের উন্নয়ন মূলক কাজে বাঁধা সৃষ্টি করে আসছে।
মন্দিরের সাবেক সভাপতি উজ্জল রায় জানান,আমরা দীর্ঘদিন ধরে মন্দির পরিচালনার দায়িত্বে ছিলাম। আমাদের মেয়াদকালে একটি কুচক্রী মহল মন্দিরের উন্নয়ন কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে আসছে। তারপরেও মন্দিরের অবকাঠামোসহ বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক চলমান রয়েছে।
এব্যাপারে হাজীরহাট মেট্রোপলিটন থানার ওসি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। উভয়পক্ষকে শান্ত থাকতে বলা হয়েছে। এখনো কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Leave a Reply