বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১২ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
ক্রয়কৃত জমি দখল, স্থাপনা ধ্বংস করে চাষাবাদ। তিন প্রতিবন্ধির জীবন বিপন্ন, পরিবারকে জীবননাশের হুমকী  পীরগঞ্জে বৃষ্টির অভাবে আমন ক্ষেতে ফাটল; ফলন নিয়ে শঙ্কায় কৃষক বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পীরগঞ্জে মসজিদের ঢালাই কাজের উদ্বোধন বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে আমাদের ভাবনা বিরামপুরে মুখর পরিবেশে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পালিত পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন 

স্বাধীনতার ৪৯ বছর পেরিয়ে গেলেও সংস্কার হয়নি রংপুরের অধিকাংশ বধ্যভূমি

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৫২০ বার পঠিত

রংপুর প্রতিবেদক।- ১৯৭১ সালের দীর্ঘ ন’মাস গোটা রংপুরব্যাপি পাক হানাদার বাহিনীর হাতে যে সব স্বাধীনতাকামী নিরস্ত্র মানুষ অকাতরে প্রাণ দিয়েছেন তাদের হিসেব মিলানো খুবই দুস্কর। শান্তিপ্রিয় নিরিহ এ মানুষদের তাদের বাসাবাড়ি ও কর্মস্থল থেকে তুলে নিয়ে হাত-পা-চোখ বেঁধে বিভিন্ন জঙ্গল ও নদী এলাকায় নির্মমভাবে গুলি চালিয়ে হত্যা করে হায়েনার দল। পড়ে ছিল লাশের স্তুপ। নির্মম এই ঘটনার পর কোন দু’একজন শহিদের স্বজন এসে তাদের মরদেহ সনাক্ত করে পুনরায় দাফন করলেও আজো মিলেনি সিংহভাগ শহিদের পরিচয়। ফলে মহান মুক্তিযুদ্ধে হত্যাযজ্ঞের নীরব সাক্ষি হয়ে রয়েছে রংপুরের ওইসব বদ্ধভূমি।

গবেষকরা মনে করেন, বধ্যভূমিগুলোই মুক্তিযুদ্ধের মূল প্রেরণা, স্বাধীনতার মূল স্তম্ভ। কিন্তু দেশ স্বাধীনের ৪৯ বছর পেরিয়ে গেলেও সংস্কার হয়নি শহিদদের স্মৃতি বিজড়িত অধিকাংশ বধ্যভুমি। অযত্ন আর অবহেলা কিংবা অন্যের দখলে গিয়ে বিলিন হতে চলেছে আত্মদানকারিদের মর্মান্তিক স্মৃতি বিজড়িত সেই স্থানগুলো।

সরেজিমেন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহানগরীর টাউন হল চত্তর, দখিগঞ্জ শ্মশান, সাহেবগঞ্জ, রংপুর-কুড়িগ্রাম সড়কের নব্দীগঞ্জ, দমদমা ব্রিজ, বদরগঞ্জের হাড়িয়ার বিল, সদর থানার লাহিড়ির হাট বদ্ধভূমি উল্লেখযোগ্য। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও অবহেলায় ওইসব বদ্ধভূমির অধিকাংশই হারিয়ে যেতে বসেছে। এসব বধ্যভুমির মধ্যে অন্যতম মহানগরীর দমদমা বদ্ধভূমি। এখানকার বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের চাক্ষুস স্বাক্ষী অনেকে আজোও বেঁচে আছেন। এ স্থানে শায়িত শত-সহস্র শহীদদের মধ্যে উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ কারমাইকেল কলেজের ৬জন শিক্ষক ও ইসমাইল হোসেন বাসু মিয়া নামের একজন ব্যাবসায়ী ছাড়া আর কারো নাম-পরিচয় জানা যায়নি। বাসু মিয়ার ওয়ারিশগণ তার কবরখানি পাকা করে দিলেও অন্যরা রয়েছেন উপেক্ষিত।

স্থানীয়রা জানান, ইতোপূর্বে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের দমদমায় ঘাঘট নদীর উপর অবস্থিত ব্রীজের উত্তর পাশে বদ্ধভূমির একটি ফলক স্থাপনসহ উৎসুক দর্শনার্থিদের বসার জন্য পাকা ছাদ বিশিষ্ট একটি ছাউনি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ক’বছর যেতে না যেতেই বসার জায়গাটি বিলিন হয়ে গেছে। ছাদটিরও ভগ্নদশা। পরবর্তীতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং কারমাইকেল কলেজের পক্ষ থেকে দুটি ফলক উম্মোচন করা হয়েছে, যা মোটেই নিরাপদ নয়। আশে-পাশের জমিগুলোও বেচাকেনা হয়ে গেছে। যে টুকু অবশিষ্ট আছে তা এখন গোচারণ ভূমি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com