রংপুর থেকে প্রতিনিধি।- রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় দুই সন্তানের জনক প্রেমিকের ডাকে সাড়া দিয়ে বাড়ী ছেড়ে বেরিয়ে বিপাকে পড়েছে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এক কিশোরী (১৬)। অপ্রাপ্ত বয়স ও অভিভাবক না আসায় বিয়ে করতে পারছে না সে। এ অবস্থায় এখন প্রেমিকের বাড়িতেই অবস্থান করতে হচ্ছে তাকে। প্রেমিক আলমগীর হোসেন (৩০)। সে কাউনিয়া উপজেলার চর নাজিরদহ গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে। স্ত্রী, ছয় বছর ও ছয় মাসের দুই সন্তান রয়েছে তার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই মাস আগে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় দিনমজুরের কাজ করতে যান আলমগীর। দিনমজুরের কাজ করতে থাকা অবস্থায় সেখানে এক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কিশোরীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন আলমগীর। আগের স্ত্রী ও দুই সন্তানের কথা গোপন রেখে মাস খানেক আগে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিবন্ধী ওই কিশোরীকে পালিয়ে এনে এক অজ্ঞাত স্থানে বসবাস শুরু করেন। এরপর গত শনিবার আলমগীর ওই কিশোরীকে নিয়ে নিজ গ্রামের বাড়িতে ফেরেন। অপ্রাপ্ত কিশোরীকে নিজ বাড়িতে নিয়ে গেলে ঘটে বিপত্তি। প্রথম স্ত্রী কোনোভবেই দ্বিতীয় বিয়ে মেনে নিতে চাইছেন না। পরে রাতে স্থানীয় লোকজন প্রতিবন্ধী অপ্রাপ্ত বয়সি ওই কিশোরী ও যুবককে নিয়ে যান হারাগাছ ইউনিয়ন পরিষদে। কিন্তু ওই কিশোরীর বয়স কম হওয়ায় এবং অভিভাবক উপস্থিত না থাকাসহ থানা পুলিশ অভিযোগ ছাড়া ব্যবস্থা নিতে অপারগতা জানালে ওই কিশোরীকে অবশেষে প্রেমিক যুবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।সরেজমিনে রবিবার দুপুরে কাউনিয়া উপজেলার খানাসামা চর নাজিরদহ গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, ওই কিশোরী আলমগীর হোসেনের বাড়িতে অবস্থান করছে। আর প্রথম স্ত্রী কোলে সন্তান নিয়ে বাড়ীর আঙ্গিনায় কাঁদছে।
কিশোরী মেয়েটি জানায়, আলমগীর অবিবাহিত বলে তাকে জানিয়েছে। কিন্তু বাড়িতে এসে সে জানতে পারে যে, তার স্ত্রী ও দুটি সন্তান রয়েছে।নাজিরদহ গ্রামের বাসিন্দা দুুদু মিয়া জানান, আলমগীর ও কিশোরীর নাকি বিয়ে হয়েছে। তবে বিয়ের কোনো কাগজপত্র নেই। তিনি বলেন, মেয়েটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক। জন্ম নিবন্ধনে জন্ম তারিখ ১০/০৪/২০০৬ উল্লেখ রয়েছে। শনিবার রাতে গ্রামের লোকজন ছেলে ও মেয়েকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা কোনো সমাধান করতে না পারায় অবশেষে ওই কিশোরীকে প্রেমিক আলমগীরের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। বিয়ে ছাড়াই একটি মেয়ে দুইদিন ধরে ছেলের বাড়িতে অবস্থান করছে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে ঘটনা শুনে চলে যায়। মেয়েটিকে উদ্ধারে কারও কোনো তৎপরতা নেই। যদি কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে তাহলে গ্রামের লোকজনকে হয়রানী হতে হবে।মেয়েটির বাবার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তার দৃষ্টি প্রতিবন্ধি মেয়েকে প্রতারণা করে নিয়ে গেছে আলমগীর। তবে তিনি এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানায় কোনো অভিযোগ করেননি।
হারাগাছ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ জানান, গত শনিবার রাতে ছেলে ও মেয়েকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসে গ্রামের লোকজন। মেয়েটি অপ্রাপ্ত হওয়ায় বিষয়টি থানা পুলিশকে অবগত করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ অভিযোগ ছাড়া ব্যবস্থা নিতে অপারগতা জানায়। পরে রাতেই মেয়েটিকে ছেলে পক্ষের লোকজন নিয়ে যায়।
কাউনিয়া থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সেলিমুর রহমান বলেন, মেয়েটির অভিভাবকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে।
রংপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল-সি) আশরাফুল আলম পলাশ বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply