পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি।- রংপুরের পীরগঞ্জে চতরাহাটে নতুন করে জায়গা দখল করা হচ্ছে।কিছু প্রভাবশালী দিনের বেলায় প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে হাটের জমিতে পাকা ঘর নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছেন। শুধু তাই নয় ভাড়ায় চলছে চতরাহাটের ৩টি জায়গা। এ গুলো হচ্ছে ভ্যান সাইকেল ইউনিয়ন কমপ্লেক্স, কাঁচামালহাটি, চতরা ডিগ্রি কলেজ, গরুহাটি, চতরা উচ্চ বিদ্যালয়। হাটের জমির পরিমাণ ৯.৮০ একর।অথচ দেখা যায় ২০ শতক জমির উপর সরকারি টিনসেড এবং হাফ শতক হাট অফিস ছাড়া সিংভাগ জায়গা রয়েছে অসাধু ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালীদের দখলে। সরে জমিন ঘুরে দেখা গেছে, চতরা ইউনিয়নের চতরাহাট বন্দরে ধানহাটি নামকস্থানে শ্রমিক সংগঠনের নামে কাটাদুয়ারে মোসলেম মাস্টার ১টি পাকা ঘর নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছেন। অপরদিকে হাটের জায়গায় গিলাবাড়ীর বাবলু মাস্টার ১টি, সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রাজুর ৪টি, চতরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজানুল হক নন্তু, তছলিম মাস্টার ৪টি, দেলদার ১টি, তোজাম্মেল ১টি, শাহাদত হোসেন ১টি, আবু তাহের ১টি, সজির ১টি, গরুহাটিতে মজনু মিয়ার ১টি, সাহারুলের ১টি, সদর গলি- বাবু, সুলতান হারুন, আলমগীর, ওসমানসহ রেজওয়ানের চা এর দোকান ১টি, মানিক মিয়ার ১টি, ফরমান আলীর ১টি দোকানসহ আরও প্রায় ১৫/২০ জন হাটের জায়গা দখল করে পাকা ঘর নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।খোকার বাজার সংলগ্ন নদীর জায়গা ভরাট করে স্থানীয় ইউপি সদস্য নুর মোহাম্মদ গোল্লার নেতৃত্বে কুয়াতপুর গ্রামের মেহেদুল ইসলাম রাতের অন্ধকারে নদী সংলগ্ন সরকারি জায়গার উপর পাকা দোকান ঘর নির্মাণ করেছেন। চতরা বন্দরের পাটহাটীতে বিকাশ ও সুমন নামের এক ব্যক্তি হাটের জায়গা দখল করে চার তালা সম্পন্ন করেছেন। হাটের জমি দখল নিয়ে ধানহাটির মোসলেম মাস্টারের সাথে কথা হলে তিনি জানান, জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় সংগঠনের নামে দোকান ঘর নির্মাণ করছি। তবে হাটের জায়গা সবাই দখল দিচ্ছে, তাই উক্ত জায়গাটি আমার অধীনে থাকায় দখল দিয়ে ধান রাখার গুদাম ঘর করছি। অপরদিকে শুধু চতরাহাটে নয় খালাশপীর, মাদারগঞ্জ, ভেন্ডাবাড়ী, কলোনী বাজার বিভিন্ন জায়গায় সংশ্লিষ্ট তহশীলদারকে ম্যানেজ করে এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধ ভাবে হাটের জায়গা দখলে নিয়েছেন। এ ব্যাপারে চতরা ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক শাহিন জানান হাট চান্দিনা সম্পত্তি হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী হাটের জায়গা দখল করে অবৈধভাবে বসতবাড়ী দোকানপাট নির্মাণ করে ভোগ দখল করে আসছেন। চতরা হাটের উন্নয়নের স্বার্থে এর সুষ্ঠ সমাধান চাই প্রশাসনের কাছে। এ বিষয়ে সদ্য বিদায়ী চতরা ইউনিয়নের তহশীলদার নুর আলম মিয়া জানান, অবৈধ ভাবে হাটের জায়গা দখল করেছেন, অনেকেই ঘর নির্মাণ করেছেন। বিষয়টি সরে জমিনে দেখেছি, তাদেরকে নিষেধ করা হলেও কেউ তা মানছেন না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিরোদা রানী রায় জানান, হাট বাজার ও সরকারি সম্পত্তির উপর অবৈধ ভাবে পাকা দোকান ঘর নির্মাণ করার বিষয়টি জেনেছি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট তহশীলদারকে নির্দেশ প্রদান করেছি।
Leave a Reply