বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পীরগঞ্জে মসজিদের ঢালাই কাজের উদ্বোধন বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে আমাদের ভাবনা বিরামপুরে মুখর পরিবেশে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পালিত পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন  পীরগঞ্জ মাতৃসদন ক্লিনিকে প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যু, স্বজনদের আহাজারি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ইন্তেকাল করেছেন

বারুদহ দ্বিমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে উর্ধ্বমূখী ভবন দরকার

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : সোমবার, ১৭ জুলাই, ২০২৩
  • ৪৩৭ বার পঠিত

সুলতান আহমেদ সোনা।– রংপুর জেলাধীন পীরগঞ্জ উপজেলার ৪নং কুমেদপুর ইউনিয়নে, বারুদহ  দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় নামে একটি শিক্ষ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৩ ইং সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা বারুদহ গ্রামের একজন শিক্ষক; তার নাম মোঃ নুরুল ইসলাম।

বিদ্যালয়টিতে বর্তমান ছাত্র/ছাত্রীর সংখ্যা  ২৭৫ জন, এর মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ১৪০ জন। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক রয়েছেন ১৩ জন। এই  প্রতিষ্ঠানটি এমপিও ভুক্ত হয়েছে ২০০০ সালে।

সম্প্রতি ওই ইউনিয়নের রসুলপুর এলাকার পরিবেশ, পরিস্থিতি, উন্নয়ন উন্নতি, সমৃদ্ধি দেখতে গিয়ে  বিদ্যালয়টি আমার নজরে পড়েছে। কারণ গ্রামের পাকা সড়কের পাশে মনোরম পরিবেশে গড়ে উঠা  বিদ্যালয়টি কেন যেন আকর্ষণ করে ছিল !  চারিদিকে ফসলের মাঠ, ফুরফুরে বাতাশ, গাছ গাছালিতে ঘেরা এই স্কুলটির সার্বিক পরিবেশ পরিস্থিতি, এবং গ্রামের এই স্কুলে পড়া লেখার হাল হকিকত দেখার আগ্রহ থেকে  বিদ্যালয়টি দেখার আগ্রহ জন্মে। সেদিন বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের দিকে অগ্রসর হতেই, আমাকে দেখে স্বাগত জানিয়ে ছিলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল হালিম।

প্রধান শিক্ষক সাহেব আমার পূর্ব পরিচিত। বয়সে অনুজ প্রতিম। সকলের অবগতির জন্য বলছি, প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিম যখন আমার বাড়ি সংলগ্ন পীরগঞ্জ উপজেলার প্রথম কলেজ , (সম্প্রতি সরকারী হয়েছে) শাহ আব্দুর রউফ কলেজে পড়তেন, তখন থেকেই তার সাথে নীবিড় সম্পর্কে জড়িয়েছিলাম। একারণে তার প্রতি খানিকটা দূর্বলতা যে জন্মেছে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

যাক, অফিসে গিয়ে বসতেই অন্যান্য শিক্ষকগণও এগিয়ে আসেন, তাদের সাথে পরিচিত হই। তাদের মধ্যেও দু’চারজন আমাকে চিনতেন। আলাপচারিতা, কুশল বিনিময়ের  ফাঁকে প্রধান শিক্ষক সাহেব দু’একটি ক্লাসে আমাকে নিয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। তাতে আমি অনেকটা গৌরব বোধ করি!

সে যাই হোক, আমার সেদিনের উদেশ্য ছিল, গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বারুদহ দ্বি-মূখি উচ্চ বিদ্যালয়ের লেখা পাড়ার পরিবেশ,শিক্ষার্থীদের অবস্থা, বিদ্যা শিক্ষার হাল হকিকত সম্পর্কে কিছুটা ধারণা লাভ করা;করলামও তাই।

বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতেই শিক্ষার্থীদের আদব দেখে মুগ্ধ হয়েছি।  শিক্ষার্থীরা সেদিন দাড়িয়ে, সালাম দিয়ে আমাকে গ্রহন করলে, আমিও স্বগর্বে উত্তর দিতে কৃপণতা করিনি। সংবাদপত্রের সাথে যুক্ত একজন সামাজিক মানুষ হিসেবে শিক্ষার্থীদের কিছু কথা শোনানোর লোভও সামলাতে পারিনি।

এদিন  বারুদহ দ্বিমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছাত্র, ছাত্রীদের সাথে আলাপ আলোচনা, কথা-বার্তায় মনে হয়েছে, অত্র উপজেলার যে কোন স্কুলের চাইতে এই প্রতিষ্ঠানটি পিছিয়ে নেই। তবে লক্ষ্য করেছি প্রতিষ্ঠানটিতে অনেক কিছুর অভাব রয়েছে।

বলে রাখি, গ্রামের স্কুলে যারা পড়া লেখা করেন, তারা কিন্তু মধ্যবৃত্ত, নিম্নমধ্যবৃত্ত ঘরের সন্তান। তারা তিব্র অভাবের মধ্যে পাহাড় সমান স্বপ্ন নিয়ে বিদ্যালয়ে আসে যায়। নানান সংকট তাদের রয়েছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী না খেয়েই স্কুলে যায়। পুষ্টি তারা তেমন একটা পায়না। পোষাক, জামা কাপড়ে দারিদ্রতার ছাপ স্পষ্ট! তারপরেও দেখেছি, প্রায় সিংহ ভাগ শিক্ষার্থীর স্কুল ড্রেস রয়েছে। শিক্ষকরাও বেশ স্মার্ট। ছাত্র /ছাত্রীদের মেধায় খানিকটা ধারও রয়েছে কিন্তু পরিতাপের বিষয় প্রতিষ্ঠানটির জমি থাকলেও  ১৯৯৩  ইং সালে প্রতিষ্ঠিত  সেই সেমিপাকা ঘরেই ক্লাস করতে হচ্ছে এখনো।

দেখেছি স্কুলটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে বটে, ক্লাসরুম গুলোতে বৈদ্যুতিক পাখা ঘুরলেও কোন শিক্ষার্থী উপরে হাত তুলতে পারেন না। কারণ ঘরগুলোর উচ্চতা খুবই কম,  হাত তুললে যেকোন সময় ফ্যানের পাখার আঘাতে হাত কেটে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। দেখেছি ক্লাস  রুমগুলো  আয়োতনে বেশ ছোট। জানালাগুলো ছোট ছোট। ফলে সেখানেই গাদাগাদি করে বিদ্যার্জন করছে এলাকার ছোলে মেয়েরা।

এই বিদ্যালয়ে চোখে পড়ার মত কমনরুম নেই। অনেকগুলো সাইকেল দেখেছি। শিক্ষারর্থীরা বাই সাইকেলে চড়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু নেই সাইকেল গ্যারেজ। সে কারণে সাইকেল চুরি হওয়ার ভয়ে  একজন  লোককে পাহারা দিতে হয়!

এই বিদ্যালয়য়ে  প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা  একই রুমে বসে দ্বায়িত্ব পালন করেন।  বিদ্যালয়ের ওয়াশ রুম বলতে যা আছে, তাতে  কোন মতে কাজ সারা যায় আর কি! মেয়েরা বাধ্য হয়ে আশ পাশের বাড়িতে যায়। চোখে পড়ার মত নেই লাইব্রেরী। নামাজ ঘরও নেই স্কুলে!

তবে পড়ালেখার মান ভালো। এলাকাবাসীও  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ব্যাপারে  প্রসংশা করেছেন।

প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল হালিম প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়ে নানা রকম স্বপ্ন লালন করলেও তার সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছেন। তিনি বার বার ভবন বরাদ্দ পাওয়া ব্যাপারে নানা কথা বলেছেন ! আমিও  প্রধান শিক্ষকের সাথে একমত যে, একটা সুন্দর উর্ধ্বমূখী ভবন হলে বিদ্যালয়টি ভবিষ্যতে আরো ভালো কিছু করবে। পড়া লেখায় গতি আসবে।

এদিকে আমার মনে প্রশ্ন  দানা বেঁধেছে, রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার এই  ভালোমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি এতদিনেও অবকাঠামোগত সুবিধা কেন পায়নি ? কুমেদপুর ইউনিয়নে নেতার অভাব নেই , তারা কী  এদিকে তাকাননি ?

জানতে চাচ্ছি,  পীরগঞ্জের অনেক স্কুলেই কিন্তু   দৃষ্টিকাড়া উর্ধ্বমুখি ভবন হয়েছে, সেখানে বারুদহ বঞ্চিত কেন?

আমি যতদুর জানি, পীরগঞ্জের  এমপি মাননীয় স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী   পীরগঞ্জের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেহারা পাল্টে দিয়েছেন, অথচ এই প্রতিষ্ঠানটি কেন এখনো ভবন পেল না,  তা বুঝতে পারছি না! মনে হয় তাঁর কাছে  এ বিষয়ে কেউ উপস্থাপনই করেনি! হতে পারে –

আমি একজন সাংবাদিক হিসেবে, শুভাকাঙ্খী হিসেবে পীরগঞ্জের মাননীয় এম পি স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী মহোদয়কে সবিনয়ে অনুরোধ জানাবো, তাঁর হাতের ছোঁয়ায় যেন বারুদহ দ্বিমূখী উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রাণ ফিরে পায়।

আর একটা কথা,আমরা যদি গ্রামকে শহরের সুবিধা দিতে চাই, তাহলে পাকা রাস্তা, বিদ্যুৎ এর পাশাপাশি শিক্ষাকে যেমন গুরুত্ব দিতে হবে, তেমনি  অবকাঠামোগত সুবিধাও দিতে হবে। সেই সাথে শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডসহ নানা রকম প্রতিযোগীতা মূলক অনুষ্ঠানেরও  ব্যবস্থাও করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com