মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন  পীরগঞ্জ মাতৃসদন ক্লিনিকে প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যু, স্বজনদের আহাজারি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ইন্তেকাল করেছেন পীরগঞ্জে থমকে গেছে পৌরসভার  সড়কের উন্নয়নের কাজ!!-প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা এলাকাবাসীর পীরগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার স্বর্ণের হার ছিনতাইয়ের অভিযোগ ঘোড়া ঘাটে সড়ক দূর্ঘটনায় মা ও মেয়ে নিহত চালক আহত

আশার আলো দেখা দিয়েও ঘোর অন্ধকারে ফরিদের পরিবারে

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৮০৫ বার পঠিত

বজ্রকথা প্রতিবেদক।-  হাঁট-বাজারে কাঁচামাল বিক্রি করে ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়ে স্বপ্ন বুনেছিলেন বাবা এমদাদুল হক। স্বপ্ন ছিলো ছেলে বড় হয়ে শিক্ষিত হবে, চাকরি নিয়ে অসচ্ছল পরিবারের হাল ধরবে। স্বপ্নের শুরুটাও হয়েছিল বেশ। বড় ছেলে শেখ ফরিদ (২২) নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অফিস-সহকারী পদে চাকরি পায়। এতে তাঁর পরিবারে আশার আলো দেখা দেয়। মাস সাতেক যেতে না যেতেই সেই আশার আলো ঘোর অন্ধকারে পরিণত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ মসজিদ বিস্ফোরণের আগুনে পুড়ে ৬ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছে শেখ ফরিদ। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৫টায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইন্সটিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে। তাঁর অকাল মৃত্যুতে পরিবারের সব স্বপ্ন ভেঙে যেন চুরমার হয়ে গেছে। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের চরআলগী গ্রামের এমদাদুল হকের ছেলে শেখ ফরিদ। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার বড় সে। মাস সাতেক আগে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অফিস সহকারী পদে নিয়োগ পায় সে। নিয়োগ পেয়ে কর্মস্থলে থেকেই সে চাকরি করে আসছিল। গত ৪ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদে এশার নামাজ পড়তে গিয়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলে গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হয় সে। এতে তার শরীরের প্রায় সব টুকুই পুড়ে যায়। মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ণ ইন্সটিটিউটে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকালে মারা যায় সে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় পাকুন্দিয়া উপজেলার চরআলগী উত্তরপাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা ও সকাল ১০টায় চরপাড়াতলা ফকিরবাড়ী গ্রামে দ্বিতীয় জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। শেখ ফরিদের পিতা মো. এমদাদুল হক বলেন, ‘ভিটেমাটি আর থাকার মতো ভাঙাচোরা একটা ঘর ছাড়া কিছুই নেই। হাটের দিন বাজারে কাঁচামাল বিক্রি করে যা লাভ পাই, তা দিয়েই কোনো রকমে সংসার চলে। শেখ ফরিদ চাকরি পাওয়ায় অভাবের সংসারে আশার আলো দেখা দেয়। কিন্তু তাঁর অকাল মৃত্যুর সঙ্গে নিমিষেই সব স্বপ্ন ভেঙে গেল। ছোট-ছোট চার ছেলে-মেয়ে নিয়ে আবারও আমি অন্ধকারে পড়ে গেলাম।’ কথাগুলো বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। এসময় তিনি আরও বলেন, ‘শেখ ফরিদের অকালে যাওয়ায় যেমন কষ্ট সইতে পারছি না। অপরদিকে ছোট ছেলে-মেয়ে গুলোকে নিয়ে কিভাবে সামনের দিনগুলো কাটবে তা নিয়েও দুশ্চিতায় পড়েছি।’ এদিকে শেখ ফরিদের অকাল মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না তার সহপাঠীসহ ও স্থানীয়রা। তারা জানান, এখনকার সময়ে এমন ভালো ছেলে খুব কমই দেখা যায়। এতো ভালো ব্যবহার ছিলো তার সবাই মুগ্ধ হতো। তার সুরেলা আজান আর ধার্মিকতা এলাকাবাসী সব সময় স্মারন করবে। আল্লাহ যেন তাকে বেহেশত নসিব করেন। পাশাপাশি সরকার যেন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া শেখ ফরিদের অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ায়। পরিবারটিকে পর্যাপ্ত সাহায্য সহযোগিতা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি চেয়েছেন তারা। এ ব্যাপারে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.নাহিদ হাসানের বলেন, ডিসি স্যারের সঙ্গে কথা বলে নিহতের পরিবারকে সহযোগিতা করার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com