মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
বিরামপুরে মুখর পরিবেশে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পালিত পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন  পীরগঞ্জ মাতৃসদন ক্লিনিকে প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যু, স্বজনদের আহাজারি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ইন্তেকাল করেছেন পীরগঞ্জে থমকে গেছে পৌরসভার  সড়কের উন্নয়নের কাজ!!-প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা এলাকাবাসীর পীরগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার স্বর্ণের হার ছিনতাইয়ের অভিযোগ

পীরগঞ্জের শিক্ষা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চালচিত্র-২১

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৯৫ বার পঠিত

পীরগঞ্জের শিক্ষা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চালচিত্র-২১
: প্রাইমারী স্কুলগুলোতে পিয়ন কাম ঝাড়ুদার দরকার
বজ্রকথা প্রতিবেদক সুলতান আহমেদ সোনা।-সময়ের কথা সঠিক সময়ে বলতে হয়, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সঠিক সময়েই নেয়া উচিত।
এ কথা বলছি এই জন্য যে, ক’দিন আগে পীরগঞ্জ উপজেলার ১৪ নং চতরা ইউনিয়েনে যাওয়ার পথে একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উঠেছিলাম ।সেদিন যখন ওই স্কুল মাঠে গিয়ে উপস্থিত হই তখন ঘড়িতে সাড়ে ৯টা বাজে। সেখানে গিয়ে লক্ষ্য করলাম পতাকা তোলা হয়েছে পুবাল বাতাশে পতপত করে উড়ছে লাল সবুজের পতাকা। শিক্ষার্থীরা এসে গেছে, কেউ কেউ আসছে।
তারপর গুটি গুটি পা –এ এগিয়ে গিয়ে দেখলাম, এক শিক্ষিকা ও ২জন শিক্ষার্থী মিলে বারান্দা, শ্রেণি কক্ষ ঝাড়ু দিচ্ছেন।এ চিত্র দেখে পিছিয়ে এসে মাঠের মধ্যখানে জাম গাছের ছায়ায় দাড়ালাম। ভাবলাম, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পিয়ন বা ঝাড়ুদার নেই,বাধ্য হয়ে শিক্ষক শিক্ষার্থীরাই স্কুল মাঠ, অফিস, শ্রেণি কক্ষ ঝডু দিয়ে থাকেন। দিতেই পারেন ! কিন্তু বিষয়টিকে আপনি কোন দৃষ্টিতে দেখছেন, এ ব্যাপারে আপনাদের মন্তব্য আশা করছি।
তবে আমরা মনে করি, ইচ্ছে করলে সরকার, শিক্ষা বিভাগ সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন করে মহিলাকে এই কাজের জন্য নিয়োগ দিতে পারেন। তাতে দেশ জাতির অনেক ফায়দা হবে।
সেদিনের বিদ্যালয়টি ছিল ঘোনা চতরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি সুন্দর মনোরম পরিবেশ অবস্থিত। পীরগঞ্জ থেকে চতরা হাটে যাওয়ার পথে রাস্তা সংলগ্ন চাপুনদহ বিলের পশ্চিম পার্শ্বে বিদ্যালয়টির অবস্থান। এই বিদ্যালয়টি ১৯২০ সালে ব্রিটিশ আমলে ঘোনা চতরা মৌজায় গড়ে তোলা হয়েছিল। পরে সেখান থেকে বিদ্যালয়টি সরিয়ে, ধর্মদাসপুর মৌজায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কিন্তু সেই থেকে ঘোনা চতরা নামটি রয়ে গেছে।বিদ্যালয়টির নম্বর-১০০। জমিদাতার নাম ফজলাম রহমান প্রধান।
এই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন, মোছাঃ নিলুফার ইয়াসমিন । স্কুলটিতে শিক্ষকের পদ ৭টি। কর্মরত আছেন ৬জন , শুন্য পদ ১টি।
শিক্ষার্থী রয়েছেন শিশু শ্রেণিতে- ৩৭জন, প্রথম শ্রেণিতে –১৮জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে -২৭ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে-২৪জন,চতুর্থ শ্রেণিতে -২১ জন,পঞ্চম শ্রেণিতে-২৩ জন।
কর্মরত শিক্ষকরা হলেন-
১। প্রধান শিক্ষক নিলুফার ইয়াসমীন – এম এস সি
২। সহকারী শিক্ষক রোখসানা খাতুন- এম এসএস
৩।-সহকারী শিক্ষক হাবীল মার্ডি- এম এসসি
৪।সহকারী শিক্ষক নাসিমা খাতুন – এম এ
৫।সহকারী শিক্ষক শরমিন নাহার- এমএসসি
৬।সহকারী শিক্ষক শারমিন আক্তার – এম এ
স্কুলটির সাজানো গোছানো পরিবেশ,পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষকদের আন্তরিকতা দেখে মুগ্ধ হয়েছি। স্কুলটিতে সুন্দর একটা মাঠ রয়েছে।একটা ফুল বাগান রয়েছে, সীমানার মধ্যে অনেক গাছ রয়েছে কিন্তু দক্ষিন দিকে প্রাচীর না থাকায় এলাকার মানুষ স্কুলের মাঠটিকে গোচারণ ভুমি হিসেবে ব্যবহার করছে। মাঠটি বেশ নিচু তাই মাঠে মাটি দিতে হবে। স্কুলের গেটি সংষ্কার করতে হবে।
প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, তার প্রতিষ্ঠানের বড় সংকট হলো, রাতের বেলা স্কুলের সীমানায় মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। প্রায়ই ছোট খাটো চুরির ঘটনা ঘটে ।
শিক্ষকরা জানিয়েছেন, সম্প্রতিক সময়ে এই স্কুলের ৫০জন শিক্ষার্থী মাদ্রসায় আটকা পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ওই এলাকায় গড়ে উঠা মাদ্রাসাগুলো তাদের ছাত্র সংকট মেটাতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আটকাছে। বিষয়টি দেখা দরকার।
প্রধান শিক্ষক বজ্রকথাকে জানিয়েছেন, তারা সংকট মোকাবেলা করে স্কুলটিকে স্বপ্নের স্কুল হিসেবে গড়ে তুলতে চান। এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগীতা দরকার। আশা করা হচ্ছে কর্তৃপক্ষ সংকট মোকাবেলায় ব্যবস্থা নেবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com