বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৪ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পীরগঞ্জে মসজিদের ঢালাই কাজের উদ্বোধন বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে আমাদের ভাবনা বিরামপুরে মুখর পরিবেশে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পালিত পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন  পীরগঞ্জ মাতৃসদন ক্লিনিকে প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যু, স্বজনদের আহাজারি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ইন্তেকাল করেছেন

গাইবান্ধায় জন্মের পর থেকেই নীরবের বন্দিজীবন ‘ঘুমের ওষুধ দিয়ে বেঁধে রাখা হয় বিছানায়’

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২০
  • ৪৮৭ বার পঠিত

বজ্রকথা রিপোর্ট ।- খেয়ে না খেয়ে চিকিৎসা চালিয়েছি। এখন আর চিকিৎসা করানো সম্ভব নয়। সংসার চলে না। ছেলের কষ্টও আর সহ্য হয় না। ঘুমের ওষুধ ছাড়া সে কখনও রাতে ঘুমায় না। প্রতিদিন বিকেলে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর রাতে বিছানায় হাত-পা বেঁধে রাখা হয়। কারণ ঘুম থেকে উঠে সে যেন কারও ওপর আঘাত করতে না পারে। সমকালকে এসব কথা বলেন অসুস্থ শিশু নীরবের মা নাছরিন বেগম। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের পূর্ব কাতলামারী গ্রামের শরিফুল ইসলামের সন্তান নীরব (১০) জন্মের দু’দিন পর থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। তারপর থেকেই বন্দিজীবন কাটছে শিশুটির। ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি তার জন্ম হয়। প্রথমে তাকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। এ অবস্থায় স্ত্রী-সন্তানকে বাড়িতে নিয়ে যাননি শরিফুল ইসলাম। সেই থেকে নীরব নানার বাড়িতেই থাকে। পরে এক বছর বয়সেও সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না নীরব। তাকে নিয়ে মা নাছরিন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে জানতে পারেন বিভিন্ন সমস্যার কথা। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিয়মিত চিকিৎসা শুরু করেন। পারিবারের পক্ষ থেকে নীরবের চিকিৎসায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ করা হলেও মেলেনি সুস্থতা। এক বছর পর মাটি খুঁড়ে গর্ত করে নীরবকে সারাদিন সেখানে রাখতে শুরু করে পরিবার। যাতে সে হেলে না পড়ে। এভাবে বছর খানেক রাখার পর হাঁটতে শুরু করলেও কথা বলতে পারে না নীরব। ধীরে ধীরে কথা বলতে পারলেও ভালো-মন্দ বুঝতে পারে না। যখন যা মন চায় তাই করতে থাকে। শক্ত বস্তুতে নিজের মাথা ঠুকতে থাকে। এভাবে বছর দুই যেতে না যেতেই বেশি মানুষ দেখলেই নীরবের চোখে-মুখে হিং¯্রতা দেখা দেয়। কখনও কামড় দিতে আসে আবার কখনও মাথা দিয়ে আঘাত করতে আসে। সুযোগ পেলেই প্রতিবেশীর ক্ষতি করে। তখন তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখতে শুরু করে পরিবারের লোকজন। তবে গাছের সঙ্গে এক হাত বা এক পা বেঁধে রাখলে নিজের মাথা গাছের সঙ্গে ঠুকতে থাকে সে। তাই দুই হাত টানা দিয়ে বেঁধে রাখতে হয়। নীরবের নানা নজরুল ইসলাম বলেন, নীরবকে প্রতিদিন সকালে দুই হাত দড়ি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে রাখতে হয়। বেঁধে না রাখলে তার সমবয়সী শিশুদের মাথা দিয়ে আঘাত করে সে। অনেক সময় মাথাব্যথার কারণে সে নিজের মাথা ইট, পাথর অথবা গাছের সঙ্গে আঘাত করে। আমরা এখন কী করব ভেবে পাচ্ছি না। নীরবের নানি সুফিয়া বেগম বলেন, সহায়সম্বল সব বিক্রি করে নীরবের চিকিৎসা করেছি। এখন কীভাবে চিকিৎসা করাবো জানি না। বিনা চিকিৎসায় শিশুটি মারা যেতে পারে অথবা তার হাতে কেউ ক্ষতি প্রস্থ হতে পারে। তাকে নিয়ে আমরা সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকি। স্থানীয় ছালমা বেগম বলেন, অনেক কষ্ট লাগে যখন নীরব চিৎকার করে বলে, আমাকে ছেড়ে দাও খেলতে যাব। বিত্তবানরা তার পাশে দাঁড়ালে হয়তো ভালো হয়ে যেত। গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সোলায়মান আলী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নীরবের জন্য তেমন কিছু করার নেই। তবু চেষ্টা করব সহায়তা করার। গাইবান্ধা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক এমদাদুল হক প্রামাণিক বলেন, এ ধরনের অসুস্থদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com