বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পীরগঞ্জে মসজিদের ঢালাই কাজের উদ্বোধন বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে আমাদের ভাবনা বিরামপুরে মুখর পরিবেশে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পালিত পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন  পীরগঞ্জ মাতৃসদন ক্লিনিকে প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যু, স্বজনদের আহাজারি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ইন্তেকাল করেছেন

রংপুরে সনদ সত্যায়নে ভোগান্তির শিকার হাজারো শিক্ষার্থী

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২০
  • ৩০৯ বার পঠিত

রংপুর প্রতিনিধি।- রংপুরের মিলন আল মাহমুদ (ছন্ন নাম) স্নাতকোত্তর শেষ হয়েছে। চাকরি খুঁজছেন সরকারি- বেসরকারি যে কোনো ভালো চাকরির বিজ্ঞাপন দেখলেই আবেদন করেন তিনি। তবে আবেদন করতে কাল হয়ে দাড়ায় সনদ সত্যায়িতকরণ।
তিনি বলেন, প্রথম শ্রেণির কোনও সরকারি কর্মকর্তা আমায় ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না। ফলে প্রতিটি আবেদনের জন্য আমার ছবি বা কাগজপত্র সত্যায়িত করতে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয় । অনেক অনুরোধ করার পর কেউ কেউ সত্যায়িত করে দেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা বিরক্তি প্রকাশ করে অপমানজনক কথা শুনিয়ে দেন।
মিলন তাদের এ আচরণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। অবশেষে নিজেরটা নিজেই সত্যায়ন করেন। চাকরি বা যে কোনো আবেদনপত্রে সত্যায়িত চাওয়া হয়। কারণ আবেদনপত্রে দাখিল করা ডকুমেন্ট সত্যি কিনা অথবা আসল ডকুমেন্টের অনুলিপি কিনা, সেটা একজন সাইন করে সাক্ষ্য দেবেন। সাক্ষী এমন ব্যক্তি হবেন যার সাক্ষ্য বিশ্বাস করার যুক্তিযুক্ত কারণ আছে। এক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা এক্ষেত্রে অষ্টম গ্রেড থেকে তদূর্ধ্ব, বিশেষ ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য, মেয়র বা স্থানীয় সরকারের চেয়ারম্যান বা ভাইস চেয়ারম্যান, সরকারি অধ্যক্ষ, পত্রিকার সম্পাদকসহ কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সত্যায়নের এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে।
রংপুরে হাজারো চাকরি প্রার্থী রয়েছে যারা প্রতিদিন চাকরির আবেদন করার জন্য ছবি ও কাগজপত্র সত্যায়িত করেতে ছোটেন সরকার নির্ধারিত প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের পেছনে। শিকার হন সীমাহীন দুর্ভোগের। শুধু চাকরিই নয়, শিশু থেকে বয়স্ক পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় সব নাগরিককে লেখাপড়া, পাসপোর্ট আবেদন, বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা নেওয়ার জন্য ছবি, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদসহ বিভিন্ন কাগজপত্র বাধ্যতামূলক সত্যায়িত করতে হয়।
সরকার নির্ধারিত প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার কাছে সত্যায়িত করতে গেলে ওই কর্মকর্তা ম্যানেজ করতে পরা রীতিমতো ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিতে হয়। এ সময় সরকারি ওই কর্মকর্তার কটু কথা বা বাজে আচরণও হজম করতে হয়। এসব ঝামেলা এড়াতে বাধ্য হয়ে অনেকেই ভুয়া সত্যায়িত সিলমোহর বানিয়ে জাল সই দিয়ে নিজের সত্যায়িত নিজেই করেন।

ভুয়া সত্যায়ন ও সই জাল করার বিষয়ে আসাদুজ্জামান নয়ন নামের একজন দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সম্প্রতি একটি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে আবেদনের জন্য স্থবি ও কাগজপত্র সত্যায়িত করতে গিয়ে একটি কলেজের শিক্ষকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। আমাকে কেউ চেনেন না বলে সত্যায়িত করাতে পারিনি। পরে বাধ্য হয়ে একটি ভুয়া সিল বানিয়েছি।

তিনি জানান, রংপুর নগরীর পায়রা চত্বর, কাচারী বাজার, লালবাগ, কলেজ রোড, মর্ডাণ মোড়, পার্কের মোড়, চকবাজার, দর্শনা, মেডিকেল মোড়ের যে কোন সিলপ্যাড তৈরির দোকানে এসব ভুয়া সিল ৩০/৫০ টাকার বিনিময়ে তৈরি করা হয়।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিএসের একজন শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, অপরিচিত কারও ছবি বা কাগজপত্র সত্যায়িত করার নিয়ম নেই। এ ক্ষেত্রে মূল কাগজপত্র উপস্থাপন করলেও ওই ব্যক্তি সম্পর্কে ভারোভাবে অবগত না হয়ে সত্যায়িত করাটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ ওই ব্যক্তি যদি সত্যায়িত করা কাগজপত্র নিয়ে কোনো রকম জালিয়াতির আশ্রয় নেন এবং তা নিয়ে যদি বড় ধরনের কোনের বিপত্তির সৃষ্টি হয় তাহলে এর দায়ভার সম্পূর্ণই এসে পড়বে আমাদের (সংশ্লিষ্ট ক্যাডার) ওপর। তাই ঝামেলা এড়াতে সত্যায়িত এর ব্যাপারে আমরা একটু সচেতন থাকি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com