বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পীরগঞ্জে মসজিদের ঢালাই কাজের উদ্বোধন বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে আমাদের ভাবনা বিরামপুরে মুখর পরিবেশে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পালিত পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন  পীরগঞ্জ মাতৃসদন ক্লিনিকে প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যু, স্বজনদের আহাজারি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ইন্তেকাল করেছেন

আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : সোমবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৩৮৯ বার পঠিত

– সুলতান আহমেদ সোনা

আজ ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। আজ সারা দেশে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করা হচ্ছে। আমরাও এই দিনে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সেই সব শহীদদের, যারা ১৯৭১ সালে পাক বাহিনী, রাজাকার আল বদর, আল শামস বাহিনীর হাতে হত্যার শিকার হয়েছেন। তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

আমরা সবাই জানি ১৯৭১ সালে এই দেশে মহান মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। এ যুদ্ধ স্থায়ী হয়েছিল নয় মাস। সেই যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল পাকিস্তানের দখলদার হানাদার বাহিনীর সাথে এদেশের অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধাদের। সেদিন এদেশের মুক্তিযোদ্ধারা জীবনবাজি রেখে বীরদর্পে যুদ্ধ করে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিল। আমরা এও জানি একাতুত্তের মার্চ মাসে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বাংলার অবিসম্বাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তারপর ৯ মাস যুদ্ধ শেষে ডিসেম্বর সাসের ১৬ তারিখে চুড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়; সে কারনে ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস। এর মধ্যে ১৪ ডিসেম্বর তারিখকে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে বাংলাদেশে পালন করা হয়ে থাকে। এই দিনটিকে বিশেষ দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

১৯৭১ সালের ১০ থেকে ১৪ ডিসেম্বর চুড়ান্ত বিজয় অর্জনের আগমুহুর্তে,পরাজিত পাক বাহিনী এবং তাদের দোসররা এদেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যার পথ বেছে নিয়েছিল। এই সময়ের মধ্যে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী বাংলাদেশের প্রথম সারির, শ্রেণীর বুদ্ধিজীবীদেরকে হত্যা করে ছিল। এই হত্যাকান্ডের সহযোগী ছিল রাজাকার, আল বদর, আল শামস বাহিনীর সদস্যরা। ওই সময়ে চূড়ান্ত বিজয়ের প্রাক্কালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পরিকল্পনা আর এদেশের বারাঙ্গনার সন্তান রাজাকার,আল বদর,আল শামস বাহিনীর করা তালিকায় অনুযায়ী বাংলা মায়ের যোগ্যসন্তান অসংখ্য শিক্ষাবিদ, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যিকদের হত্যা করে। সেদিন সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করতে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাযজ্ঞ সংগঠিত হয়। বুদ্ধিজীবীদের বাড়ি থেকে চোখ বেঁধে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। শুধু যে ১৪ ডিসেম্বরেরই বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছে তা নয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে এ দেশে গণহত্যায় মেতেছিল পাকিস্তানের বর্বর বাহিনী। তারা নির্বিচারে সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে। বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করেছে, মহিলাদের ক্যাম্পে ধর নিয়ে গিয়ে সম্ভ্রম লুটে নিয়েছে, অনেককে হত্যা করা হয়েছে। শুধু তাই নয় যেখনেই, স্বাধীনতাকামি, মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক, দেশ প্রেমিক ছাত্র, শিক্ষক, আইনজীবী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সাংবাদিক, আওমীলীগনেতা, বঙ্গবন্ধুর ভক্ত পাওয়া যেত তাদেরকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করে মরে ফেলা হয়েছে। বাংলাদেশের মাহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ প্রাণদিয়েছে। দুইলাখ মা- বোন সম্ভ্রম হারিয়েছে। অনেকের লেখা থেকে জানা যায়,পাক বাহিনীর দোসররা যাদের ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছে তাদের অনেকের দেহে আঘাতের চিহ্ন ছিল। চোখ, হাত-পা বাঁধা, কারো কারো শরীরে একাধিক গুলি, অনেককে হত্যা করা হয়েছিল ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে। যা থেকে হত্যার পূর্বে তাদের নির্যাতন করা হয়েছিল সে তথ্যও বের হয়ে এসেছে। বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ এই দিনকে ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। যা আমরা আজ পালন করছি। এ প্রজন্মের সন্তানরা জানতে চান, আসলে কতজন বুদ্ধিজীবী শহীদ হয়েছিলেন ?

এ বিষয়ে বলছি, ১৯৭১ সালের ২৭ ডিসেম্বর দৈনিক আজাদের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল,বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের হত্যার পরিকল্পনাটি পূর্বেই করা হয় আর এতে সহায়তা করে জামায়াতে ইসলামী ও এর ছাত্র সংগঠন ছাত্রসংঘ। এ হত্যাকান্ডে সবচেয়ে সক্রিয় ছিলেন ব্রি. জে. আসলাম, ক্যাপ্টেন তারেক, কর্ণেল তাজ, কর্ণেল তাহের, ভিসি প্রফেসর ডঃ সৈয়দ সাজ্জাদ হোসইন, ডঃ মোহর আলী, আল বদরের এবিএম খালেক মজুমদার, আশরাফুজ্জামান ও চৌধুরী মাইনুদ্দিন এদের নেতৃত্ব দেয় মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী।

একাত্তরে গঠিত বুদ্ধিজীবী তদন্ত কমিটির প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছিল রাও ফরমান আলী এদেশের ২০ হাজার বুদ্ধিজীবীকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু এই পরিকল্পনা মতো হত্যাযজ্ঞ চলেনি। কারণ ফরমান আলীর লক্ষ্য ছিল শীর্ষ বুদ্ধিজীবীদেরকে গভর্নর হাউজে নিমন্ত্রণ করে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা। বুদ্ধিজীবী তদন্ত কমিটির প্রধান জহির রায়হান বলেছিলেন, ‘এরা নির্ভুলভাবে বাংলাদেশের গণতন্ত্রমনষ্ক বুদ্ধিজীবীদেরকে বাছাই করে আঘাত হেনেছে’। তবে ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি জহির রায়হান নিখোঁজ হন। তবে ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে জাতীয়ভাবে প্রকাশিত বুদ্ধিজীবী দিবসের সংকলন ও পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদসহ নানা তথ্যে শহীদ বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা মোট ১ হাজার ৭০ জন উল্লেখ করা হয়েছে। দুঃখের বিষয় আমাদের দেশে যে সব বুদ্ধিজীবীদেরকে হত্যা করা হয়েছে তাদেরকে ঘাতকরা হত্যার পর গণকবর দিয়েছে। কোথাও কোথাও নালা ডোবায় তাদের লাশ ফেলে দিয়েছে। পরবর্তীতে ঢাকার মিরপুর, রায়েরবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে গণকবরে তাদের মৃতদেহ পাওয়া যায়। ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পর নিকট আত্মীয়রা মিরপুর ও রাজারবাগ বধ্যভূমিতে স্বজনের মৃতদেহ সনাক্ত করেন। আজকে যে কথাটি বলতে চাই তা হলো, সেই খুনি একাত্তরের পরাজিত শত্রুরা কিন্তু এখনো রয়েগেছে। তাদের ষড়যন্ত্র বন্ধ হয়নি। তারা সুযোগ ফেলে ফণা তুলে ছোবল মারবে। অতএব মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, জাতির পিতার আদর্শের সৈনিকদের সতর্ক থাকতে হবে। সেই সাথে এ প্রজন্মের সন্তানদের কাছে মুক্তি সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ, এখনপর্যন্ত আসা ঘাত প্রতিঘাতের ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। শহীদদের আত্মত্যাগ ও দেশ প্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত করতে হবে আমাদের প্রজন্মকে। জাতীয় দিবস ও বিশেষ দিবসগুলো সবাই মিলে পালন করার কথা বলছি। জয় বাংলা -।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com