বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পীরগঞ্জে মসজিদের ঢালাই কাজের উদ্বোধন বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে আমাদের ভাবনা বিরামপুরে মুখর পরিবেশে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পালিত পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন  পীরগঞ্জ মাতৃসদন ক্লিনিকে প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যু, স্বজনদের আহাজারি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ইন্তেকাল করেছেন

একজন গুণী মানুষের  কথা বলছি

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৩
  • ৫০৭ বার পঠিত

সুলতান আহমেদ সোনা।– উপজেলা পীরগঞ্জ, রংপুর জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানকার মাটি বেশ উর্বর, মানুষ বেশ সহজ সরল, পরিশ্রমি। এখানকার ৯০ভাগ মানুষ বাস করেন গ্রামে।

পীরগঞ্জের গ্রামগুলো খুব সুন্দর।গাছ গাছালি,ক্ষেত, ফসলের পাথার, ঝোপ , ঝাড় সব মিলে খুবই সুন্দর। দেখতে ঠিক ছবির মত!

এখানকার মানুষ  কথা বর্তা চাল চলন আচার আচরণে অনেকটা ব্যাতিক্রম। এখানে ভালো মানুষের সংখ্যা বেশী। জ্ঞানি গুণী শিক্ষিত সমাজ সেবক রয়েছেন অনেক। তাই আমার উপজেলাকে আমি খুব ভালোবাসি, আমাদের এলাকাকে নিয়ে গর্ব করি।

আজ অন্য কোন বিষয় নিয়ে লিখতে বসিনি, আজ আমি এই উপজেলার ৬নং টুকুরিয়া ইউনিয়নের গন্ধর্ব্বপুর গ্রামের একজন গুণী মানুষের কথা লিখতে বসেছি।

অনেকের মত আমিও মনে করি প্রজন্মের কাছে আমাদের গুণীজন কথা বলা দরকার। তাদের অবদান, কৃতিত্বের ছবি অঙ্কন করা দরকার।  আমি কথা দিচ্ছি এখন থেকে নিয়মিত গুণী মানুষদের কথা লিখবো। হ্যা আজ যাকে নিয়ে লিখছি , তিনি ব্রিটিশ যুগে জন্মগ্রহন করে ছিলেন।  তিনি টুকুরিয়া ইউনিয়নের গন্ধর্ব্বপুর গ্রামে কখন কোন তারিখে জন্মগ্রহন করেছিলেন সেই তারিখটা  জানতে পারি নাই  বলে আপনাদেরকে জানাতে পারছি না, সে কারনে আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। তবে আমরা জেনেছি   যার ছবি দেখছেন তাঁর নাম জলিলুর রহমান তালুকদার।

তিনি ওই গ্রামের বিশিষ্ঠ জোতদার,১২ তালুকের মালিক আলহাজ্ব আব্দুল আজিজ তালুকদার, মাতা জমিলা বেগম এর পুত্র। জানা গেছে, জলিলুর রহমান তালুকদার ৪ ভাই ৫ বোনের মধ্যে   জ্যেষ্ঠ ছিলেন।

জলিলুর রহমান তালুকদার সাহেব একজন গুণীমুনষ,সমাজ সেবক ছিলেন। তিনি  পীরগঞ্জের ৩টি  আলোচিত  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক হিসেবে এই অঞ্চলের শিক্ষা বিস্তারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন; শিক্ষা বিস্তারের ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন ।

তিনি যে সব  প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রধান শিক্ষক ছিলেন সেই প্রতিষ্ঠান ৩টি হলো, ৫নং মদনখালি ইউনিয়নের কাদিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়, ২নং ভেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের ভেন্ডাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় এবং  পীরগঞ্জ বন্দরের কসিমন নেছা বালিকা বিদ্যালয়।

জলিলুর রহমান তালুকদার বুনিয়াদি ও স্বচ্ছল পরিবারে জন্মগ্রহন করেছিলেন। তিনি পিতা মাতার বড় আদরের সন্তান ছিলেন। তিনি শিশুকাল থেকে নানা ক্ষেত্রে মেধার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি গ্রামের পাঠশালায় প্রাথমিক শিক্ষাগ্রহন করলেও রংপুর  জিলা স্কুল থেকে ১৯৩৮ সালে প্রথম বিভাগে  মেট্রিকপাশ করেন। রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে ১৯৪০ সালে প্রথম বিভাগে ইন্টারমেডিয়েট পাশ করেন।১৯৪২ সালে ইউনিভার্সিটি অব কলিকাতা থেকে প্রথম বিভাগে বিএ পাশ করেন।

জলিলুর  রহমান তালুকদার সাহেবের কর্মময় জীবন বেশ বর্ণাঢ্য। লেখা পড়া শেষ হলে তিনি প্রথমে  ব্রিটিশ সেনা বাহিনীতে লেফটেনেন্ট পদে যোগদান করেছিলেন। পরে সেনা বাহিনীর চাকুরী ছেড়ে ফুড ডিপার্টমেন্টে যোগদান করেন কিন্তু  পিতা  তালুকদার আব্দুল আজিজ চেয়ে ছিলেন,চাকুরী বাদ দিয়ে তার সন্তান মদনখালি ইউনিয়নের কাদিরাবাদে  তার প্রতিষ্ঠা করা স্কুলে প্রধান শিক্ষক  হিসেবে যোগদান করুক। যে কথা সেই কাজ, শিক্ষকতা সম্মানজনক পেশা এই ভেবে পিতার আদেশ অমান্য করতে পারেননি জলিলুর  রহমান তালুকদার। বাধ্যহয়ে  চাকুরী ছেড়ে তিনি স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কাদিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। পরে ভেন্ডাবাড়ী এলাকায় নতুন স্কুল প্রতিষ্ঠা হলে কাদিরাবাদ থেকে ভেন্ডাবাড়ীতে গিয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।

এদিকে পীরগঞ্জ থানা সদরে নারী শিক্ষা বিস্তারের স্বার্থে বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হলে প্রধান শিক্ষক হবার মত শিক্ষিত লোক তেমন না থাকায় তাকে অনুরোধ করে ১৯৬৫ সালের ৩১ মার্চ তারিখে প্রধান শিক্ষকের চেয়ার বসানো হয়। অবশ্য এই বিদ্যালয়ের দায়িত্বে তিনি বেশীদিন ছিলেন না ৩০ জানুয়ারী ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্বরত ছিলেন কসিমন নেছা বালিকা বিদ্যালয়ে। পরে সন্তানদের লেখা পড়ার কথা ভেবে, স্ত্রী সিদ্দিকা বেগমকে নিয়ে  রংপুরের কামাল কাছনায় বসত গড়েন। তালুকদার সাহেব রংপুরে বসবাস শুরু করলেও নিজ গ্রাম, গ্রামের সাধারণ মানুষদের কথা ভুলে যাননি। তাই গ্রামের মানুষের আহবানে সাড়া দিয়ে পঞ্চায়েত প্রধান বা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে ইউনিয়ন পরিষদেও চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

জলিলুর রহমান তালুকদার ব্যক্তি জীবনে খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। তিনি ৬ পুত্র ৪ কন্যা রেখে ২০০১ সালে আগষ্ট মাসের ৭ তারিখে ইন্তেকাল করেন। আমরা তার আত্মার মাগেফেরাত কামনা করছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com