বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
ক্রয়কৃত জমি দখল, স্থাপনা ধ্বংস করে চাষাবাদ। তিন প্রতিবন্ধির জীবন বিপন্ন, পরিবারকে জীবননাশের হুমকী  পীরগঞ্জে বৃষ্টির অভাবে আমন ক্ষেতে ফাটল; ফলন নিয়ে শঙ্কায় কৃষক বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পীরগঞ্জে মসজিদের ঢালাই কাজের উদ্বোধন বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে আমাদের ভাবনা বিরামপুরে মুখর পরিবেশে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পালিত পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন 

এখন কবরপানে চেয়ে দিন কাটান শহীদ শাকিনুরের মা

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : শনিবার, ১২ জুলাই, ২০২৫
  • ১৪৯ বার পঠিত

পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) থেকে বজ্রকথা প্রতিনিধি রুবেল ইসলাম।- বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে করতোয়া নদী। তীরে বসে সুঁই-সুতা হাতে নকশিকাঁথা সেলাই করছেন মাঝ বয়সী এক নারী। মাঝে-মাঝে ফ্যাল-ফ্যাল করে তাকাচ্ছিলেন নদীর ওপারে। সেখানে চিরনিন্দ্রায় শায়িত আছেন তার বুকের ধন জুলাই যোদ্ধা শাকিনুর রহমান।
১১ জুলাই/২৫খ্রি:শুক্রবার দুপুরে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের কিশোরগাড়ী সুলতানপুর বালুপাড়ায় গিয়ে এভাবেই বসে থাকতে দেখা যায় শাকিনুরের মা অফিজা বেগমকে।          কাছে গিয়ে কথা বলতেই যেন দেহে প্রাণ ফিরে পান তিনি। ছেলের কথা বলতেই চোখ থেকে অঝোরে পানি ঝরতে থাকে  তার।
চোখ মুছতে-মুছতে ছেলের স্মৃতিচারণ করে অফিজা বেগম বলেন, ছেলেকে হারানোর এক বছর হয়ে যাচ্ছে। বাড়িতে মন টেকে না।  কাজের ছলে বাড়ির সামনে নদীর তীরে বসে-দাঁড়িয়ে শাকিনুরের কবরের দিকে চেয়ে শান্তি খোঁজেন তিনি।
কখনো শাকিনুরের শোবার ঘর-বিছানায় বসে-শুয়ে স্মৃতি হাতড়ান। ছেলের ছবি বুকে নিয়ে সময় কাটান। ছেলের কাপড়-চোপড় স্পর্শ করে কেঁদে মন হালকা করেন তিনি।
শাকিনুরের মা বলেন, জামিলাকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় ঈদ এলে। সে কারো দেওয়া জামা পছন্দ করে না। শুধু বলে শাকিনুর ভাই আমার জন্য ঈদের জামা নিয়ে আসবে।  ছেলেকে নিয়ে দেখা স্বপ্ন সম্পর্কে তিনি বলেন, শাকিনুরকে ঘিরেই তাদের সব আশা ছিল। ছেলে নিয়মিত ফোন দিত, বাবা-মায়ের খোঁজ খবর নিত। ভাই-বোনদের লেখা-পড়ার খরচসহ বিয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে নিষেধ করত।
কৃষক বাবা জালিম মিয়া বলেন, পরিবারের অর্থিক অনটনের কারণে স্ত্রী শারমিন ও কোলের শিশু সন্তান সহিবকে নিয়ে জীবিকার উদ্দ্যশ্যে ঢাকায় পাড়ি জমিয়েছিল শাকিনুর। সেখানে আশুলিয়া থানার ভাদাইল এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে গার্মেন্টসে কাজ করত শাকিনুর। এর মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে সারাদেশ।
গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন ঢাকার আশুলিয়া বাইপাইল এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।সেখানে শাকিনুরও আন্দোলনে অংশ নেয়। ওই সময় আন্দোলন দমাতে পুলিশ নির্বিচারে গুলি ছুড়তে থাকে। পুলিশের একটি গুলি শাকিনুরের পিঠ ভেদ করে বুক দিয়ে বেরিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই শাকিনুরের মৃত্যু হয়।
তিনি আরও বলেন, শাকিনুর ছিল তিন ছেলের মধ্যে দ্বিতীয়। বড় ছেলে শাহ কামাল মানসিক ভারসাম্যহীন, ছোট ছেলে শাহ জামাল পড়াশোনা করছে। দুই মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে, ছোটটি মাদরাসায় প্রথম শ্রেণিতে পড়ে।
সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার বিষয়ে জালিম মিয়ার দাবি, এ পর্যন্ত তারা ১৩ লক্ষাধিক টাকা অনুদান পেয়েছে শাকিনুরের পরিবার। এর মধ্যে যে গার্মেন্টসে শাকিনুর কাজ করতেন, সেখান থেকে দুই লাখ, একটি ফাউন্ডেশন থেকে এক লাখ, গাইবান্ধা জেলা পরিষদ থেকে দুই লাখ, রংপুর শিল্পকলা একাডেমি থেকে পাঁচ লাখ এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে পেয়েছেন তিন লাখ টাকা। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে এককালীন ৩০ লাখ টাকা দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, ১৩ লক্ষাধিক টাকার মধ্যে তিনি পেয়েছেন এক লাখ টাকা। বাকি টাকা পেয়েছেন শাকিনুরের স্ত্রী। আর যে ৩০ লাখ টাকা পাওয়ার কথা, তার থেকে শাকিনুরের স্ত্রী-সন্তানের পাশাপাশি বাবা-মাকেও একটি অংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com