বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
ক্রয়কৃত জমি দখল, স্থাপনা ধ্বংস করে চাষাবাদ। তিন প্রতিবন্ধির জীবন বিপন্ন, পরিবারকে জীবননাশের হুমকী  পীরগঞ্জে বৃষ্টির অভাবে আমন ক্ষেতে ফাটল; ফলন নিয়ে শঙ্কায় কৃষক বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পীরগঞ্জে মসজিদের ঢালাই কাজের উদ্বোধন বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে আমাদের ভাবনা বিরামপুরে মুখর পরিবেশে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পালিত পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন 

গল্প-বিচ্ছেদ

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১৮৮ বার পঠিত

বিচ্ছেদ ( একটি কাল্পনিক গল্প )”
ইমুতয়াজ হোসেন

‎বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে, বৃষ্টি সানিয়ার খুব পছন্দ। বৃষ্টির সময় প্রায় বলতো বাবা বৃষ্টিতে গোসল করবো। কিন্তু, রাজু কখনও তাকে গোসল করতে দিতেন না। বাচ্চা একটা মেয়ে যদি জ্বর আসে, যদি কিছু হয় তাহলে রাজু তো মরেই যাবে।
‎সানিয়া কে সব সময় চোখে চোখে রাখতো রাজু। তার কেন জানি সবসময় ভয় হতো যদি কিছু হয় তার। যদিও সানিয়া ক্লাস ওয়ান এ পড়ত। কিন্তু তবু রাজুর সবসময় সানিয়াকে নিয়ে দুশ্চিন্তা হতো। মা মরা একটা মেয়ে। মায়ের আদর যত্ন তো কিছুই পায়নি। তাই, ছোট থেকেই সানিয়াকে কাঁদতে দেখলে রাজু খুব অস্থির হয়ে যেতো ।
‎জন্মের সময় সানিয়ার মা মরা যায়। এরপর রাজু আর বিয়া করেননি। নতুন স্ত্রীর সানিয়ার সাথে হয়তো বনিবনা হবে না এই ভেবে আর বিয়া করার সাহস হয়নি রাজুর। সানিয়া বেশিরভাগ সময় তার দাদির সাথেই থাকতো। সানিয়াকে রাজু অনেক ভালোবাসে। মেয়েটা যেদিন মন খারাপ করে থাকতো, রাজুর সেদিন আর কিছু করতে ইচ্ছা করতো না। খুব অস্থির লাগতো। দেখতে অসম্ভব সুন্দর হয়েছিল সানিয়া। সারাদিন মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করতো রাজুর। মেয়েটাকে বড্ড ভালোবাসতো রাজু। সানিয়াও কম না, রাতে বাবার কাছে ছাড়া কিছুতেই ভাত খেত না। বাবাকেই ঘুম পাড়িয়ে দিতে হতো।
‎জুলাই মাসের কথা অফিসের চাপ খুব বেড়ে গিয়েছিল রাজুর। মেয়েটার সাথে আর সেভাবে কথাই হয় না। মেয়েটা প্রতিদিন রাজুকে চিঠি লিখে তার টেবিলের উপর রেখে ঘুমাতো। চিঠিতে সে বাবার কাছে বাহিরে ঘুরতে যাওয়ার আবদার করতো। রাজুর কোনো কোনো দিন চিঠি খুলে দেখারও সময় হতো না। অফিস থেকে ফিরে শুধু ঘুমন্ত পরীর থেকেও সুন্দর মুখটা দেখতো। কাজের খুব চাপ। ‎২০ জুলাই রাতের কথা রাজুর ফোনে কল দিয়ে সানিয়া অনেক আবদার করলো তাড়াতাড়ি বাসায় ফেরার জন্য, বাসায় ফিরে তার সাথে একটু ঘুরতে যেতে হবে। রাজু কথা দিয়েও তাড়াতাড়ি ফিরতে পারলো না। ২১ জুলাই ২ টার রাজু তার মেয়ের কলেজে বিমান দূর্ঘটনার খবর দেখে। রাজু এমনিতে সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করে না। কিন্তু, সেদিন অফিসে জায়নামাজ নিয়ে বসলো। সে মনে মনে প্রার্থনা করলো যেন তার মেয়ের সাথে কথা বলার সুযোগ হয়।

‎মেয়েটার সাথে ঠিকই কথা হলো রাজুর। পুরো শরীর তার পুড়ে গেছে। মেয়ের অবস্থা দেখে পরক্ষণেই রাজু তার মেয়ের মৃত্যুর জন্য দোয়া করলো। সানিয়ার এত কষ্ট সে সহ্য করতে পারছিল না। সন্ধ্যার সময় তার মেয়ের মৃত্যুর খবর পেলো। মৃত্যুর খবরে যেন কিছুটা শান্তি পেল রাজু। কিন্তু, পরক্ষণেই আবার চাপা কষ্ট শুরু হলো ।

রাজু চাকরি করে না আর। সে এখন বিভিন্ন স্কুলে ঘুরে ঘুরে বেড়ায়, গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছোট শিশুদের স্কুল থেকে বের হতে দেখে। এরপর সে সারাদিন পার্কে বসে থাকে। হঠাৎ বসে থাকতে থাকতে কোনসময় একটা আনন্দমাখা কল্পনা মাথায় চলে আসে, সানিয়া বাদাম খাচ্ছে আর সে খোসা ছাড়িয়ে দিচ্ছে। সানিয়া বলছে, বাবা তোমার আর রাঙামাটি যাওয়া হবে না।এখন থেকে আমার সাথে থাকবা।

‎এই পৃথিবীতে এই অসম্ভব সুখের স্মৃতির আর পুনরাবৃত্তি হবে না। তার পরীর মত সুন্দরী মেয়েটার কথা শুনতে পাবে না। নিজের অজান্তেই চোখে পানি চলে আসে রাজুর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com