বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পীরগঞ্জে মসজিদের ঢালাই কাজের উদ্বোধন বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে আমাদের ভাবনা বিরামপুরে মুখর পরিবেশে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পালিত পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন  পীরগঞ্জ মাতৃসদন ক্লিনিকে প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যু, স্বজনদের আহাজারি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ইন্তেকাল করেছেন

পীরগঞ্জে ভিডব্লিউবি কার্ড নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ বিষয়টি দেখা দরকার

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫৭ বার পঠিত
পীরগঞ্জে ভিডব্লিউবি কার্ড নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ
৬০ কার্ডধারী জানেনই না তাদের নামে কার্ড ও চাল বরাদ্দ, ইউপি সদস্যর হাতে কার্ড
পীরগঞ্জ (রংপুর) বজ্রকথা প্রতিনিধি ।- রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ৭ নম্বর বড় আলমপুর ইউনিয়নে দুঃস্থ মহিলাদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিডব্লিউবি (ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট) কর্মসূচির চাল বিতরণে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়নে ১৭৫ জন উপকারভোগী কার্ডের মধ্যে প্রায় ৬০ জন কার্ডধারী জানেনই না যে, তাদের নামে কার্ড বরাদ্দ হয়েছে এবং সেই কার্ডের বিপরীতে চাল উত্তোলন করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত ২০২৫ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত নিয়মিতভাবে এসব অনিয়ম চলে আসছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসক, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও ইউপি সদস্যদের যোগসাজশে কার্ডগুলো প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে না দিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি সদস্যদের কাছে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়নবাসী জানান, অধিকাংশ কার্ডে নাম-ঠিকানা নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে। কোথাও নাম ঠিক থাকলেও স্বামীর নাম ভুল, আবার কোথাও নাম ঠিক থাকলেও গ্রামের নাম ভিন্ন দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রকৃত উপকারভোগীরা সরকারি বরাদ্দের চাল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
গত শনি ও রবিবার সরেজমিনে গিয়ে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের সময় কয়েকজন উপকারভোগীর সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠে।
খষ্টি গ্রামের আলতাফ আলীর স্ত্রী গোলাপি বেগমের নামে কার্ড থাকলেও তার কার্ড রয়েছে ইউপি সদস্য শাহীন মিয়ার কাছে  রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেণ গোলাপী। গোলাপি বেগম বলেন, “৩০ কেজি চাল দেওয়ার শুরুতে দুইবার পেয়েছি। এরপর থেকেই আমার কার্ড মেম্বারের বাড়িতে রয়েছে।”
একই গ্রামের রামনাথ কুমার রায়ের স্ত্রী ববিতা রানী ও বিশু চন্দ্রের স্ত্রী তৃপ্তি রানীর নাম উপকারভোগীর তালিকায় থাকলেও তারা চা্উল পাননি। ববিতা রানী ও তৃপ্তি রানী জানিয়েছেন, তাদের নামে কার্ড হয়েছে—এমন তথ্য তারা প্রথমবারের মতো জানতে পেরেছেন। ছোট রসুলপুর গ্রামের নায়েবুল ইসলামের স্ত্রী আচমা বেগম বলেন, “আমার নামে কার্ড আছে, কিন্তু আমি চাল পাই না।”
এদিকে, নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান সেলিম বিষয়টি প্রত্যক্ষ করে জানান, প্রায় ৬০ জন উপকারভোগীর কার্ড তাদের হাতে নেই। এসব কার্ড সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি সদস্যদের কাছে রয়েছে বলে তিনিও দাবি করেন।
অভিযোগ রয়েছে, শুরুতেই কার্ডগুলো সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এর ফলে প্রকৃত উপকারভোগীদের বাদ দিয়ে নিয়মিতভাবে বরাদ্দের চাল উত্তোলন ও ভাগাভাগি করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মল্লিকা পারভীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই।”
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন; ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা তালিকা দেওয়ার পর চুড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার মাধ্যমে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান মোবাইল ফোনে বলেন, “অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com