বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৪ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পীরগঞ্জে মসজিদের ঢালাই কাজের উদ্বোধন বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে আমাদের ভাবনা বিরামপুরে মুখর পরিবেশে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পালিত পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন  পীরগঞ্জ মাতৃসদন ক্লিনিকে প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যু, স্বজনদের আহাজারি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ইন্তেকাল করেছেন

বগুড়া জেলা ভূমি অধিগ্রহন শাখায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৯৭৬ বার পঠিত

বগুড়া থেকে উত্তম সরকার।- ভূমি সংক্রান্ত কার্যক্রমে অনিয়ম দূূর্নীতি নতুন কোন ঘটনা নয়। তবে এবারে নতুনমাত্রায় যোগ হয়েছে কমিশন! বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এক্ষেত্রে মহাসড়কের পাশের অধিবাসীদের কাছ থেকে ভূমি অধিগ্রহন করছে সরকার। অধিগ্রহন নীতিমালার তোয়াক্কা না করেই ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের শেরপুরের ভূমি অধিগ্রহন কার্যক্রম। স্থাপনা ও জায়গা ক্ষতিপূরনের অর্থপ্রাপ্তি নিয়ে বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুরের কিছু ভূমি মালিকদের নানা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
মহাসড়কের অধিগ্রহন কাজে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট কতিপয় কর্মকর্তার দৃশ্যমান দুর্নীতিকে জড়িয়ে পরেছে। মহাসড়কের ভূমি অধিগ্রহনে আওতায় পরা সকল ভুক্তভোগীদের গুনতে হচ্ছে (% পার্সেন্টেজ) কমিশন! অধিগ্রহনকৃত ভূমির ক্ষতিপূরনের টাকা পেতে শতকরা দশ থেকে পনের টাকা ঘুষ দিতে হচ্ছে অধিগ্রহন শাখায়। কিছু কিছু অবৈধ আপত্তির প্রেক্ষিতেই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থ ভূমি মালিকদের ক্ষতিপূরনের টাকা আটকে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে বগুড়ার জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহন শাখার কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের ভূমি অধিগ্রহন সংক্রান্ত কাজে সরেজমিনে অনুসন্ধানে গেলে বেশ কয়েকজন ভূক্তভোগী জমির মালিকরা অভিযোগ করেন।

জেলা প্রশাসনে অভিযোগ সুত্রে প্রকাশ, ঢাকা- বগুড়া মহাসড়ক সংলগ্ন শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউপির মদনপুর মৌজার ১৭৭ দাগের ০.৩০২৯ একর সম্পত্তি সরকারি অধিগ্রহনের আওতায় পরে, যার জে.এল নং ৯৮। সম্পত্তির পৈতৃক সুত্রে এক তৃতীয়াংশের মালিক ভুক্তভোগী নিলয় কুন্ডু। ওই দাগের সম্পত্তি সহ আরও অন্যান্য মোট ৯টি খতিয়ানের সম্পত্তি সঠিক বন্টনের লক্ষে নিলয় কুন্ডু বাদী হয়ে সমীর কুন্ডুকে বিবাদী ২৫৯/১৪ নং বন্টন মোকদ্দমা দায়ের করেন এবং বর্তমানে তা যুগ্ম জেলা জর্জ-১ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এই মোকদ্দমা সংক্রান্ত বিষয়ে গত ৬ নভেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে জেলা প্রসাশকের অবগতির জন্য একটি দরখাস্তও প্রদান করেন নিলয় কুন্ডু। এর আগে ভূক্তভোগী নিলয় কুন্ডু জেলা প্রসাশকের কার্যালয় কতৃক প্রদেয় ৭ ধারা এবং পরবর্তীতে ৮ ধারার চুড়ান্ত নোটিশ প্রাপ্ত হয়। এর আগেও ৭ ধারা নোটিশ প্রাপ্ত হওয়ার পর একটি আবেদন ভূমি অধিগ্রহন কার্যালয় বরারবর স্বশরীরে প্রদান করেন, যার কোনো রিসিভ কপিও দেয়নি সংশ্লিষ্ট অফিস। পরে মোকদ্দমার বিষয়ে অবগত হয়ে ভূমি অধিগ্রহন কার্যালয় থেকে ২১জানুয়ারী ২০২০ইং তারিখে বন্টন মোকদ্দমা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পেমেন্ট বন্ধ রাখার আদেশ দেয়া হয় বলে বগুড়া জেলা প্রসাশকের কার্যালয়ের অধিগ্রহন শাখার সার্ভেয়ার মো: আশরাফ মুঠো ফোনে নিশ্চিত করেন। তবে আদেশের সার্টিফাই কপি দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে উক্ত আদেশের ৮দিন আগেই ১৩ জানুয়ারী ২০২০ইং তারিখে কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়াই ভূমির উপস্থিতি অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়েছে মর্মে অধিগ্রহন কার্যালয় থেকে জানানো হয় বলে ভূক্তভোগী নিলয় কুন্ডু জানান।

এদিকে বিবাদমান মামলার দুই মাস অতিবাহিত হওয়ায় কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়াই অতিউৎসাহী হয়ে অবকাঠামোর টাকা প্রদানের কারণ জানতে চাইলে তৎকালীন কর্তব্যরত বগুড়ার অধিগ্রহন কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন গণমাধ্যমকর্মীদের আশস্ত করে বলেন, আমরা প্রতিটি ক্ষতিপূরণের টাকা দেয়ার সময় তিন শত টাকার স্ট্যাম্প সহ প্রয়োজনীয় ফর্ম পূরণের মাধ্যমে চেক প্রদান করে থাকি। আর উক্ত ফর্মের উল্লেখ্য শর্তাবলী অনুযায়ী যে কোনো ভুল ভ্রান্তির জন্য টাকা গ্রহনকারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে উল্লেখ করা আছে।
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রসাশক মো: জিয়াউল হকের কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করলে তিনি গনমাধ্যমকর্মীদের ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন ও তাৎক্ষনিক পদক্ষেপের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রসাশক (রাজস্ব) মো: কাশেমকে নির্দেশ প্রদান করেন।

এদিকে জেলা প্রশাসকের দেয়া নিদের্শনার ১মাস পর বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রসাশক (রাজস্ব) মো: কাশেম জানান, ভূক্তভোগী নিলয় কুন্ডুর আবেদনে জায়গার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন, কিন্তু জায়গার উপস্থিত অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণ দাবি করেননি, তাই অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণ অন্য ওয়ারিশকে প্রদান করা হয়েছে। যদি আবেদন করতো তাহলে বিবেচনা করা যেতো। পরবর্তীতে আমাদের কাছে অন্যান্য ওয়ারিশরা মিসকেস করলে শুনানি করে ভূমির টাকা ছাড় করা হবে বলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদেরকে জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com