বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পীরগঞ্জে মসজিদের ঢালাই কাজের উদ্বোধন বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে আমাদের ভাবনা বিরামপুরে মুখর পরিবেশে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পালিত পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন  পীরগঞ্জ মাতৃসদন ক্লিনিকে প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যু, স্বজনদের আহাজারি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ইন্তেকাল করেছেন

পানচাষে স্বাবলম্বী ছয়ঘরিয়ার চাষিরা

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : বুধবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ৬০০ বার পঠিত
রুবেল ইসলাম।- গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের একটি জনবহুল গ্রাম ছয়ঘরিয়া। গ্রামটির গোড়াপত্তনের সময় মাত্র ছয়টি পরিবার বসবাস করতো। তখন থেকেই গ্রামটির নাম হয় ‘ছয়ঘরিয়া’। বর্তমানে এ গ্রামে এক হাজার পরিবারের বসবাস। এরমধ্যে প্রায় সাড়ে তিনশ পরিবারই পানচাষ করে।প্রায় অর্ধশতাধিক বছর ধরে পানচাষ করে আসছেন তারা। পানচাষই এ গ্রামের পরিবারগুলোর উপার্জনের প্রধান উপায়। পানচাষের সুবিধা হলো বহুবর্ষজীবী হওয়ায় বারবার লাগানোর খরচ নেই। ৫-৬ দিন অন্তর পান পাতা তুলে বাজারে বিক্রি করা যায় বছরভর।ছয়ঘরিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামটির চারপাশে যেদিকে চোখ যায় কেবলই পানের বরজ। কৃষকরা বরজের পরিচর্যা করছেন। বরজ থেকে পান সংগ্রহ করে বাড়ির উঠানে এনে স্তূপ করে রাখছেন। সেখানে পরিবারের সদস্যরা মিলে পান বাছাই করে আলাদা করে রাখছেন। গ্রামটিতে বর্তমানে সাড়ে তিনশ পানের বরজ রয়েছে।
চাষিরা জানান, উঁচু জমিতে পানের আবাদ করতে হয়। জমি তৈরির পর চারদিকে বেড়া ও ওপরে ছাউনি দিতে হয়। তারপরে পানের ডাল (পর) রোপণ করতে হয়। পানগাছ ওপরে বেয়ে উঠতে মাসখানেক পর শলা দিতে হবে। ৫০-৬০ দিনের মধ্যে পান বিক্রি করা যায়। পরিচর্যা ভালো হলে বরজটি একটানা ৮-১০ বছর রাখা যায়। খরচ যা হওয়ার তা শুরুতে হয়। পরে আর তেমন কোনো খরচ লাগে না। সে কারণে পানচাষ বেশ লাভজনক।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছয়ঘরিয়া গ্রামটিতে ভোটার সংখ্যা এক হাজার ৭০০। পরিবার আছে প্রায় এক হাজার। ছোট-বড় মিলিয়ে পানের বরজ আছে ৩৫০টি। ১৯৯৮ সালের আগ পর্যন্ত এ এলাকায় দেশি পানের চাষ হতো। কিন্তু প্রতিযোগিতার বাজারে সেই পান টিকতে পারেনি। নদীভাঙনে টানা পাঁচ বছর পানচাষ হয়নি এই এলাকায়। পরে ২০০৩ সালের দিকে তালতলী ও বিক্রমপুরী এ দুই জাতের পান দিয়ে আবারও চাষ শুরু।
তালতলী পান সংগ্রহ করা হয় রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার মোহনপুর এলাকা থেকে। আর বিক্রমপুরী পান সংগ্রহ করা হয় মুন্সিগঞ্জ এলাকা থেকে। এলাকার চাহিদা মিটিয়ে এ পান এখন রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, বগুড়া, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে।পানচাষি লাল মিয়া (৬০)  বলেন, ‘এ এলাকায় কবে থেকে এ আবাদ শুরু হয়েছে জানি না। তবে দাদার আমল থেকে দেখে আসছি। নিজেও করেছি তবে কম। এবার মাত্র পাঁচ কাঠা জমিতে চাষ করেছি। মাটি, বাঁশ, কাশিয়া (ছাউনির উপকরণ) ও জুনসহ (একধরনের তার) সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। কাজের লোকও পাওয়া যায় না। সে কারণে পানচাষ কমে দিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মেয়ে দুটিকে বিয়ে দিয়েছি। বড় ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ছোট ছেলে স্থানীয় এক কলেজে পড়ছে। ছেলে দুটোর গতি হলেই এসব ছেড়ে দেবো ভাবছি।’একই গ্রামের মমিনা বেওয়া (৫০) বলেন, ‘কয়েক বছর আগে স্বামী মারা গেছে। পান বিক্রি করেই দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। বড় ছেলে দিনাজপুর হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মেজ ছেলে গাইবান্ধা সরকারি কলেজে অনার্স ও ছোট ছেলে এবার এসএসসি দিয়েছে। বসতবাড়িসহ মোট জমি ৪০ শতাংশ। এরমধ্যে ১৭ শতাংশে পান লাগিয়েছি। সপ্তাহে এক গাদি করে পান তোলা যায়। বিক্রি হয় ৪-৫ হাজার টাকা। তবে বর্ষাকালে আরও বেশি পান তোলা যায়। পান বিক্রির অর্থ দিয়েই সব চলছে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com