বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পীরগঞ্জে মসজিদের ঢালাই কাজের উদ্বোধন বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে আমাদের ভাবনা বিরামপুরে মুখর পরিবেশে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পালিত পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন  পীরগঞ্জ মাতৃসদন ক্লিনিকে প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যু, স্বজনদের আহাজারি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ইন্তেকাল করেছেন

এখনো টিকে আছে মাটির হাড়ি বাসনকোসন

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৪৮ বার পঠিত

এখনো টিকে আছে মাটির হাড়ি  বাসনকোসন

লেখক- সুলতান আহমেদ সোনা

একটা সময় মাটির বাড়ি,মাটির হাড়ি ,কাঠের লাঙ্গল গরুর গাড়ীর ব্যবহার খুব নজড়ে পড়ত।

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ছিল এসব।আমাদের দাদা–দাদী, নানা – নানিরাও তাদের সময়ে মাটির তৈরী  বাসনকোসন ব্যবহার করতেন।বাবাদের যুগেও মাটির বাসন কোসনের প্রভাব ছিল।

বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্র  প্রত্যেক পরিবারে এক সময় মাটির বাড়ি, মাটির তৈরী বাসন কোসন ব্যবহার করা হতো । পাল বা কুমাররা মাটির সকল প্রকার বাসন কোসন তৈরী করে সরবরাহ করতো মানুষের জন্য।

জানা যায়, প্রস্তর যুগে গুহাবাসী মানষ মাটির হাড়িতে রান্না শুরু করেছিল।তারাই চালু করেছিল মাটির বাসন কোসনের ব্যবহার।এক তথ্যে জানা যায়, মৃৎশিল্প, যা মাটির তৈরি তৈজসপত্র, বাসনকোসন, ইত্যাদি তৈরির শিল্প, খুবই প্রাচীন। নব্য প্রস্তর যুগে,এর সূচনা ঘটে, যখন মানুষ প্রথম মাটি দিয়ে বাসনপত্র তৈরি করতে শিখেছিল। প্রায় ১৮,০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে চীনের একটি গুহায় প্রাচীনতম মৃৎশিল্পের টুকরা পাওয়া গেছে, যা সম্ভবত রান্নার কাজে ব্যবহৃত হত, এছাড়াও বিশ্বের অন্যান্য অংশে প্রায় ১২,৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে মৃৎপাত্র তৈরির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

প্রস্তর যুগ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত সময়ের ব্যবধান অনেক সাধারণ ভাবে, প্রস্তর যুগ প্রায় ৩.৪ মিলিয়ন বছর আগে শুরু হয়েছিল এবং প্রায় ৪,০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে শেষ হয়েছিল। আধুনিক যুগ এর পরে শুরু হয়েছে, এবং এটি প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, এবং জটিল সামাজিক ব্যবস্থার দ্বারা চিহ্নিত। এই দুটি যুগের মধ্যে সময়ের ব্যবধান কয়েক হাজার বছর।

আর একতথ্যে জানা যায়,বাংলাদেশের মৃৎশিল্পের সূচনা হয় অনেক প্রাচীনকালে, সম্ভবত প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের পললমাটি মৃৎশিল্পের জন্য একটি উপযুক্ত উপাদান ছিল, এবং এখানকার মানুষেরা সেই উপাদান ব্যবহার করে প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন ধরনের মৃৎপাত্র ও অন্যান্য জিনিস তৈরি করে আসছে। আমাদের এলাকায় এই মাটির নাম ”চিকটা মাটি”

সম্প্রতি পীরগঞ্জে পালপাড়ায় কথা হয়েছে এক মাটির বাসন ব্যবসায়ীর সাথে। নাম তার ধনা চন্দ্র মহন্ত (৬৮)। সে পাল নয় কিন্তু মাটির বাসন কোসন বিক্রি করে সংসার চালায়। ছবিতে যে বাসন কোসন গুলো দেখছেন, তার মধ্যে রয়েছে, থালি , গ্লাস, গামলা বাটি, জগ, হাড়ি পাতিল ,বাটন, ঢাকনা আরো কতকিছু। একসময় পীরগঞ্জের পালরাও  মানুষের সকল প্রকার বাসনকোসনের চাহিদা  পূরণ করতো। কিন্তু এখন আগের মত চাহিদা  ও বিক্রী না থাকার তারা পেশা পাল্টিয়েছেন। তারপরও কেউ কেউ পূর্বপুরুষের পেশাকে সীমিত আকারে ধরে রেখেছেন। রংপুরের প্রজাপাড়া, চন্ডিপুর, পাটিকা পাড়ায় এখনো পালরা সীমিত আকারে মাটির কাজ করে থকেন।

তবে ধনা বাবু দক্ষিণাঞ্চল যশোর, কুষ্টিয়া, সিরাজগঞ্জ অঞ্চল থেকে মাটির বাসন  আমদানী করে গ্রামে গ্রামে বিক্রি করেন। আমদনী করা একটি থালির দাম দেড় থেকে ২শ টাকা, গ্লাস ৮০ টাকা,মাটির একটা জগ, পাতিল দুশ টাকার উপরে বিক্রী করে থাকেন ধনা চন্দ্র মহন্ত। গ্রামে নাকি মাটির বাসনের এখনো খানিকটা চাহিদা রয়েছে  ।

আমরা অবশ্যই  পূর্ব পুরুষদের অতিত ঐতিহ্য নিয়ে গর্বিত। কারণ এটা সত্য যে তামা ,পিতল, কাসা, সিলভার এর যুগ অতিক্রম করে এখনো মাটির বাসনকোসন প্রতিযোগীতায় টিকে আছে।

এটা অতি আধুনিক যুগ। এই যুগে কত কিছুই না মানুষের প্রয়োজন মেটাতে আবিস্কার  করা হয়েছে। এই যুগে মাটির বাসনকোসন উপেক্ষিত কিন্তু অবজ্ঞার নয় !

তাই  আসুন আমরা একবার স্মরণ করি অতিতকে, সম্মান জানাই সেই সব কুমার বা পালদের, যারা অতিতে জীবন –সাংসারে যুক্ত করেছিলেন এই  মাটির বাসনকোসন, অলংঙ্কার । তাদের ত্যাগ, তাদের পরিশ্রমকে অবশ্যই শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবো আমরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com