বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পীরগঞ্জে মসজিদের ঢালাই কাজের উদ্বোধন বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে আমাদের ভাবনা বিরামপুরে মুখর পরিবেশে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পালিত পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন  পীরগঞ্জ মাতৃসদন ক্লিনিকে প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যু, স্বজনদের আহাজারি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ইন্তেকাল করেছেন

উপসম্পাদকীয়- আধুনিক একাকীত্বের আখ্যান

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : বুধবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৫
  • ৩৪০ বার পঠিত

আধুনিক একাকীত্বের আখ্যান

-রাজু আহমেদ

স্বামী-স্ত্রী মানেই দম্পতি। কিন্তু সংসার পূর্ণতা পায় বাবা-মা, সন্তান এবং একত্রে ভাগাভাগি করা জীবনের মাধ্যমে। পরিবার মানে কেবল দু’জন নয়, ভাই-বোনসহ মিলেমিশে একসাথে থাকার নামই পরিবার।

অথচ আমরা প্রতিদিন স্বার্থপরতার মোহে ক্ষুদ্র হতে হতে বড় সংসার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছি। এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংসার মানে মাত্র দু’জন কিংবা কয়েকজন। অথচ এই দু’জনের ভেতরেও বিচ্ছিরি দূরত্ব—একাকীত্ব।

একা থাকার প্রবণতা আমাদের এমনভাবে গ্রাস করেছে যে ভিড় এড়িয়ে চলা এখন মানসিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। চিন্তাভাবনা সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে কেবল দু’জনের আয়, তিনজনের থাকার ব্যবস্থা আর চারজনের স্বপ্নের মধ্যে। এর বাইরে কিছু কল্পনাই করতে পারি না। বাজারের ব্যাগ একটু ভারী হলেই বিরক্তি জন্মায়, দু’জনের বদলে তিনটা রুটি বানাতে হলেও কপালে ভাঁজ পড়ে। কেউ বাড়িতে আসুক, মুখোমুখি বসে অতীতের গল্প করুক—এমন দৃশ্য এখন সহনীয় নয়। বিছানা, বারান্দা কিংবা বাথরুম—কোনো কিছুই ভাগাভাগি করার সামান্যতম আগ্রহ নেই।

আজকের একাকীত্বের পরিবার দাঁড়িয়ে আছে কেবল দু’জনকে নিয়ে—একজন মানুষ আর অন্যজন মোবাইল ফোন। সারাদিন অনলাইনে ডুবে থাকা মানুষ সামাজিক যোগাযোগে যত জড়াচ্ছে, ব্যক্তিজীবনে ততটাই অসামাজিক হয়ে পড়ছে। মানুষ থেকে পালানোর প্রবণতা তাকে একসময় বিচ্ছিন্ন দ্বীপে ঠেলে দিচ্ছে। অথচ প্রাচীনকালে গুরুতর অপরাধের শাস্তি ছিল মানুষকে জনবিচ্ছিন্ন রাখা। আজ আমরা নিজেরাই স্বেচ্ছায় সেই শাস্তি বেছে নিচ্ছি।

এই একাকীত্বকে আমি নাম দিয়েছি—আধুনিকতা। পরিবর্তনের এ ধাপ হয়তো শঙ্কাজনক, কিন্তু ভয়ঙ্কর এখনো নয়। তবে পরবর্তী ধাপে যদি সম্পর্কের ভাঙন আরও গভীর হয়, তবে মানুষের পরিণতি কোথায় গিয়ে ঠেকবে? সম্পর্ক আজ অনেকটাই বাণিজ্যিক; প্রিয়জনের সাথেও সময় কাটাতে হিসাব মেলাতে হয়। সময়কে মাপা হয় অর্থমূল্যে। অধিকাংশ অভিভাবক সন্তানের পাশে থাকেন কেবল ঘুমের সময়ে। যে প্রজন্ম বাবা-মায়ের সান্নিধ্য বেশি পেয়েও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে পারেনি, তাদের পরের প্রজন্মের কী দশা হবে? বৃদ্ধাশ্রম তখন আর ব্যতিক্রম নয়, হয়ে উঠবে স্বাভাবিক বাস্তবতা।

মানুষে মানুষে সম্পর্ক এখন বাহ্যিকতায় ঠাসা। হৃদয়ের অন্তঃস্থলে কতটা গভীরতা বাকি আছে—তার পুনর্মূল্যায়ন জরুরি। সর্বত্র চলছে অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও প্রতারণা। কে কাকে ঠকাবে, কতটা কষ্ট দেবে, অনৈতিকতার আশ্রয়ে কাকে পরাজিত করবে—এই উন্মত্ততাই এখন নির্দয়বাস্তবতা। যে সমাজ এটাকে অগ্রগতি ভেবে আত্মতুষ্ট, তারা আসলে এক ভয়াবহ ফাঁদের ভেতরে আটকে আছে। অশ্লীলতা ও মিথ্যার আসক্তি মানুষের হৃদয়কে পাথরের মতো শক্ত করে তুলছে, সম্পর্কের আবেগকেও বানাচ্ছে বাজারি চাহিদা।

অসংখ্য মানুষের ভিড়ের মধ্যেও আজ মানুষ একা। কারণ এই একাকীত্ব তার নিজের কর্মফল। বিবেক ও মস্তিষ্ককে নিষ্ক্রিয় রেখে সে অন্যের ক্ষতির পরিকল্পনায় নিমগ্ন। অন্যের উন্নতিতে হিংসা জন্মায়, সহিংসতায় আনন্দ খুঁজে পায়। অন্যকে আঘাত করলেই তৃপ্তি পায়—এই মানসিকতাএকাকীত্বকে আরও দীর্ঘায়িত করছে। অথচ পরিবারিক বন্ধন অটুট থাকলে, দাম্পত্যের ভিত শক্ত হলে এবং বন্ধু-সঙ্গের হৃদ্যতা টিকে থাকলে জীবনের ঝড়ঝাপটা সহজেই সামলানো যেত। দুর্দিন ভাগ করে নিলে বুকের ভার হালকা হতো।

একাকীত্বের এই আধুনিক রূপ আমাদের সতর্ক করছে—আমরা কি মানবিক সম্পর্ককে রক্ষা করতে পারব, নাকি অচিরেই হারিয়ে ফেলব সেই উষ্ণ আশ্রয়?

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com