বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পীরগঞ্জে মসজিদের ঢালাই কাজের উদ্বোধন বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে আমাদের ভাবনা বিরামপুরে মুখর পরিবেশে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পালিত পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন  পীরগঞ্জ মাতৃসদন ক্লিনিকে প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যু, স্বজনদের আহাজারি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ইন্তেকাল করেছেন

গাইবান্ধায় ডালের বড়ায় সংসার চলে ওদের

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২২ নভেম্বর, ২০২২
  • ৪৪২ বার পঠিত
ছাদেকুল ইসলাম |-গাইবান্ধা সদর উপজেলার খামার বোয়ালী গ্রাম। শীতের সকাল এলেই এই গ্রামের প্রায় মানুষের কর্মব্যস্ততা বেড়ে যায়। গ্রামের প্রায় রাস্তার দুই ধার দিয়ে সারি সারি বড়া শুকানোর চালি দেখা যায়। মাষকালাইয়ের গুঁড়ার সঙ্গে আতব চালের গুঁড়া মিশিয়ে তারা তৈরি করেন মুখরোচক বড়া।
সকালে কেউ মেশিনে ভেজানো কালায়ের ডাল তুলে দেন। কেউবা কালায়ের ডালের বড়ার গুঁটি করেন। আবার কেউ কেউ চাল-ডালের গুঁড়া দিয়ে তৈরি বড়া শুকানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। বড়াগুলো বাড়ি থেকে খুচরা ও পাইকারি বিক্রি করা হয়। সারা বছর এ কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন এই গ্রামের অর্ধশত নারী-পুরুষ।
শীতকালে এই বড়ার চাহিদা বেশি থাকে। তাই এই সময়ডালের বড়া তৈরির কারিগরদের ব্যস্ততাও বেশি থাকে।রোববার (২০ নভেম্বর) গাইবান্ধা সদর উপজেলার খামার বোয়ালী গ্রামে দেখা যায়, আসন্ন শীতের মৌসুমে বাড়তি চাহিদার যোগান দিতে বড়া তৈরির কারিগররা বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন গ্রামের শতাধিক নারী পুরুষ। তাদের কাজে সাহায্য করছেন ছোট ছোট বাচ্চারা। বড়া তৈরির কাজে হাত লাগাচ্ছেন বৃদ্ধরাও। কেউ মাসকলাইয়ের গুঁড়ো মেশানো মিশ্রণ গুটি গুটি করে পাতলা কাপড় বা পরিষ্কার টিনে সারিবদ্ধ করে রাখছে। আবার অন্য সদস্যরা তা রোদে শুকাতে দিচ্ছে। এই এলাকার মাষকালাইয়ের মুখরোচক বড়ার সুনাম থাকায় তারা সবাই কাজে বেশ মনোযোগী। কারণ খুচরা-পাইকারিতে এসব বড়া বিক্রি করে যেটুকু লাভ হয়, এ দিয়েই চলে তাদের সংসার।  মাষকালাইয়ের বড়ার প্রস্তুত প্রণালী সম্পর্কে সন্ধ্যারানী সাহা জানান, খোসা ছাড়ানো মাষকলাইয়ের ডাল সারা রাত ভিজিয়ে রেখে ভালো করে ধুয়ে নিতে হয়। ডালগুলো আগে পাটায় বেটে নেওয়া হলেও এখন বিদ্যুৎ চালিত মেশিনে বাটা হয়। আধা ঘণ্টা ধরে ব্লেন্ড করতে হয়। একটি বাঁশের ডালায় বা নেটে ছোট ছোট করে সাজিয়ে কড়া রোদে বড়িগুলো শুকাতে হয়।
তপন চন্দ্র মহন্ত নামের এক কারিগর জানান, শীতের কয়েক মাস খুব ভালো বড়ি বিক্রি চলে। বছরের বাকি সময় অন্য কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয় তাদের। আর্থিকভাবে সহযোগিতা করলে এ পেশাকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হতো।
আরেক কারিগর হৃদয় চন্দ্র মহন্ত বলেন, ‘বংশ পরম্পরায় এই শিল্পকে টিকিয়ে রেখেছি আমরা। বাপ-দাদাদের দেখে আসছি বড়া তৈরি করতে। ছোট বেলা থেকে আমরাও কাজে নেমে পড়তাম। এখন আমাদের কাজ দেখে নাতি-পুতিরা লেগে পড়ে বড়া তৈরির কাজে। তবে জিনিস পত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভ কম হয়। এই গ্রামের তৈরি বড়ার বেশ সুনাম রয়েছে। তাই এটি তৈরি করে বিক্রি করতে আমাদের ভালোই লাগে।’গ্রামের কৃষ্ণারানী সাহা জানান, প্রতিদিন ৩০ কেজি থেকে একমণ বড়া তৈরি করেন তিনি। আগের দিনে চাল বাটতে হতো, ডাল বাটতে হতো। এবার মেশিন কেনায় সেটা দিয়ে অনেকটা সুবিধা হয়েছে। বেশি পরিমাণে কম সময়ে তৈরি করা যায় বড়া।
গ্রামের নিকিল চন্দ্র সাহা জানান, এখন খোসা ছাড়ানো মাষকলাই ডাল কিনতে হয় ৭০০ টাকা ধারা। তবে বড়া তৈরির করে তা কেজি প্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বিক্রি করি। তবে লাভ যা হয় তা কোনোমতে সংসার চলে।
বোয়ালী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সাবু জানান, ওই গ্রামের প্রায় অর্ধশত পরিবার বড়া তৈরির কাজটি যুগযুগ ধরে করে আসছে। পরিষদের পক্ষ থেকে তাদের মাঝে মধ্যে সহযোগিতা করা হয়।
এ ব্যাপারে গাইবান্ধা জেলা বিসিকের সহকারি মহাব্যবস্থাপক রবীন চন্দ্র রায় জানান, যদি কেউ আগ্রহী থাকে তাহলে গাইবান্ধা বিসিক এই বড়া তৈরির কারিগরদের পাশে থাকবে এবং এই শিল্পকে ছড়িয়ে দিতে সার্বিক সহযোগিতাও করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com