বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পীরগঞ্জে মসজিদের ঢালাই কাজের উদ্বোধন বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে আমাদের ভাবনা বিরামপুরে মুখর পরিবেশে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পালিত পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন  পীরগঞ্জ মাতৃসদন ক্লিনিকে প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যু, স্বজনদের আহাজারি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ইন্তেকাল করেছেন

নেপালের সাহিত্য সম্মেলন ২০২৪ (তৃতীয় কিস্তি)

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ২৪৮ বার পঠিত

নেপালের সাহিত্য সম্মেলন ২০২৪ (তৃতীয় কিস্তি)

একদিন আগে যাত্রা শুরু

 সুলতান আহমেদ সোনা।– কর্মসূচী অনুয়ায়ী ২৫ অক্টোব /২৪ খ্রি:  শুক্রবার নেপালের সাহিত্য সম্মেলন শুরু হবে সে কারণে একদিন আগে ২৪ অক্টোবর/২৪খ্রি:  বৃহস্পতিবার  নেপাল গমনের লক্ষ্যে সাভার থেকে বিমান বন্দরের উদ্দেশ্যে  রওনা হয়ে  বেলা ১২টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর এলাকায়  পৌছে যাই।

আকাশে মেঘের ঘনঘটা সিএনজি চালক বিষয়টি আচ করতে পেরে দ্রুত উপরতলায়   পৌছামাত্রই  লঘুচাপ “ডানা”  তার  প্রভাবের  প্রকাশ ঘটালো। শুরু হলো  মুশলধারায় বৃষ্টি। ‍কিছু করার নেই, প্রচন্ড ভীড়,অনেক মানুষ বিদেশে পাড়ি জমানোর লক্ষ্যে বিমান বন্দরে উপস্থিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আমিও একজন কিন্তু সমস্যা হয়নি,উপস্থিত একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তার সাথে কথা হলে তিনি আমাকে  ১ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশের পরামর্শ প্রদান করেন। হ্যা  ওই গেটে ভিড় না থাকায় সহজেই ভিতরে প্রবেশের সুযোগ পাই। লাগেজ, বডি স্ক্যানের পর  যাত্রীদের বসার স্থানে গিয়ে বসে পড়লাম।

আমার উড়োজাহাজ  হিমালয় । হিমালয় এয়ার লাইন্সের একটি উড়োজাহাজ। উড়বে বিকেল ৪ ঘটিকার সময়। সে করণে আমাকে অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হলো। এই ফাঁকে বলে নেই ৫ আগষ্ট বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনের স্রোত দেখে দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়ার পর বিমান বন্দরের চেহারা পাল্টে গেছে। চারিদিকে  বেশ কিছুক্ষণ তাকালাম, দেখে ভালো লাগলো। দেখলাম বেশ শৃংখলার সাথে সব কিছু হ্যান্ডেল করা হচ্ছে। শান্ত  সুন্দর পরিবেশ । সুন্দর চেয়ারে  বসার  ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা, কর্মীদের আচার ব্যবহার, সব  মিলে দারুন  লেগেছে।  ওয়াশরুম ব্যবহার করতে গিয়ে দেখলাম, সব সময় পরিস্কার করা হচ্ছে; হ্যন্ডওয়াশ পানি, টিসু কোন কিছুর ঘাটতি নেই। অবস্থার এই উন্নতি দেখ খুব খুব ভালো লেগেছে।

এদিন লক্ষ্য করেছি  অনেক নারী কর্মী সৌদী আরবসহ মধ্যপ্রচ্যের নানা দেশে কাজ করতে যাচ্ছেন । তাদের সকলের মাথায় বাংলাদেশ বিমানের উপহার চমৎকার  ক্যাপ শোভা পাচ্ছে। তাদের সাথে কথা বলে জেনেছি, তাদের কারো বাড়ি সুনামগঞ্জ, কারো বাড়ি  কুমিল্লা, কারো ব্রহ্মনবাড়িয়া,কারোবাড়ি বারিশাল।

বিষয়টি ভালো লাগলেও কষ্টের বিষয় ছিল, আমাদের রংপুর অঞ্চল এখনো পিছনে রয়েছে । এ অঞ্চলের যুবক যুবতিরা বিদেশ বিমুখ।। এই অঞ্চলের কি ছেলে, কি মেয়ে তারা বিদেশে যাবার ক্ষেত্রে দক্ষিন অঞ্চলের তুলনায় পিছনে রয়েছে। এই অবস্থার পরিবর্তন হলে উত্তরাঞ্চল আরো সমৃদ্ধ হবে। যাক বেলা ২টার দিকে শুরু হলো হিমালয় এয়ারওয়েজের টিকিট পর্যবেক্ষণ, লাগেজ গ্রহন এবং বডিং পাসের জন্য প্রস্তুতি গ্রহন। এ সময় নেপালগামী যাত্রী অনেকর সাথে পরিচয় ও কথা বলার সুযোগ হয়েছে। ইমিগ্রেশনে আমার মোটা পাসপোর্ট দেখে পুলিশ বিভাগের দায়িত্বরত কর্তা জানতে চেয়েছিলেন এর আগে আমি কোন কোন দেশে গেছি, জানালাম । নেপালে কেনো যাচ্ছি জানতে চাইলেন,যাওয়ার উদ্দেশ্য শুনে তিনি খুশি হলেন। বাংলাদেশ থেকে কতজন যাচ্ছেন? এমন প্রশ্নের  উত্তরে বললাম “এখন পর্যন্ত দেখছি আমি একা। তিনি বললেন ভালো, সেখোনে আরো হয়তো অনেকেই যাচ্ছেন, ভিতরে যান আরো কাউকে পেয়ে যাবেন কিন্তু দু:খের বিষয়, ভিতরে গিয়ে সাহিত্য সম্মেলনে যোগদেয়ার মত আর কাউকে পাইনি।

আমি যতদুর জানি নেপালের এই সাহিত্য সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে আমাকেই আমন্ত্রণ জানিয়েছে গ্লোবাল ফেডারেশন । আমি একজন লেখক ও এফসাকল এর জেনারেল সেক্রেটারী হিসেবে একাই যাচ্ছি।যাক ভিতরে গিয়ে বসলাম। আমার সাথে এক ব্যক্তি হিন্দিতে কথা বলতে শুরু করলেন। তিনি নানা রকম প্রশ্ন করছেন ।বুঝতে সমস্যা হচ্ছিল তিনি কোন দেশের নাগরিক, নেপালী, ভারতীয় না বাংলাদেশের লোক। নামটা শুনে বুঝেছি তিনি মুসলমান। প্রথমে মনে হচ্ছিল এই লোকটি সৈয়দপুরের বিহারী হতে পারে !  তার সাথে আরো দশ-পনেরোজন আছেন। ভদ্রলোকের কথা শুনে বিহারী বিহারী  লাগছিল পরে জানলাম তিনি বাংলাদেশি! তিনিও নেপাল যাবেন। মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েতে একটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানীতে ম্যানেজার  হিসেবে আছেন। বাড়ি সিলেটের হবিগঞ্জ । ছুটি নিয়ে বৌ-বাচ্চাকে সময় দিতে এসেছিলেন।

তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, বাংলাদেশি হয়ে কেন হিন্দিতে আমার সাথে কথা বলছেন ? তার উত্তরছিল এমনটা যে, তাদের কোম্পানীতে অনেক নেপালী , ভারতীয় চাকুরী করেন, তাদের সাথে থাকতে থাকতে তিনি হিন্দি ভাষা রপ্ত করে ফেলেছেন।  কুয়েতে চাকুরী, নেপালে যাচ্ছেন কেন ? এর উত্তটা ছিল এই যে, বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে বিমানে যেতে অনেক বেশী টাকা গুনতে হয়, কিন্তু নেপাল হয়ে গেলে খানকিটা কম টাকায়  মধ্যপ্রাচ্যে যেতে পারেন তারা।

বিষয়টা শুনে মনে হয়েছে, এই সব কারণেই বিমান লোকসান খাচ্ছে। কমটাকায় যদি নেপাল হয়ে, মধ্যপ্রাচ্যে যাবার সুযোগ থাকে তা হলে বেশি টাকা কেনো খরচ করবে যাত্রীরা ? বিষয়টি বিমান কর্তৃপক্ষ ভেবে দেখবেন আশা করি।

এদিকে সময় কাটানো গল্পের মধ্য দিয়ে সময় হলো হিলামলয়গামী উড়োজাহাজে উঠার। বাইরে তখনো বৃষ্টি হচ্ছিল।বৃষ্টিতে তখন বৈকালিক স্নানে রত উড়োজাহাজে । কর্তৃপক্ষের কথামত আমরা যাত্রীরা সারিবদ্ধ হয়ে বিমানে উঠছি। নেপালের দুই কন্যা বিমান বালা অভ্যর্থনা জানালেন। ডানদিকের ষোল নম্বর সাড়িতে আমার আসন। বসে পড়লাম। আমার সর্বডানে ঢাকার এক যুবক, মাঝে  বরিশালের এক সুন্দরি ললনা তিনি সৌদি আরবে যাচ্চেন কাজ করতে, তার পর আমার সিট।

দেখলাম হিমালয়ের এই জাহাজে বহুযাত্রী, তাদের মধ্যে সবাই বাংলাদেশি, আমরা হাতে গোনা ক’জন নেপালে থেকে যাবো হয়তো, বাকীরা যাবেন মধ্যপ্রাচ্যের নানা দেশে। হ্যা সময় হলো বিমান ছাড়ার । মাইকে ঘোষণা এলো, নেপালের উদ্দেশ্যে কিছুক্ষণের মধ্যে উড়োজাহাজটি আকাশে উড়বে।

এগিয়ে যাচ্ছে উড়োজাহাজ রানওয়ে ধরে, ঠিক ৪টা ২০ মিনিটে আকাশে উড়লো নেপালের উড়োজাহাজ। উঠছে তো উঠছে।  লঘুচাপ ডানার প্রভাবে আবহাওয়া মন্দ হলেও চোখের পলকে   প্রায় সাড়ে ৯ হাজার ফুট উপরে উঠে গেলো যানটি, দেখতে দেখেতে মেঘের রাজ্যে পৌছে গেছি তখন। কানে কিছু শোনা নাগেলেও মুগ্ধ হয়ে দেখছি শুধু মেঘ আর মেঘ!  জানালা দিয়ে    মেঘের রাজ্যে মেঘের ভাস্কর্য দেখে মুগ্ধ হলাম । মেঘের এত রূপ ধারণ করতে পারে, না দেখলে এ কথা শুনে কেউ বিশ্বাস করতে পারবে না। চোখ থাকলেই সব দেখা যায় না। অবশ্য  সৃষ্টির রহস্য-রূপ দেখার মত মানুষের চোখ আর উপলব্ধি করার মত ধীশক্তি থাকতে হয়।  (চলবে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com