বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫০ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পীরগঞ্জে মসজিদের ঢালাই কাজের উদ্বোধন বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে আমাদের ভাবনা বিরামপুরে মুখর পরিবেশে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পালিত পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন  পীরগঞ্জ মাতৃসদন ক্লিনিকে প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যু, স্বজনদের আহাজারি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ইন্তেকাল করেছেন

নেপালের সাহিত্য সম্মেলন ২০২৪

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ২৬০ বার পঠিত

নেপালের সাহিত্য সম্মেলন ২০২৪

লেখক- সুলতান আহমেদ সোনা

আমাদের সংগঠন এসোসিয়েশন ফর সাউথ এশিয়ান কালচার এন্ড লিটারেচার “এফসাকল”( Association for South Asian Culture and   Literature  “AFSACAL”) প্রতিবছর বাংলাদেশে তিন ব্যাপী  দক্ষিণ এশিয়ার সাহিত্য –সংস্কৃতি বিষয়ক সম্মেলন  ও গুণীজন সংবর্ধনার আয়োজন করে থাকে। সেই  সুবাধে  দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশে থেকে যে লেখক, কবি, সাহিত্যিক গূণীজনরা বাংলাদেশে আসেন, তাঁদের সাথে পরিচিত হবার সুযোগ হয়েছে আমার।

অন্যান্য দেশের গুণীরাই শুধু “এফসাকল” এর অনুষ্ঠানে যুক্ত হন না, যে হেতু লেখা লেখি করি, সেই কারণে আমন্ত্রণ পেলে আমিও  অন্য দেশের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে থাকি।

২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে নেপালে অনুষ্ঠিত সাহিত্য সম্মেলনে এবার যোগ দেয়ার সুযোগ হয়েছিল আমার। অক্টোবর মাসের ২ তারিখের দিকে আসামের বিশিষ্ঠ লেখক কবি রানা কাফলে আমাকে নেপালের সাহিত্য সন্মেলনে যোগ দেয়ার প্রস্তাব করেছিলেন,  আমি অনেক ভেবে চিন্তে আমার প্রিয় বন্ধু, উপদেষ্টা, শুভাকংখিদের সাথে কথা বলে নেপালের সাহিত্য সম্মেলনে  যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এখানে বলে রাখি, মিঃ রানা কাফলে একজন নেপালী ভাষার লেখক। তিনিএকাধীক ভাষা জানেন। যেমন হিন্দী, বাংলা , ইংরেজি  সাথে নেপালীতো আছেই।তার জন্মস্থান ভারতের আসাম রাজ্যে হলেও  ব্রিটিশ যুগে তার পূর্বপুরুষরা আসামে বসতি গড়েছিলেন। বর্তমানে তার পরিবার আসামের বাসিন্দা ভারতের নাগরিক।

বছর পাঁচেক আগে, তার সাথে আমার পরিচয় ঘটেছিল পশ্চিমবঙ্গের  বৈদনাথ তলায়। বৈদ্যনাথ তলা একটি গ্রাম এলাকা হলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেখানে বিদ্রোহী কবি কাজি নজরুল ইসলামের নামে একটি ইনষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছেন। সেখানে আমাকে সাহিত্য সম্মেলন ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, জনাব রানা কাফলেও সেখানে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত  হয়ে ছিলেন। সেই দিনের সেই পরিচয়, আন্তরিকতা, যোগাযোগ, বন্ধুত্ব নিবিড় সম্পর্কের দীর্ঘ সড়ক নির্মাণ করেছে। শুধু তাই নয় তার সাথে ভাবনার ঐক্য হওয়ায় সমচিন্তার মানুষদের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্র সম্প্রসারণে আমরা এক সাথে কাজ করছি। আর একটা কথা না বললে হবে না, প্রিয় রানা কাফলে আমার কাব্য গ্রন্থ “নদী জল কষ্ট” অসমীয় ভাষায় অনুবাদ করিয়েছেন । আসামের কবি পূর্ণিমা দেবী অসমীয় ভাষায় আমার “নদী জল কষ্ট” অনুবাদ করেছেন। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ঋণি আমি তাদের কাছে, গর্বের সাথে বলছি, এফসাকল কেন্দ্রীয় কমিটির একজন দায়িত্বশীল সম্পাদকও এই নারা কাফলে। পূর্ণিমা দেবীও এফসাকল এর সদস্য।

আমরা সবাই জানি, ৫ আগষ্ট/২০২৪ খ্রি: বাংলাদেশে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। এ দেশের অনেক নেতা দেশ থেকে পালাতে গিয়ে ধরা খাচ্ছেন এমন সময়  দেশের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন কেউ কেউ; কিন্তু  আমি তো লেখক  এবং সাংবাদিক আমার যেতে সমস্যা কোথায় ?  আমার কিসের ভয় !  সেই জায়গা থেকে  নেপালের সাহিত্য সম্মেলনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত পাকা করে ফেলেছিলাম। এর পর  অক্টোবর মাসের ৪ তারিখে নেপাল থেকে আমন্ত্রল পত্র আসে মেইলযোগে। পত্র পাঠিয়েছিলেন নেপালের বিশিষ্ঠ সাহিত্যিক “গ্লোবাল ফেডারেশন ফর নেপালী লিটারেচার”  (Global Federation for Nepali Literature (GFNL)) এর  সম্মানিত সভাপতি  মিঃ সুরেন্দ্র লিম্বু পরদেশী।

এর আগে কখনো নেপালী যাইনি অর্থ্যাৎ ২০১০ সাল থেকে ভারতের বিভিন্ন  এলাকার সাহিত্য –সংস্কৃতি বিষয়ক সম্মেলনে বহুবার গেছি , সম্মানিত হয়েছি। এই বার নেপালে যাওয়ার আমন্ত্রণকে মনে হয়েছিল  জগৎবিখ্যাত পর্ব্বত হিমালয়ের হাতছানি। এছাড়াও পত্রে লেখা হয়েছিল গ্লোবাল ফেডারেশনের এই সম্মেলনে ২৫ দেশের লেখক, গবেষক, কবি সাহিত্যিকগণ উপস্থিত থাকবেন অংশ নেবেন।

এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছিলাম,ভেবেছিলাম এতগুলো দেশের এতো গুণীমানুষ আসবেন, সেখানে গেলে পরিচিত হবার সুযোগ পাবো সমৃদ্ধ হবো। জীবন তো  ক্ষণিকের; বিরল এই সুযোগ দ্বিতীয়বার নাও আসতে পারে।

তাই এক রকম যাবার সিদ্ধান্ত পাকা পাকি কিন্তু কোন পথে যাবো ! দু- একজন  পরামর্শ, দিয়েছিলেন সড়ক পথেই ভালো হবে, কম খরচে নেপাল ভ্রমন করতে পারবেন। এর জন্য শুধু ঢাকায় গিয়ে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।

আমি তো জানিনা   বাংলাদেশ থেকে আর কেউ   আমন্ত্রণ পেয়েছেন কি না। ভাবছিলাম, সড়ক পথে একা একা যাব , যাওয়ার সময় কোন ঝামেলা হয় কি না! দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভূগছিলাম। তার পর ভারতের বর্ডার বন্ধ, গরম হাওয়া বইছে সীমান্ত এলাকায় , অপর দিকে সঠিক সময়ে ভিসা পাবো কী না ! এমন পরিস্থিতিতে চাপ অনুভব হচ্ছিল

শেষে ছোট ভাই সাংবাদিক গোলাম কাদীর রবু, সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ও সাংবাদিক  কবি শাহীনুর ইসলাম শানু ঢাকা থেকে ফোনে  সাফ বলে দিলেন,  বিমানে যাওয়াই উত্তম হবে। যে হেতু নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে সম্মেলন হবে তাই শেষ পর্যন্ত  সিদ্ধান্ত হলো বিমানে চড়ে নেপাল যাওয়ার।

সাংবাদিক গোলাম কাদির টিকিট কনফার্ম করলে ২৪ অক্টোবর/২৪ খ্রি: বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা থেকে হযরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্ধর হয়ে  ফ্লাই করার  সিদ্ধান্ত হয়। (চলবে)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com