বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পীরগঞ্জে মসজিদের ঢালাই কাজের উদ্বোধন বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে আমাদের ভাবনা বিরামপুরে মুখর পরিবেশে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পালিত পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন  পীরগঞ্জ মাতৃসদন ক্লিনিকে প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যু, স্বজনদের আহাজারি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ইন্তেকাল করেছেন

বিখ্যাত মানুষ প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের সাথে একদিন

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
  • ১৬৩ বার পঠিত

বিখ্যাত মানুষ প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের সাথে একদিন

লেখকঃ সুলতান আহমেদ সোনা

আমি যাঁর পাশে দাড়িয়ে আছি, তিনি ভারত বর্ষের একজন বিখ্যাত মানুষ। তিনি গুণীজন, লেখক কবি, গীতিকার,সুরকার এবং সঙ্গীত শিল্পী। তিনি একনামে পরিচিত সবার কাছে সর্বত্র; তাঁর নাম সকলেই জানেন এবং তাঁকে চেনেন, তিনি প্রতুল মুখোপাধ্যায়। ‘আমি বাংলার গান গাই’ সেই বিখ্যাত গানের স্রষ্টা তিনি।

তাঁর ছবি, তাঁর পাঞ্জাবী, তাঁর হাসি দেখলেই বোঝা যায়, তিনি আগাগোড়া একজন বাঙালি। কথা বার্তা, আন্তরিকতায় তিনি একজন নিখাদ ভালো মানুষ। তাঁর কবিতা গান শুনলেই স্পষ্ট হয়ে যায় তার অবস্থান।

আমি অনেকের মত এই বিখ্যাত মানুষটির ভক্ত। তার সাথে পরিচিত হবার সুযোগ হয়েছিল ২০১২ সালের দিকে পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ঠ কবি সুনীল কুমার ভট্টাচার্য (নীলাচার্য) দাদার সুবাদে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা একাডেমীর একটি অনুষ্ঠানে।

আপনাদের সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি, ওই সময়  বেশ ক’জন কবির সাথে আমিও কবি সুনীল কুমার ভট্টাচার্য (নীলাচার্য) মহোদয়ের আমন্ত্রণে কোলকাতায় কবিদের একটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়েছিলাম। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের বাংলা একাডেমীর জীবনানন্দ দাস সভাগৃহে কবিতা পাঠ ও আলোচনা সভায়  অন্যতম অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শ্রদ্ধেয় কবি প্রতুল মুখোপাধ্যায়। সেখানে কবি নীলদা  প্রতুলদার সাথে  আমাদের পরিচয় করান।

এই অনুষ্ঠানের পরদিন সন্ধ্যাবেলা বেলেঘাটায় শ্রদ্ধেয় কবি নীলাচার্য, নীলদার বাড়িতে আমরা আমন্ত্রিত হয়েছিলাম। সেদিন নীলদার বাড়ির ছাদে পারিবারিক পরিবেশে একটি গানের আসর বসানো হয়েছিল।। সেখানে ওপার বাংলার বেশ ক’জন বিশিষ্ঠ গুণী মানুষ উপস্থিত ছিলেন।তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন,কবি, গীতিকার ,সুরকার, শিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়।

এখানে বলে রাখি, অনুষ্ঠানের আয়োজক নীলাচার্য বাবু  নীলদা ,তাঁর পূর্বপুরুষরা বাংলা দেশের মানুষ ছিলেন। নীলদা তিনিও জন্মগ্রহন করেছেন অবিভক্ত বাংলার বিক্রমপুরের চিত্রকরা গ্রামে। তিনি একজন খনি বিশেষজ্ঞ। ইন্ডিয়ার কয়লা খনি বিভাগে দীর্ঘদিন কর্মরত  ছিলেন,পাশাপাশি লেখা লেখি করতেন তিনি। বড় সৌখিন মানুষ এই সুনীল কুমার ভট্টাচার্য। তিনি বাংলাদেশের কবিদের কাছে “নীলদা” নামে পরিচিত। তিনি অনেকবার পীরগঞ্জে এসেছেন বজ্রকথা সংবাদপেত্রর আমন্ত্রনে, গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে। ঢাকাতেও বহু অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি বেলেঘাটায় বসবাস করছেন। সেই বেলেঘাটায় তাঁর বাড়িতে অনুষ্ঠিত সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সুযোগ  হয়েছিল আমার।

সেই অনুষ্ঠানে কোলকাতার বেশ ক’জন গুণী শিল্পী রবীন্দ্র সঙ্গীত পরিবেশনের পর আমরা প্রতুল দাদার পরিবেশনা উপভোগ করেছিলাম, তিনি ও  একের পর এক গেয়েছেন।  এক সময় দাদা খান্ত দিলেন, তখন ঢাকার কবি সুফিয়া রহমান (সুফিয়া বুবু) তিনি আমাকে রংপুরের ভাওয়াইয়া গান শোনানোর প্রস্তাব করলে সবাই তাতে সুর মেলান। আমিও একটু আধটু গাইতে পারি সেটা কিন্তু উপস্থিত কেউই জানতেন না। প্রতুল দাদাও সকলের সুরে সুর মিলয়ে বললেন, হয়ে যাক হয়ে যাক । কিছু করার নেই,  আমি বিনয়ের সাথে বললাম, হারমনিয়মটা কি আমি ব্যবহার করতে পারি ? এর পর সম্মতি পেলাম এবং হারমনিয়েমে সালাম করার পর আমার লেখা একটা গান পরিবেশন করার অভিপ্রায় ব্যাক্ত করলে অনুমতি পাই। এটা সত্য কথা, রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুল সঙ্গীত  ও প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের গানের পরে আমার মত অখ্যাত লোকের গান কী চলে ! তাও আবার আমার লেখা ও সুর করা গান। সুনীল দা ভেবেছিলেন এই ছেলেটা আসর মাটি করবে কিন্তু প্রতুল দাদা আমাকে গাইতে উৎসাহ যোগান। সেদিন আমার লেখা এই গানটি তার সামনে পরিবেশন করার সুযোগ আমার হয়েছিল ; গানের কথাগুলো হচ্ছে –

আরে তিলক টিকি পৈতা হলে

গুরু কি আর  হওয়া যায়

ভবের এ নাট্যশালায়, গুরু চেনা দায় রে

গুরু চেনা দায়।।

গুরুর টিকির গোড়া কোথায়

খুঁজতে হবে আগে

তিলকের তত্বকথা

খোঁজ অনুরাগে ওমন

খোঁজ অনুরাগে

পীড়ানে ঢাকা পৈতার বহর-

হাত দিয়ে কী মাপা য়ায় !

কর্ণমন্ত্র কানে দেয়ায়

কান নিয়েছে চিলে

সাতটি বক মারলো বোকায়

দেখ এক ঢিলে

মন, দেখ এক ঢিলে

থাকলে কড়ি গয়া কাশী

বৃন্দাবন কি যাওয়া যায় ?

সোনার কথা ধরো সুজন

সরিষার মধ্যে ভূত

পিতা মাতা জন্ম দিলেও

গুরুই বানায় পুত রে

গুরুই বানায় পুত

সাধুর বাজার গেলে পরে

গুরুর দেখা পাওয়া যায়।

গান শেষ হওয়ার পর সকলে তালি দিলেন,দাদা আমাকে বুকে ছড়িয়ে ধরে বললেন,এই আমাদের ছবি তোল। সেদিন তাঁর সাথে একাধীক ফটো তোলার সুযোগ হয়েছিল আমার। শ্রদ্ধেয় কবি নীলাচার্য দাদা আমাকে ছবি পাঠিয়েছিলেন। এই ছবির জন্য দাদার কাছে কৃতজ্ঞ প্রকাশ করছি।

উল্লেখ্য গত ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ খ্রি: শনিবার  শ্রদ্ধেয় কবি,গীতিকার, কন্ঠশিল্পী প্রতুল মুখোপ্যাধায় ভারতের কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছেন, তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। আমি তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি। প্রয়াত কন্ঠশিল্পী প্রতুল মুখোপ্যাধায় ১৯৪২ সালের ২৫ জুন অবিভক্ত বাংলার বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। ভারত ভাগের সময় তারা সপরিবার বরিশাল থেকে পশ্চিমবঙ্গে পাড়িজমান। তাঁর অনেক সৃষ্টির মধ্যে ‘আমি বাংলার গান গাই’ বিশেষভাবে সমাদৃত। গানটি ২০১১ সালের মার্চে প্রকাশ হয়।

শ্রদ্ধার সাথে বলছি, প্রতুল দাদার সেই সান্নিদ্ধ্য আমার স্মৃতির জগৎকে সমৃদ্ধ করেছে,স্মৃতিতে  জ্বলজ্বল করছে।তার সাথে তোলা এই ছবি অন্তরের দেয়ালে সাজিয়ে রেখেছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com