বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পীরগঞ্জে মসজিদের ঢালাই কাজের উদ্বোধন বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে আমাদের ভাবনা বিরামপুরে মুখর পরিবেশে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পালিত পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন  পীরগঞ্জ মাতৃসদন ক্লিনিকে প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যু, স্বজনদের আহাজারি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ইন্তেকাল করেছেন

বিজাতীয় সংস্কৃতি গহনযোগ্য নয়

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৫
  • ২৬৭ বার পঠিত

বিজাতীয় সংস্কৃতি গহনযোগ্য নয়

  লেখকঃসুলতান আহমেদ সোনা

বেশ ক’জন শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের দরোজায় এসে প্রবেশের অনুমতি চাইলে, অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান আজাদ  তাদেরকে  আসতে বলেন।

কি বিষয়? জানতে চাইলে, একজন উচ্চতায় ছোট খাটো শিক্ষার্থী জানালো, তারা “র‌্যাগ ডে” পালন করতে চান।

অধ্যক্ষ সাহেব শিক্ষার্থীদের নিকট জানতে চাইলেন বল, র‌্যাগ ডে কি? শিক্ষার্থীরা  র‌্যাগ ডে  সম্পর্কে সঠিক উত্তর দিতে পারেনি। তবে তাদের মধ্য থেকে বলা হলো ,সামনে পরীক্ষা, ক্লাস শেষ  সে কারণে তারা একটি অনুষ্ঠান করতে চান, সেখানে টি সার্ট বিতরণ করা হবে, খাওয়া দাওয়া হবে,আনন্দ করবে তারা।

এ সময় বিশেষ কারণে আমি উপস্থিত ছিলাম।

অধ্যক্ষ সাহেব সাফ জানিয়ে দিলেন, অনুষ্ঠানে তার কোন আপত্তি নেই তবে বিজাতীয় সংষ্কৃতি গ্রহনযোগ্য নয়। এই কলেজে “র‌্যাগ ডে” নামে কোন অনুষ্ঠান হবে না।

এখানে বলে রাখি,পীরগঞ্জ মহিলা কলেজ ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠা  লাভ করেছে। সাবেক সংসদ সদস্য নুর মোহাম্মদ মন্ডলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এই কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন। শিক্ষার পরিবেশ, শৃংখলা, ভালো ফলাফল সব মিলে  এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির বেশ সুনাম রয়েছে।

বলা যায় এ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান আজাদ। তিনি একজন ভালো মানুষ, মেধাবী মানুষ, ভালো শিক্ষকও বটে। এও সত্য, তিনি আগা গোড়া   ধর্মপ্রাণ এবং  ভাবনা, চিন্তা ও চেতনায় একজন  আধুনিক মানুষ। এই কলেজে  লেখা পড়ার পাশা পাশি   সারা বছর ধরে অধ্যক্ষ সাহেবের উদ্যোগে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে। অনুষ্ঠান গুলোর মধ্যে রয়েছে,বর্ষবরণ–পান্তা উৎসব,নবান্ন ও পিঠা উৎসব, বার্ষিক বনভোজন বা শিক্ষা সফর, সপ্তাহ ব্যাপী বিভিন্ন বিষয়ের উপর সেমিনার, খেলাধুলা তো আছে। সেই সাথে জাতীয় দিবসগুলো পালন করা হয়। এর মধ্যে “র‌্যাগ ডে” পালনের প্রস্তাব তিনি গ্রহন করতে পারেন নাই।

আপনারা জানেন,র‌্যাগ ডে,(Rag Day ) শব্দের অর্থ্ হলো হৈহুল্লোড়ের দিন বা গোলমাল দিবস। বছরের যে কোন দিনে শিক্ষার্থীদের উদযাপনের অনুষ্ঠানকে সাধারণত র‌্যাগ ডে (Rag day)    বলা হয়ে থাকে। স্কুল-কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবনের শেষ দিনে শিক্ষার্থীরা এই দিনটিকে পালন বা উদযাপন করে থাকে। জানা যায় ১৯২৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বপ্রথম র‍্যাগ’ডে পালনের প্রচলন শুরু হয়েছিল ।বাংলাদেশেও  র‌্যাগ ডের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে র‌্যাগডে প্রভাবিত করছে। অবশ্য মফঃস্বলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনো রাগ ডের প্রবেশ ঘটেনি ।  আমরাও চাই না র‌্যাগ ডে নামের অপসংষ্কৃতি তরণসমাজকে প্রভাবিত করুক।

কেউ প্রশ্ন করতে পারেন র‌্যাগ ডে’তে কি হয়? র‌্যাগ ডে’তে  সহপাঠীদের মধ্যে টি-শার্ট বিতরণ, গান-বাজনা, ঢোল-তবলা, রং মাখামাখি, নারী-পুরুষের অন্যরকম মেলামেশা, ইভটিজিং, অশ্লীল কর্মকাণ্ড হেনস্তা করার মত ঘটনা ঘটে। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনুষ্ঠানের প্রয়োজন আদৌ আছে কি ? এ ব্যাপারে সচেতন পাঠকমহল অবশ্যই তাদের মতামত  প্রকাশ করবেন বলে আশা করি।

অধ্যক্ষ সাহেবকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি যে, তিনি তার কলেজের তরুনীদেরকে র‌্যাগ ডে থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com