বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পীরগঞ্জে মসজিদের ঢালাই কাজের উদ্বোধন বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে আমাদের ভাবনা বিরামপুরে মুখর পরিবেশে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পালিত পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন  পীরগঞ্জ মাতৃসদন ক্লিনিকে প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যু, স্বজনদের আহাজারি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ইন্তেকাল করেছেন

হতভাগাদের দিকে সুদৃষ্টি দিন

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৪
  • ১৭২ বার পঠিত

 হতভাগাদের দিকে সুদৃষ্টি দিন  

   লেখক-  সুলতান আহমেদ সোনা

বড় কস্টে আছে সাধারন মানুষ, তাদের কথা শুনতে হবে , তাদের কথাও বলতে হবে, লিখতে হবে, এমন দাবী জানিয়েছে সাধনা রাণী (৩৮)।

সাধনা রানী বিখ্যাত কেউ নয়, একজন গৃহবধু। নিম্ন মধ্যবৃত্তের সংসারে তার দুই কন্যা একপুত্র ও স্বামী নিয়ে ঘরসংসার।

সাধনা রাণীর পৈত্রিক নিবাস গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলার বাদিয়াখালি গ্রামে।খুব ছোট থাকতেই পীরগঞ্জ উপজেলা সদরের  প্রজাপাড়ার পাল পাড়ায় তার বিয়ে হয়েছে। সেও পাল, তাদের প্রধান কর্ম  মাটির হাড়ি পাতিল তৈরী করা  কিন্তু  হাটে বাজারে মাটির হাড়ি পাতিলের চাহিদা আগের মত নেই। এখন নানা পেশার সাথে জড়িত পালরা।

সাধনা রাণী মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। এখন পরিবারে স্বামী,পুত্র ও সে নিজে মিলে ৩ জনের সংসার।

স্বামী রবীন পাল মাটির  কাজ জানলেও এখন ভ্যান চালায়। বলা যায় এখন আয়ের পথ ভ্যান। ছেলে অরবিন্দু রাজমিস্ত্রীর সাথে কাজ  করে। সাধনাও বসে থাকে না, সুযোগ পেলে অন্যের জমিতে আলু তুলতে যায়, কচু তোলে। মজুরী বেশী নয়, সারা দিন কাজ করলে  দু’তিনশ টাকার মত পায়। তাতেই খুশি, কারণ বসে থাকার চেয়ে কাজ করা ভালো। তাও আবার নিয়মিত কাজ পায়না সে।

ক’দিন আগে পালপাড়ায় সাধনার সাথে  দেখা হলে তাদের খোঁজ খবর নেই । আমিও  ওই পাড়ার কাছা কাছি থাকি। লেখালেখি করি,  সংবাদপত্রের লোক সেটা সেও জানে। তাই দেখা হওয়ায় জানার চেষ্টা করি, প্রজাপাড়ার  পালরা কেমন আছে!

সাধনার কাছে  তার  সংসারের হাল হককিত জানতে চাইলে অভাব,টানাপোড়নের মধ্যে থেকে একটুকরো হাসি হেসে সাধনা রাণী মনের কষ্ট গুলো প্রকাশ করার চেষ্টা করে। সাধনা রাণী  বলে, তাদের দিন কাল ভালো যাচ্ছে না। জিনিস পত্রের দাম বেশি। যে আয় হয় তা দিয়ে কোনমতে  খেয়ে পড়ে বেঁচে আছে তারা। কথা বলার সময় মুখখানা ফ্যাকাসে হয়ে যায় সাধনার!

সাধনা রাণী আরো জানায়, তাদের কোন আবাদ নেই, হাতে করা তাতেই খাওয়া পরা। সব কেনা! চাউল, তরি তরিকারী  সবই কিনতে হয়। ডাল, আলু, বেগুন মরিচ পিঁয়াজ,নুন তেল সবই কিনে খায় তারা।  মাছের বাজারে  যায় না তার স্বামী। দাম বেশি। তাই বাজারে কমদামে যা শাক,পাতা পায় তাই কিনে নিয়ে আসে রবীন পাল। সাধনা রাণী বলেছে,বড় কষ্টে আছে মানুষ। তারা কদিন আগে একটা কাঁচা মরিচ  এক টাকায় কিনেছে। পিঁয়াজ, রসুন, আদা,গরম মসলা কেনার সামর্থ তাদের নেই।

শুধু সাধনা রাণী নয়, প্রজাপাড়ার পালরাই নয়, নিম্ন আয়ের মানুষ সবাই কষ্টে আছে।

সাধনা রাণী বলেন, দাদা আমাদের কথা একটু লিখবেন, বলবেন । তার দাবী, সরকার যেন নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন। দাম কমানোর চেষ্টা করেন।

আমরাও মনে করি , নিম্ন আয়ের মানুষদের কথা ভেবে বাজার অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। একটা ডিম ১৪/১৫ টাকা। এক কেজি  মশুর ডাল ১২০টাকা, তিন আঁটি শাক ২০ টাকা, পটল ৪০টাকা, বেগুন ৪০টাকা,ওল ৭০ টাকা, কচু ৭০টাকা, করলা ৬০ টাকা, পিঁয়াজ ১২০টাকা, রসুন ২৫০টাকা, আদা ২৫০টাকা, ব্রয়লার এক কেজি ১৭০টাকা, মাছা ২৫০ থেকে সাড়ে তিনশ টাকা কেজি। তেল ২০০টাকা কেজি। চাউল মোটা প্রায় ৫০টাকা, এমন পরিস্থিতিতে খেটে খাওয়া মানুষের মজুরী বাড়ে নাই মোটেও।

শুধু তো পেটের কথা ভাবলেই হবে না। জামা কাপড়, ঔষধ পত্র এসবও তো আছে।আমার ধারণা, সাধনা রাণীরা যত সাধনাই করুক এই অবস্থায় তারা তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারবে না , যদিনা সরকার, হতভাগাদের দিকে সুদৃষ্টি না দেয়।

বলছি, দেশে একটা বিপ্লব হলো, আগের সরকার জনরোষে পালিয়ে গেলো। বিপ্লবী সরকার ক্ষমতায় আছে; এই সরকারের কাছে সাধরণ মানুষের অনেক প্রত্যাশা। সাধারণ মানুষ শুধু সরকারের বদলে সরকার চায়না। মানুষ চায় সর্বক্ষেত্রে সংষ্কার, জীবনমানের উন্নয়ন, উন্নতি সুখ শান্তি সমৃদ্ধি।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com