বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পীরগঞ্জে মসজিদের ঢালাই কাজের উদ্বোধন বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে আমাদের ভাবনা বিরামপুরে মুখর পরিবেশে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পালিত পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন  পীরগঞ্জ মাতৃসদন ক্লিনিকে প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যু, স্বজনদের আহাজারি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ইন্তেকাল করেছেন

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৮২ বার পঠিত
বাংলা নববর্ষ ও চৈত্রসংক্রান্তি
 লেখক- আতিক আজিজ
প্রাচীনকাল থেকে বাঙালি তার মেধা, মনন আর সৃষ্টিশীলতা দিয়ে নিজেকে অতিক্রম করেছে। বাঙালি জাতির ইতিহাস যেমন বহুভাবে সমৃদ্ধ ঠিক, একইভাবে বাংলা সনের ইতিহাসও বেশ সমৃদ্ধ।
বাঙালির আত্মপরিচয়ের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে এর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও সভ্যতা। হাজার বছরের ধারাবাহিক ইতিহাস সেকথারই সাক্ষ্য দেয়।একসময়কার স্বর্ণবণিকদের হালখাতার মধ্যে যে পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ  সীমাবদ্ধ ছিল তা আজ হয়ে উঠেছে সার্বজনীন। পহেলা বৈশাখ আজ বাঙালির প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে।
প্রায় পাঁচশ বছর আগে মোঘল সম্রাট আকবর আরিখ-ই-ইলারিং হিসেবে প্রচলনের উদ্দ্যোগ নেন। ইলাহির আরেক নাম রাজস্ব বার্চ বালি সন। সহজেই অনুমেয় এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য  ছিল রাজস্ব আদায় কৃষকের ঘরে ফসল ওঠার সময় বিবেচনায় রেখে সৌর গণনায় ওপর ভিত্তি করে ১০-১২ মার্চের মধ্যে আকবরনামায় ইলাহি- বর্ষারম্ভের দিন রেকর্ড  করা হয়। এই তারিখই ইলাহির সাথে সংগতি রেখে স্থানীয় পরিষেশ ও প্রতিবেশ অনুযায়ী বাংলায় রাজা টোডরমলের আমল হতে প্রথম বৈশাখ থেকে বাংলা সন বা বঙ্গাব্দের হিসাব শুরু হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশে গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকা অনুসারে বাংলা দিনপঞ্জি নির্ধারিত হয়। আমরা সেই অনুসারেই এখন চলছি।
বঙ্গাব্দের প্রচলন নিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক রয়েছে। যা নিতান্তই গবেষকদের আলোচনার বিষয়। তবে বাংলার কৃষিভিত্তিক জীবনের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনার সাথে অর্থাৎ ফসল ঘরে তোলার সাথে বৈশাখ নিঃসংশয়াতীতভাবে সম্পর্কিত। হিন্দু সম্প্রদায় চৈত্রসংক্রান্তি ও নববর্ষ উপলক্ষ্যে লোকাচারভিত্তিক নানা পুজো-পার্বণের আয়োজন করে। কিন্তু হিন্দু মুসলিম সম্প্রদায় নির্বিশেষের জন্য পহেলা বৈশাষ সাধারণ কৃষক প্রজার জমিদারের রাজস্ব আর মহাজনের দেনা পরিশোধের দিন হিসেবে, ধার্য হয়। পহেলা বৈশাখ আর নববর্ষ ওতোপ্রোভোভাবে জড়িত। নতুন বছরের শুরুতে লালশালুতে মোড়ানো খাতায় নতুন করে হিসাব খুলে পাওনাদারদের মিষ্টি বিতরণ প্রথাটাই ‘হালখাতা’ হিসেবে প্রচলিত আরবি ‘হাল’ আর ফারসি খাতা’ মিলে বাংলার ‘হালখাতা’ নববর্ষ উৎসবের প্রধান একটা অঙ্গ। দেনাদায়ে জর্জরিত কৃষক ও সাধারণ মানুষের কত উপশমে। ‘হালখাতা’ সাময়িকভাবে যন্ত্রণা ভুলে থাকার সুন্দর একটা প্রলেপ। পাওনা আদায়ের দৃষ্টিকটু দিকটা এড়ানোর জন্য মিষ্টি বিতরণ, সাথে ক্ষেত্রবিশেষে, ক্যালেন্ডার বিলি সবার জন্যই উন্মুক্ত ছিল। হালখাতার প্রচলন আজও আছে। তবে আঙ্গিক স্বাভাবিকভাবেই বদলে গেছে।
চৈত্রসংক্রান্তি আর নববর্ষ অভাব-অনটন-অশিক্ষা-স্বাস্থ্যহীনতায় জর্জরিত গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের জীবনেও কিছু আলোড়ন তোলে বলেই সেদিনের সমাজচিত্র সাক্ষ্য দেয়।
 কিন্তু তা নিতান্তই অনস্থায়ী বাস্তবতা অনেক কঠিন। একদিকে ব্রিটিশ নীলকরদের প্রত্যক্ষ অভ্যাচার-নির্যাতন, অন্যদিকে জমিদার-মহাজনশ্রেণির নানাবিধ নিষ্পেষণে কৃষক ও সাধারণ মানুষ সদা ভিত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় দিন কাটান। সেই হতভাগাদের। জীবনে চৈত্রসংক্রান্তি বা নববর্ষের আসা-যাওয়ার মাঝে একটা বড় ফাঁক আর ফাঁকি ছিল।
মোঘল সম্রাট আকবর (১৫৫৬-১৬০৫) তাঁর সিংহাসনে আরোহণের দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ১৫৮৪ সালের ১০ বা ১১ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ ধরে বাংলা সাল গণনা করার প্রয়াস গ্রহণ করেন। তিনি তাঁর রাজত্বকালে ভারত উপমহাদেশের সর্বত্র এই ফসলি সনের শুরু করেন। এর আগে বড়ো বড়ো রাজা-বাদশারা তাঁদের রাজ্য প্রতিষ্ঠার সময় থেকে জীবনের বিশেষ দিন থেকে সাল বা অব্দ গণনা করতেন। যেমন-শকাব্দ, কলাব্দ, হর্ষাব্দ, হির্মাব্দ, বিক্রমাব্দ।
বাংলা সালের গণনা শুরু হয় সম্রাটের সিংহাসনে আরোহণের এক মাস পরে ১১ এপ্রিল ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দ অনুযায়ী ১৪৭৮ শকাব্দ। সেই হিসাবে দেখা যায়, মূল খ্রিষ্টীয় সাল থেকে এর বয়স ৫৯৩ বছর ৩ মাস ১১ দিন কম। মোটামুটি বাংলা সালের সঙ্গে ৫৯৩ বছর যোগ করলে খ্রিষ্টীয় সালের হিসাব মেলে। পহেলা বৈশাখ বাঙালির জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সৌর পদ্ধতির সন। ভারত সরকার ১৯৫৩ সালে সংশোধন করে জাতীয় সনরূপে গ্রহণ করে।
বাংলা সালের জন্ম ৯৬৩ হিজরিতে। সেই হিসাবে বাংলা সালের বয়স হিজরি সালের সমান। পঞ্জিকা বিশ্লেষকদের কাছে তাই সংগত কারণে প্রশ্ন, বাংলা সালের সাথে হিজরি সালের এত পার্থক্য কেন?
৯৬৩ হিজরি (১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দ) থেকে চালু হলেও আসলে সেটা ছিল তার দ্বিতীয় স্তর মাত্র। আদি স্তরে অর্থাৎ ৬২২ খ্রিষ্টাব্দ থেকে শুরু করে ১৫৫৬ (৯৬৩ হিজরি) খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত কোনোরূপ ব্যতিক্রম না করে ১৫৫৭ (৯৬৪ হিজরি) খ্রিষ্টাব্দ থেকে উভয়ের গতিপথ বদলে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ হিজরি, হিজরি সালই রয়ে গেছে আর বাংলা সাল সৌর পদ্ধতিতে রূপান্তরিত হয়েছে। এভাবে উভয় সালেরই হিসাব প্রতিবছর যথাক্রমে ১০/১১ দিন পিছিয়ে গেছে এবং হিজরি সাল চান্দ্র পদ্ধতির হওয়ায় প্রতিবছর ১০/১১ দিন পিছিয়ে গেছে এবং হিজরি সাল চান্দ্র পদ্ধতির হওয়ায় ১০/১১ দিন এগিয়ে গেছে। উল্লেখ্য যে, চান্দ্র বছর প্রতি চলতি বছরে ১১ দিন বাড়তে বাড়তে যখন ৩ বছরে ৩২ দিনের বেশি তফাত হয়ে পড়ে তখন একটি চান্দ্র মাস বাদ দিয়ে ‘সাবনমিতি’ করা হয়। চন্দ্রের সংক্রান্তির পর থেকে অর্থাৎ সূর্য যখন এক রাশি ছেড়ে অন্য রাশিতে প্রবেশ করে তখনই মাসের শুরু এবং চাঁদ যে মাসে যে নক্ষত্রে এসে পূর্ণিমা দেখায় তা থেকে মাসের নামকরণ করা হয়। বৈশাখ মাসে চাঁদ বিশাখা নক্ষত্রে এসে পূর্ণিমা ঘটায় বলে তার নাম রাখা হয়েছে ‘বৈশাখ’।
-রবীন্দ্রনাথ ও তার পরবর্তী লেখক-কবিদের হাতে বৈশাখ ও নববর্ষ বাংলার মানুষের নবজাগরণের প্রতীক হয়ে ওঠে
সকল জড়তা তামস উত্তীর্ণ করে, সকল ক্লাতিজ্বালা দীর্ণবিদীর্ণ করে-‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’… নববর্ষের আবাহনী গীতি হিসেবে কন্ঠ থেকে কণ্ঠে ছড়িয়ে পড়ে। স্বদেশ আাদনায় বেজে ওঠে-
‘আজ বাংলাদেশের হৃদয় হতে কখন আপনি
তুমি এই অপরূপ রূপে বাহির হলে জননী।,,,
কাজী নজরুল ইসলামের তেজোদ্দীপ্ত বাণী ও সুরে মাতম জাগে মধ্যবিত্ত বাঙালি জীবনে-‘তোরা সব জায়ফানি কর। ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কালবোশেখীর ঝড়। / আসল এবার অনাগত প্রলয়-নেশায় নৃত্যপাগল / সিন্ধুপাড়ের সিংহদ্বারে ধমক হেনে ভাঙল আগল/ মৃত্যু-গহন অন্ধকূপে মহাকালের চণ্ড-রূপে ধুম্র-ধূপে / বজ্র শিখার মশাল জ্বেলে আসছে ভয়ংকর।/ ওরে ঐ আসছে ভয়ংকর / তোরা সব জয়ধ্বনি কর।’
অতুলপ্রসাদের কণ্ঠে ও কলমে পাই,
‘আজি হিয়ার মাঝারে জগতে বাহিরে ভরিয়া উঠুক। প্রীতি গো।/আজি নূতন আলোকে নূতন পুলকে/ দাও গো ভাসিয়ে ভূলোকে দ্যুলোকে, / নূতন হাসিতে বাসনারাশিতে জীবন মরণ। ভরিয়ে দাও।।
বলাবাহুল্য বাংলার নবজাগরণে নববর্ষকে আত্মীকরণের এই ধারা ছিল অবিভক্ত বাংলাকেন্দ্রিক। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য ভাবতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসকদের ধর্মভিত্তিক বিভাজনের রাজনীতি পাঞ্জাব ও বাংলাকে নির্মমভাবে দ্বিখণ্ডিত করে দেশভাগ সম্পাদন করে।
এর ফলে বাঙালির অতীত, বাঙালির অর্জন, বাঙালির নৃতাত্ত্বিক আত্বপরিচয়, বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের উপলব্ধির জায়গা বড়ো একটা ধাক্কার মুখোমুখি হয়। কিন্তু কোনো অপতৎপরতাই শাশ্বত হতে পারে না। রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের যুগপৎ সংমিশ্রণে ভাষাভিত্তিক জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই জাতিরাষ্ট্রের মধ্যেও বহু ভাষাভাষী জাতিসত্তা অন্তর্ভুক্ত। বৈশাখ কাউকে দূরে ঠেলার কথা বলে না। ত্রিপুরা, মারমা, চাকমা আদিবাসীদের বৈসুক, সাংগ্রাই, বিজু একত্রে ‘বৈসাবী’ উৎসব পহেলা বৈশাখের তারিখেই পালিত হয়। অন্যান্য আদিবাসী সম্প্রদায় তাদের মতো করে নববর্ষ পালন করে। যা কোনো ধর্মীয় বা শ্রেণিক নয়। লাওস, ব্রহ্মদেশ, কাম্পুচিয়া, থাইল্যান্ড, সিংহল, আফগানিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও ভারতের বিভিন্ন রাজ্য পহেলা বৈশাখ থেকে নববর্ষ শুরু করে। মাটি ও নদীর জীবনপ্রবাহের সহস্রাব্দ দূরকে নিকট করে। পরকে আত্মীয় করে।
উল্লাসে কালবৈশাখী নৃত্যের সাথে সাথে যা কিছু বিবর্ণ, যা কিছু বিট কিছু পুরাতন বছরের নিষ্ফল সঞ্চয় তার অবসান হোক।।
এই চাওয়া অনেকটাই আবেগতাড়িত মনে হয়। বছর ঘুরে যায়। আবারও হিসাবের অলিখিত খাতায় জমা হয় নিত্যদিনের ব্যক্তি ও সমাজজীবনের গ্লানি, অপমান, হিংসা, ঘৃণা, ভয়, সন্ত্রাস, লোভ, লোলুপতা। জমা হয় প্রতিকারহীন অপরাধের পাহাড় আর বিচারহীনতার অপসংস্কৃতি। ভাষা-ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি নিয়ে তৈরি হয় ধোঁয়াশার পাহাড়। জীবনানন্দের জেঁকে বসা অদ্ভুত আঁধার ক্রমশই সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্পে ঘনীভূত হয়ে ওঠে। বাঙালির আত্মপরিচয়ের সংকটের সাথে সংঘর্ষ কেটে কেটে তবু পথচলার লড়াই শেষ হয় না।
এই শক্তি, এই প্রেরণার উৎস বৈশাখের চেতনা। ‘৫২ থেকে ‘৭১ বৈশাখ বাংলার মানুষকে দিয়েছে আত্মত্মনিয়ন্ত্রণ-স্বাধিকার-স্বাধীনতার লড়াইয়ে বুকের পাঁজর জ্বালিয়ে পথচলার প্রেরণা। কবি সমুদ্র গুপ্তর অসাধারণ পঙক্তিমালার অংশবিশেষ উদ্ধৃত করতেই হয়।
-‘যুদ্ধের প্রথম মাসে এসেছিল পয়লা বৈশাখ
মেঘের ডম্বরু ফেলে হাতে হাতে উঠেছিল
স্বাধীনতা যুদ্ধের বজ্রনিনাদ
যুদ্ধমুখী তার স্বাধীনতা দেখে ফেলা চোখ
আমাদের জেগে ওঠার
প্রথম সাক্ষী ছিল বৈশাখী মেঘ।’…
কথা কিন্তু তারপরও থেকে যায়। কলুর বলদের মতো ঘানি টানা এই সহজ-সরল মানুষগুলোর বেঁচে থাকার মূলে অন্য এক জীবনীশক্তি অবশ্যই ছিল। ঋতুতে ঋতুতে এই মানুষগুলো লোকজ শিল্প ও সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতেন নিজেদের মধ্যে, নিজেদের মতো করে। নববর্ষ ঘিরেও । পল্লিতে পল্লিতে বৈশাখী মেলা, যাত্রা, পালাগানের আসর, নৌকাবাইচ, গরু দৌড়, বলী খেলার আয়োজন হতো। অঞ্চলে অঞ্চলে কিছু ভিন্নতা থাকলেও বৈশাখী মেলা আর উৎসব ছিল ঘরকে বাহির আর বাহিরকে ঘরে আনার উন্মুক্ত মুহূর্ত। বাউল, বৈষ্ণব, সুফিবাদের উদার মরমীয়া প্রভাব বাংলার লোকসংস্কৃতিকে অন্য এক মাত্রা দিয়েছে শত শত বছর ধরে। শাসকের রাজনীতির কুটিল আবর্তের মধ্যেও অসাম্প্রদায়িক-মানবিক চেতনার বলিষ্ঠ মূর্ছনায় আবিষ্ট ছিল বাংলার লোকসমাজ-‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি।’ এই ছিল মূল কথা।
পহেলা বৈশাখ মানে হলো পুরনোকে বিদায় জানিয়ে নতুনকে ভরে বরণ করে নেওয়া। বর্ষবরণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। বাঙালির মধ্যে বৈশাখ গভীরভাবে সম্পৃক্ত হয়ে আছে। পহেলা বৈশাখ এই সর্বজনীন উৎসব
 আয়োজনের মধ্যে পদাবলির হাজার বছরের লালিত ইতিহাস ও ঐতিহ্য ঐতিহ্য পলে পলে পলে প্রতিফলিত হয়। #
লেখক : কবি সাংবাদিক প্রাবন্ধিক গবেষক মানবাধিকারকর্মী।
+++++++++++++++
আতিক আজিজ
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : দৈনিক শ্যামবাজার
সম্পাদক : কাঁচামাটি ( শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির কাগজ)
প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান : জাতীয় পরিবেশ মানবাধিকার সোসাইটি (জাপমাস)
১৬/১, কোর্ট হাউজ স্ট্রীট, ঢাকা- ১১০০
মোবাইল : ০১৭১২ ৩৮৪২৬৫

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com