বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
বিরামপুরে মুখর পরিবেশে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পালিত পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন  পীরগঞ্জ মাতৃসদন ক্লিনিকে প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যু, স্বজনদের আহাজারি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ইন্তেকাল করেছেন পীরগঞ্জে থমকে গেছে পৌরসভার  সড়কের উন্নয়নের কাজ!!-প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা এলাকাবাসীর পীরগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার স্বর্ণের হার ছিনতাইয়ের অভিযোগ

ঘোড়াঘাটে সরকারী ধান চাল ক্রয়ে প্রতি কেজিতে ১ টাকা উৎকোচ নেয়ার অভিযোগ 

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২০
  • ৫৩৮ বার পঠিত

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ।- সরকারি ভাবে ধান চাল ক্রয়ে হিমশিম খাচ্ছে সরকার যখন ঠিক তখনি দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কাঞ্চন সম্মেলন কক্ষে এক উচ্চ পর্যায়ের সভায় এমন অভিযোগ করেছেন ঘোড়াঘাট উপজেলার ধান চাল মিলারদের পক্ষ থেকে ভাই ভাই মিল চাতাল মালিক ইসমাইল হোসেন।
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার মিল চাতাল মালিকদের পক্ষ থেকে ইসমাইল হোসেন উচ্চ পর্যায়ের এ সভায় অভিযোগ করেছেন যে, উপজেলার হরিপাড়া খাদ্য গুদামে গুদাম কর্মকর্তা ফজিলা বেগম গত ২৫ অক্টোবর সকাল ৯টায় উপজেলা খাদ্য গুদামে যায়। তার বরাদ্দকৃত চালের মধ্যে সাড়ে ৬ টন চাল দিতে। এ চাল দিতে নানা ভাবে তাকে হয়রানী করে শেষ মেষ চাল সার্টারিং করে গুদামে তোলে। বিকেলে পৌনে তিনটা পর্যন্ত তাকে ডাব্লিউ কেসি কেটে না দিয়ে ৩টার সময় গুদাম কর্মকর্তা তার নিজ একটি গারো সবুজ কালারের প্রাইভেট কারে তুলে নিয়ে ইসমাইলকে রানীগঞ্জ সোনালী ব্যাংক শাখায় যায়। গুদাম কর্মকর্তা নিজ প্রাইভেট কারে ব্যাংকে না গিয়ে নিজ মোটর সাইকেলে যেতে চাইলে চাপের মুখে মোটর সাইকেলটি গুদামের ভিতর রেখেই প্রাইভেট কারে যেতে হয়। ব্যাংকে পৌছানোর পর গুদাম কর্মকর্তা চাতাল মালিক ইসমাইলের হাতে টাকা উত্তোলনের ডাব্লিউ কেসি হাতে দেয়। সাড়ে ৬ টন চালের সরকারি মূল্য অনুযায়ী ইসমাইল ২ লাখ প্রায় ২০ হাজার টাকা উত্তোলন করলে গুদাম কর্মকর্তা তার সাথেই সিড়ি বেয়ে নিচে নামার সময় ৩০ হাজার টাকা হাওলাদ হিসেবে চেয়ে নেয় এবং নিজ প্রাইভেট কারে করে পুনরায় গুদামে ফিরে আসেন। গুদামে এসে গুদাম কর্মকর্তা হাওলাদি ৩০ টাকার মধ্যে ১৪ হাজার টাকা ফেরত দেয় মিল মালিক ইসমাইলকে। এ সময় মিল মালিক অনেক অনুরোধ করে বলেন, আমরা সরকারী চাল দিতে গিয়ে বহু লোকসানের মুখে পড়েছি। আপনি ৪/৫ হাজার টাকা নেন। এর পূর্বেও চাল দিতে আপনি ১৬ হাজার টাকা নিয়েছেন। কিন্তু কর্মকর্তা তার কোন কথায় কর্ণপাত করেননি।
গত ২৬ অক্টোবর দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় কাঞ্চন সভা কক্ষে জেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগ দিনাজপুর এর আয়োজনে বোরো ধান চাল সংগ্রহ বিষয়ক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সারোয়ার মাহমুদ, মহাপরিচালক, খাদ্য অধিদপ্তর। বিশেষ অতিথি ছিলেন, আব্দুস সালাম, আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক, রংপুর বিভাগ। সভায় সভাপতিত্ব করেন, জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম। এ সভায় প্রতি উপজেলা থেকে উপস্থিত ছিলেন মিলারবৃন্দ।
এ সভায় ঘোড়াঘাট উপজেলা থেকে ৮ জন মিল চাতাল মালিক উপস্থিত ছিলেন। ঘোড়াঘাট মিলারদের পক্ষ থেকে ইসমাইল সভায় এমন অভিযোগ করেন।
চলতি বছর ঘোড়াঘাট উপজেলায় ২১’শ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্য মাত্রা রয়েছে। ইতিমধ্যে হরিপাড়া খাদ্য গুদামে ৫’শ ৫০ মেঃ টঃ চাল সংগ্রহে লক্ষ্য মাত্রা থাকলেও এ পর্যন্ত মাত্র ১’শ ৭৫ মেঃ টঃ চাল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। তার অসদাচারনে কোন মিলার গুদামে যেতে সাহস পাচ্ছে না।
গত ২৬ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভায় ইসমাইল হোসেনের দেয়া বক্তব্য ঘোড়াঘাট উপজেলা এখন টক অব দ্যা নিউজ হয়ে সব খানেই একই আলোচনা। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আবার কিছু মিলার চাল গুদামে সরবরাহ না করেই ডাব্লিউ কেসি নেয়ার জন্য ধর্না দিচ্ছে। কিছু ব্যক্তি ঘটনায় ইসমাইলের সাথে মিমাংসা করে দেয়ার জন্য ধর্না দিচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে মিল মালিক ইসমাইলের সাথে সাক্ষাতে এবং মুঠো ফোনে ধারনকৃত কথা বার্তায় একই অভিযোগ শতাধিক লোককে জানিয়েছেন। ইসমাইল আরও জানিয়েছেন তার মতো আরও মিল মালিক তার হয়রানীর স্বীকার হচ্ছেন। ইসমাইলের অভিযোগটি জেলা প্রশাসকের কক্ষে উত্থাপিত হলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার কথাও বলেছেন উপস্থিত কর্তৃপক্ষরা। কিন্তু আদৌ তদন্ত হবে কি না তাও নিয়ে সন্দেহ করছে মিল মালিকরা। এ ব্যাপারে হরিপাড়া খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা ফজিলা বেগমের সাথে কথা হলে তিনি এ উৎকোচ নেয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি তার প্রাইভেট কারের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে জানান, এটি তার ভাড়া করা কার। কিন্তু মাসের পর মাস কেন প্রাইভেট কারটি ভাড়া করে রাখা হয়েছে এমন প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেননি তিনি।
হরিপাড়া খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার গত আমণ ধান থেকে চলতি বোরো ধান সংগ্রহ পর্যন্ত প্রতি টনে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা নেয়া সহ নানা অভিযোগ শতকরা ৯০ ভাগ লোকের মুখে। জন সম্মুখে তদন্ত হলে মানুষ তার এ সব দূর্ণীতির প্রমাণ দিতে আগ্রহী হয়ে রয়েছে।
একটি নির্ভর সুত্রে জানা গেছে, সরকারী বরাদ্দ ধান চালের বস্তা সে বিক্রি করে পুরাতন পুষ্টির বস্তা ক্রয় করে তাতে ধান চাল সংগ্রহ করে গুদামে রাখার অভিযোগও রয়েছে।

ক্যাপশন ঃ গত ২৬ আগষ্ট দিনাজপুর জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে কাঞ্চন সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মত বিনিময় সভা

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com