বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পীরগঞ্জে মসজিদের ঢালাই কাজের উদ্বোধন বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে আমাদের ভাবনা বিরামপুরে মুখর পরিবেশে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পালিত পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন  পীরগঞ্জ মাতৃসদন ক্লিনিকে প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যু, স্বজনদের আহাজারি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ইন্তেকাল করেছেন

(গল্প)-মিতুল ও তার পরী বন্ধু  

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ১৮ জুলাই, ২০২৫
  • ১৩৯ বার পঠিত

মিতুল ও তার পরী বন্ধু  
মাসুদ রানা

মিতুলের বয়স মাত্র বারো। সে একদমই সাধারণ ছেলে, কিন্তু তার একটা বিশেষ গুণ আছে—সে অসাধারণ বাঁশি বাজাতে পারে। যেন বাঁশির প্রতিটি সুরে ফুল ফোটে, পাখিরা নেচে ওঠে, নদী থেমে শুনে, আর বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে মায়াবী মাদকতা।

মিতুলের বাড়ি গ্রামের একটু পাশে। তার বাড়ির ছাদটা খুবই খোলা আর নিরিবিলি। রাতে সে মাঝেমধ্যেই ছাদে উঠে বসে আর তার প্রিয় বাঁশিটা নিয়ে সুর তোলে। একদিন গভীর রাতে, চারদিকে নীরবতা, আকাশে পূর্ণিমার আলো—মিতুল ছাদে বসে বাঁশি বাজাচ্ছে।

হঠাৎ একটা ঝকঝকে আলো আকাশ থেকে নিচে নেমে এল। আলোটা একসময় ধীরে ধীরে মানুষের রূপ নিলো। কিন্তু সে সাধারণ মানুষ নয়—সে একটা পরী! চকচকে সাদা ডানাওয়ালা, চোখে তার দীপ্তি, মুখে মিষ্টি হাসি।

মিতুল চোখ কচলে দেখল। “তুমি কে?” সে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল।

পরী হেসে বলল, “আমি তারা, আকাশের তারা থেকে এসেছি। তোমার বাঁশির সুর আমাকে ডেকে এনেছে। এত সুন্দর সুর আমি বহুদিন শুনিনি!”

মিতুল অবাক হলেও ভয় পায়নি। বরং সে খুশি হলো। তার বাঁশির সুরে কেউ এতটা মুগ্ধ হয়েছে ভাবতেই তার বুকটা ভরে উঠল আনন্দে।

তারপর থেকে প্রতিদিন রাতে মিতুল ছাদে বসে বাঁশি বাজাত, আর পরী তারা এসে হাজির হতো। তারা দুজন একসাথে বসে গল্প করত, হেসে হেসে নাচত, খেলে বেড়াত। তারা কখনো কখনো জাদুর ছোঁয়ায় মিতুলকে নিয়ে উড়ে বেড়াত আকাশের তারা ভরা পথে, দেখাতো চাঁদের শহর, দেখাতো আকাশের ফুলবাগান।

একদিন তারা বলল, “তুমি জানো মিতুল, পৃথিবীর সব শিশুদের একটা স্বপ্ন থাকে। কেউ চায় ডাক্তার হতে, কেউ চায় বিজ্ঞানী, কেউ চায় পরীর বন্ধু হতে। কিন্তু তুমি? তুমি কী চাও?”

মিতুল কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, “আমি চাই, আমার বাঁশির সুরে সবাইকে খুশি করতে। চাই দুঃখী মন হাসুক, চাই যুদ্ধ থেমে যাক, চাই পাখিরা গান গাক আমার সুরে।”

তারা চোখে পানি চলে এল। সে বলল, “তুমি একেবারেই আলাদা। তুমি পরীদের রাজ্যে গেলে, সবাই তোমাকে পছন্দ করত। চলো, আজ রাতেই তোমায় নিয়ে যাই!”

মিতুল প্রথমে একটু ভয় পেল, কিন্তু পরে রাজি হয়ে গেল। তারা এক ঝলকে তার হাত ধরে নিয়ে গেল আকাশের উঁচুতে, তারা পেরিয়ে, চাঁদের আলোর নিচে একটা জাদুর দরজা খুলে গেল—সেটাই পরীর রাজ্য।

পরীর রাজ্যটা ছিল স্বপ্নের মত। চারপাশে রঙবেরঙের ফুল, নীল-পানির ঝর্ণা, পাখিরা কথা বলে, আর সব পরীরা মিষ্টি সুরে গান গায়।

মিতুলকে দেখে সবাই খুশি হয়ে গেল। এক বুড়ো পরী বলল, “এই সেই ছেলে যে বাঁশির সুরে আকাশ কাঁপিয়ে দিয়েছে?”

তারা হেসে মাথা নাড়ল। “হ্যাঁ, তিনিই মিতুল।”

তারপর সেদিন পরীর রাজ্যে বড় অনুষ্ঠান হলো। মিতুল সেখানে বাঁশি বাজাল। তার সুরে পাখিরা নাচল, ফুলগুলো হাসল, পরীরা চারপাশে ঘুরে ঘুরে আনন্দে মেতে উঠল। রাজ্যের রাণী পরী এসে বললেন, “মিতুল, তুমি আমাদের রাজ্যের বন্ধু। তুমি চাইলে এখানেই থাকতে পারো।”

কিন্তু মিতুল কিছুক্ষণ চুপ করে বলল, “আমি তোমাদের ভালোবাসি, কিন্তু আমার মা-বাবা আছে, তারা আমাকে খুঁজবে। আমার গ্রামে অনেক ছোট ভাই-বোন আছে যারা আমার বাঁশির সুরে ঘুমায়। আমি ওদের ফেলে থাকতে পারি না।”

সব পরীরা মুচকি হাসল, তাদের চোখে সম্মানের দীপ্তি।

তারা বলল, “তবে চলো, আমরা তোমায় নিয়ে যাই। আর প্রতিদিন রাতের বাঁশির সুরেই আমরা দেখা করবো। তুমি থেকো আমাদের হৃদয়ে।

সেই রাতের পর থেকে প্রতিদিন রাতে মিতুল ছাদে ওঠে, বাঁশি বাজায়। সুর ভেসে যায় আকাশে। আর কোথাও থেকে উড়ে আসে তারা পরী, তারা আবার গল্প করে, নাচে, গান করে।

মিতুল জানে—সে আর একা নয়। তার একজন মায়াবী বন্ধু আছে, আকাশ থেকে আসা এক পরী, যে ভালোবাসে তার সুর, আর সে ভালোবাসে সেই বন্ধুত্ব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com