বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৪ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পীরগঞ্জে মসজিদের ঢালাই কাজের উদ্বোধন বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে আমাদের ভাবনা বিরামপুরে মুখর পরিবেশে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পালিত পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন  পীরগঞ্জ মাতৃসদন ক্লিনিকে প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যু, স্বজনদের আহাজারি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ইন্তেকাল করেছেন

অস্তিত্বের বিষন্ন দেয়াল (কাব্যগ্রন্থ নিয়ে আলোচনা)

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০২০
  • ৬৬২ বার পঠিত

লেখকঃ কবি ফাহমিদা ইয়াসমিন

সুমন মাহমুদ শেখ ।- “অস্তিত্বের বিষন্ন দেয়াল” কবি ফাহমিদা ইয়াসমিনের বইটি অত্যন্ত সহজ সরল ও সাবলীল শব্দে সাধারণ পাঠকের বোধগম্য ভাষায় রচিত একটি কাব্যগ্রš’। কবিতা প্রেমীদের জন্য এটি হতে পারে কাব্য সূধা পানের অন্যতম জনপ্রিয় একটি কবিতার বই। প্রথমেই ভালো লাগলো কবির সহজ-সরল ও মার্জিত শব্দের মজবুত গাঁথুনীকে।

কাব্য-কবিতা,গল্প-উপন্যাস আপনি যাই রচনা করেন না কেন, মনে রাখতে হবে আপনার পাঠক কিন্তু সাধারণ মানুষ।সেক্ষেত্রে তাদের সমতা ও বোধের দিকটা আপনাকেই নজরে রাখতে হবে।দূর্বোধ্য ও কঠিন শব্দের বেড়াজাল থেকে সাধারণ পাঠক পাঠোদ্ধার করতে পারেন না। তাই আপনার অমূল্য সাহিত্য কর্মের মর্মকথা তথা সাহিত্যের রসবোধ থেকে পাঠক বঞ্চিতই থেকে যায়। যা থেকে পাঠক কিছু পায়না তার কাছে সেটা অপ্রয়োজনীয়। আর এভাবেই আপনার অমূল্য সাহিত্য কর্ম কারো কাছে হয়ে ওঠে মূল্যহীন! আর সাধারণ পাঠকের বোধগম্য সহজ-সরল ও প্রচলিত ভাষায় রচিত গ্রš’ বোদ্ধা পাঠকসহ সাধারণের জন্যেও হয়ে ওঠে সাহিত্য বোধের জনপ্রিয় একটি মাধ্যম।

এদিক থেকে কবি ফাহমিদা ইয়াসমিনের কবিতার বই “অস্তিত্বের বিষন্ন দেয়াল” সব ধরণের পাঠকের কাছে সমাদৃত হবে বলেই আমার বিশ্বাস।শুধু শব্দের গাঁথুনীতে নয় কাব্যিক ব্যঞ্জনা ও বিষয় বৈচিত্রেও বইটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও জীবনবোধ সম্পন্ন।যান্ত্রিক সভ্যতায় ব্যস্ত জীবনের পরতে পরতে কবি তার অনুভূতির কথা, অস্তিত্বের কথা সহজ ও শাবলীল শব্দ শৈলীতে বিবৃত করেছেন অত্যন্ত যতœ সহকারে।

প্রেম, প্রকৃতি ও জীবন বোধের কবি ফাহমিদা ইয়াসমিন। সৃষ্টি ও স্রষ্টার প্রেম, মাতৃত্ববোধ ও নারীর প্রতি সমাজের দায়, মাটি ও নাড়ীর টান,পরিমিত রাজনৈতিক সচেতনতা, নিভৃত পল্লীর প্রকৃতির মায়াজাল এমন প্রতিটি বিষয়ের প্রতি কবির ভালোলাগা, ভালোবাসা ও গভীর অনূভূতির কথা খুব সুন্দর ও সহজ ভাষায় তুলে ধরেছেন এই গ্রন্থে।

একজন সফল শব্দচাষী হিসেবে কবি জীবন সংলগ্ন সজিব উপমা ব্যবহার করে পাঠকের একেবারে চোখের সামনে তুলে ধরেছেন কিছু জীবন্ত কবিতা, যেন নিভৃতে কথা বলে পাঠকের সাথে।সিলেটের মৌলভীবাজারের একটি সমভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন কবি ফাহমিদা ইয়াসমিন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাত্রে পূণ্যভূমি সিলেটের নৈসর্গিক পরিবেশে কেটেছে কবির শৈশব – কৈশোর। মৌলভীবাজার মহিলা কলেজ থেকে বি এস এস পাশ করেন। অতঃপর পাড়ি জমান সুদূর লন্ডনে। পারিবারিক জীবনে ওনি দুই সন্তানের জননী ও একজন শিকিা। লেখালেখির অভ্যাস দীর্ঘদিনের। সংসার, স্বামী,সন্তান ও পেশাগত ব্যস্ততার পরও সাহিত্যচর্চায় কোন বিরাম নেই তার। কাজের ফাঁকে ফাঁকেই লিখে চলছেন গল্প, কবিতা, উপন্যাস ও অন্যান্য অনেক কিছু।

লিখন প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ “অস্তিত্বের বিষন্ন দেয়াল” কবির ৫ম কাব্যগ্রন্থ ও ৭ম প্রকাশনা। বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন আইয়ূব আল আমীন।

জীবন

জীবনকে যদি দেখতে হয়

মন খুলে দেখো

মনের চারপাশে জীবনেরা বাস করে

ভিন্ন রঙে,ভিন্ন মতে।

(কবিতাংশ)

বাহঃ কী চমৎকার কথা! হ্যাঁ, সত্যিই তো জীবনকে নির্দিষ্ট কোন সংজ্ঞায় আবদ্ধ করা যায় না। জীবনের সংজ্ঞা ব্যক্তির একান্তই নিজস্ব উপলব্দী। কবির এ কবিতাটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও বাস্তব ধারণা প্রসূত। সত্যিই তো মনের চারপাশেই জীবনের বসবাস। সেখান থেকে ব্যক্তিত্ব, রুচিবোধ ও মননশীলতার নীরিখে খুঁজে নাও তোমার জীবন। জীবন বোধের এই স্বাধীনতাকে উপভোগ করার জন্য থাকতে হবে প্রচন্ড জীবনী শক্তি। থাকতে হবে জীবনের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিচরণের প্রচন্ড আগ্রহ।

নারীঃ

নারী শব্দটিকে ঘিরে চিরায়ত কিছু সম্পর্ক আজন্ম বদ্ধমূল। নারী মানেই মা, বোন, প্রিয়তমা স্ত্রী। এই চিরায়ত ধারণার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে কবি তার নারী কবিতায় নারীকে প্রকাশ করেছেন জীবন যুদ্ধে সংগ্রামী পুরুষের সহযোদ্ধা হিসেবে। তিনি নারীকে দাঁড় করিয়েছেন পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নিপীড়িত, নির্যাতিত, অসহায় মানুষের বিশ্বস্ত সহায় হিসেবে। নারী হৃদয়ে শুধু প্রেমই নয়, আছে বিদ্রোহ, আছে প্রতিবাদের প্রেরণদ্বীপ্ত সুদৃঢ় মনোবল আর অসীম সাহস। নারীকে অবহেলা করার কোন সুযোগ নেই। নারীর কোমল হাতের পরশেই পুরুষের অর্জিত সম্পদে গড়ে ওঠে সুখের সংসার তথা সমৃদ্ধ পৃথিবী। কবির অনুভূতি লব্দ কবিতাটি পাঠে পাঠক নারীকে নতুনভাবে চিনতে পারবেন। নারীর বহুমাত্রিক জীবনবোধ বাস্তব জীবনে উপলব্ধি করে পুরুষের জীবন আরো সমৃদ্ধ হবে বলেই আমার ধারণা।

মাটির গানঃ

এতো মমতা কি করে ভুলি

মিশে আছে মাটির টান,

যতো এসেছি দূরে

ততোই গেছি পোড়ে।

(কবিতাংশ)।

জীবন ও জীবিকার সন্ধানে মানুষ প্রতিনিয়তই ছুটছে দিগি¦দিক। কবিও এই সমাজেরই একজন সচেতন, ভাবপ্রবন ও অনুভূতি সম্পন্ন মানুষ। তিনিও ব্যক্তি জীবনে এই বৃত্তের বাইরে নন। সময়ের প্রয়োজনে তিনিও পাড় দিয়েছেন সাত সমুদ্দুর তের নদী। সুদূর ইংল্যান্ডের লন্ডনে চাকচিক্যময় প্রবাস জীবনেও মাটি ও মানুষের টানে পুড়ছে কবি হৃদয়!

মা, মাটি ও মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত এ চরণগুলো সেই অভিব্যক্তির কথাই জানান দিচ্ছে।

পাঠকের বোধের জমিতে কাব্য চাষের সফল ও অনবদ্য পংতিমালা। অতি সহজেই পাঠককে পৌঁছে দিবে সাহিত্েযর খুব গভীরে।

অস্তিত্বের বিষন্ন দেয়ালঃ

পিছু ফিরে তাকাবার সময় বুঝি

হারিয়ে গেছে সব,

মানুষের নগরে দৌড়ের ঘোর

যেমন দৌড়াছে আলো।

মানুষও তেমনি,

চাওয়া পাওয়ার মাতাল সূত্রে

ব্যস্ত আদি অন্ত।”

(কবিতাংশ)।

কাব্য নির্যাসে পরিপূর্ণ একটি সমৃদ্ধ কবিতা।

প্রতিটি ছত্রে ছত্রে ছড়য়ে আছে জীবন ও অস্তিত্বের প্রগাঢ় আহ্বান। সঙ্গত ও যৌক্তিক হয়েছে এ কবিতাটির নামে বইটির নামাকরণে। এ নামে বইটির স্বার্থক আত্মপ্রকাশে লেখকের কাব্য ভাবনার বিচণতার পরিচয? প্রকাশ পেয়েছে।

প্রযুক্তির সভ্যতায় ব্যস্ত পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ যান্ত্রিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত। একটানা ছুটে চলার ঘোর লাগা তাড়নায় পেছন ফিরে তাকাবার সময়টুকুও যেন হারিয়ে ফেলেছে মানুষ। চাওয়া-পাওয়ার জটিল সমীকরণের সমাধান খুঁজতে আলোর গতিতে ছুটছে ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com