বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৮ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পীরগঞ্জে মসজিদের ঢালাই কাজের উদ্বোধন বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে আমাদের ভাবনা বিরামপুরে মুখর পরিবেশে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পালিত পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন  পীরগঞ্জ মাতৃসদন ক্লিনিকে প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যু, স্বজনদের আহাজারি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ইন্তেকাল করেছেন

কেমন আছি চীনে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : রবিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৩
  • ৭২৮ বার পঠিত
জীবন কুমার সরকার।-   বাড়ি থেকে পাঁচ হাজার কিলোমিটার দূরের শহরে শিক্ষাজীবনের সবচেয়ে দারুণ মূহুর্ত কাটছে বর্তমানে আমার। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে বর্তমানে অধ্যয়নরত আছি চীনের হুনান প্রদেশের চাংশা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে।
আমরা যারা চীনে পড়াশোনা করছি এবং করোনা পরবর্তী সময়ে বর্তমানে চীনে চলে আসতে পেরেছি সেটা সত্যি স্বপ্নের মতো। ২০২১ এর সেপ্টেম্বরে অনেক আশা নিয়ে যন্ত্রপ্রকৌশন বিভাগে ভর্তি হয়েছিলাম। কিন্তু তারপরেই করোনার ভয়াল তীব্র প্রকোপ। একে একে তিন টা সেমিস্টার অনলাইনেই শেষ হয়ে গেলো। আশা করেই নিয়েছিলাম বাকী সেমিস্টারগুলোও আমাদের অনলাইনের শেষ করতে হবে না। তীব্র হতাশা নিয়ে বাংলাদেশ থেকে ৬ হাজারের বেশি চীনে পড়ুয়া বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা অপেক্ষা করছিলাম সবকিছু স্বাভাবিক হওয়ার।
অবশেষে সবকিছু স্বাভাবিক হওয়ার পর চীনে ফিরতে শুরু করেছি আমরা৷ আমি নিজের ক্যাম্পাসে এসেছি গেলো বছর ডিসেম্বরে।
চীনে প্রবেশের পর আমার স্বল্প দিনের অভিজ্ঞতা :
চীনে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বড় একটি সমস্যা, চীনের সাধারণ মানুষ সাধারণ ইংরেজি শব্দ গুলো সম্পর্কেও বেশ অজ্ঞ। তবে, চীনের মানুষেরা সত্যি অনেক আন্তরিক। আমরা দোভাষী সফটওয়্যার ব্যবহার করে যদি কোনো ভাবে বুঝাতে পারি আমাদের কি প্রয়োজন, তারা বেশ আন্তরিকতার সাথে আমাদের কে সাহায্য করেন। আমি একদম আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্যাকেশনের শুরুর সময়টাতে প্রবেশ করেছি। যেহেতু ক্লাস বন্ধ এবং হাতে যথেষ্ট সময় রয়েছে। এই সময়টাকে কাজে লাগানোর জন্য সবার প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনাচে কানাচে পায়ে হেটেই চেনার চেষ্টা করলাম৷ বিকেল হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের টাইমস টাওয়ার, সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনের লেকের পাড়ে বসে গীটার টা হাতে নিয়ে গান গাওয়ার চেষ্টা করতাম৷ বেশ কিছু চাইনিজ বন্ধুও জুটলো এই স্বল্প সময়ের আড্ডায়। তাদের সাথে আড্ডা দিতে দিতে শেখার চেষ্টা করলাম তাদের সংস্কৃতি এবং ভাষাটাও।
ক্যাম্পাসের প্রথম প্রোগ্রাম বসন্ত উৎসব এবং হুনান আর্ট মিউজিয়ামে আর্ট এক্সিবিশন :
বসন্ত উৎসবের যখন নোটিশ দেওয়া হলো তখন খুব উৎফুল্ল ছিলাম৷ অংশগ্রহণ করলাম চীনা সঙ্গীত, হানফু শো এবং কবিতা আবৃতিতে। বাংলা গান মাঝে মধ্যেই গাওয়া হলেও প্রথমবার সেই উৎসবেই পরিবেশন করলাম একটি চীনা গান। খুব প্রশংসাও কুরালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং উপস্থিত সবার কাছ থেকে৷ তার কিছুদিন পরেই চাইনিজ আর্ট, পেইন্টিং এবং চীনা বিখ্যাত পেইন্টার চি বাইসি সম্পর্কে জানার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই গিয়েছিলাম হুনান আর্ট মিউজিয়ামে৷
চাংশা শহরকে জানার চেষ্টা :
তীব্র শীত ছিল ভ্যাকেশনের সময়টাতে। যখনই বাহিরের আবহাওয়া একটু অনূকূলে তখনই বন্ধুদের সাথে অথবা ক্যাম্পাসে জ্যেষ্ঠ ভাইদের সাথে চলে যেতাম ঘুরতে। ইতোমধ্যে ঘুরেছি কমলা দ্বীপ, ইয়োলো মাউন্টেন, কাইফু মন্দির, সেন্ট্রাল সাউথ ইউনিভার্সিটি, হুনান ইউনিভার্সিটি সহ বেশ কয়েকটি স্থানে। চেনার চেষ্টা করেছি চাংশা শহরটাকে।
বাঙ্গালী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট :
আমাদের ক্যাম্পাসে প্রায় দেড় হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাঙ্গালী শিক্ষার্থীই শতাধিক। যে কারণে চলতে ফিরতে মনে হয় নিজের দেশেই অবস্থান করছি। প্রতিদিন বিকেল হলেই আমাদের নিয়মিত ক্রিকেট খেলা চলে। এর মাঝেই অনুষ্ঠিত হয়েছে বাঙ্গালী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। মাঝে দুই দিন পার্শ্ববর্তী সেন্ট্রাল সাউথ ইউনিভার্সিটি’র বাঙ্গালী শিক্ষার্থীদের সাথেও অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রীতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট।
শিক্ষকেরা যথেষ্ট আন্তরিক :
চীনে ভর্তির আগে একটা সমীক্ষায় দেখেছিলাম, এখানে প্রতি সতেরো জন শিক্ষার্থীর জন্য প্রায় একজন শিক্ষক পরিশ্রম করেন। আমাদেরকেও শিক্ষা প্রদানের জন্য এবং শিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন সহযোগিতার জন্য আন্তর্জাতিক কলেকে অনেক শিক্ষক রয়েছেন। কোনো পাঠে অসুবিধা হলে শিক্ষকেরা আন্তরিকতার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব নিয়ে সমস্যাগুলোর সমাধান করে দেন।
দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর ক্যাম্পাসে ফিরে কেমন আছি আমরা :
ভর্তির পর অনলাইনে ক্লাস ছিল আমাদের কাছে নরকের মতো। আমাদের অনেক সিনিয়র রয়েছেন, যারা মাত্র একটি সেমিস্টার সরাসরি ক্লাস করার পরেই দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছিলেন। তাদের অনেকে হতাশায় আত্মহত্যার চিন্তাও করেছিলেন৷ সব হতাশা কাটিয়ে এখন আমরা সনাই চীনে নিজ নিজ ক্যাম্পাসে ফিরতে সক্ষম হয়েছি। উপরের গল্প গুলো ছিল আমার বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে মাত্র তিন মাসের বৃত্তান্ত। এখন সময়টাকে কাজে লাগিয়ে স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে দৌঁড়ানোর পালা।
(লেখক-
জীবন কুমার সরকার
২য় বর্ষ, যন্ত্রপ্রকৌশল বিভাগ,
চাংশা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,
হুনান, চীন)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com