বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫০ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পীরগঞ্জে মসজিদের ঢালাই কাজের উদ্বোধন বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে আমাদের ভাবনা বিরামপুরে মুখর পরিবেশে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পালিত পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন  পীরগঞ্জ মাতৃসদন ক্লিনিকে প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যু, স্বজনদের আহাজারি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ইন্তেকাল করেছেন

গল্প-বুদ্ধিমান ময়ূর

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : সোমবার, ২১ জুলাই, ২০২৫
  • ৮৮ বার পঠিত

বুদ্ধিমান ময়ূর
-বিচিত্র কুমার

এক সময়ে এক ঘন বন ছিল, যেখানে বাস করত এক ময়ূর। তার নাম ছিল রঙ্গিলা। রঙ্গিলা ছিল সবুজ-নীল সোনালি রঙের অপূর্ব এক ময়ূর। তার পাখনার সৌন্দর্য যেন একেকটি রংধনুর রঙ মিশিয়ে গড়া। জঙ্গলের সবাই তাকে দেখেই মুগ্ধ হত, কারণ তার দেহের প্রতিটি পালক ঝলমল করত সূর্যের আলোয়।

তবে রঙ্গিলা ছিল গর্বিত। সে নিজের সৌন্দর্যের কারণে অনেক গর্ব করত এবং অন্য প্রাণীদের ছোটো মনে করত। প্রতিদিন সকালে সে গাছের ডালে বসে নিজের রঙিন পালক দেখাত এবং ভাবত, “আমি তো জঙ্গলের সবচেয়ে সুন্দর প্রাণী। আমার মতো আর কেউ নেই।”

জঙ্গল জুড়ে এই গর্বের কথা ছড়িয়ে পড়েছিল, আর অন্যান্য প্রাণীরা মাঝে মাঝে তাকে নাক সিঁটকাত। তবে রঙ্গিলা তাদের কথা একদম শুনত না, সে নিজেকে বিশেষ মনে করত।

এক দিন হঠাৎ করেই জঙ্গলে এক ভয়ংকর সিংহ এসে উপস্থিত হল। সে ছিল বড়, শক্তিশালী এবং রাক্ষসসদৃশ। সিংহের গর্জন শুনে জঙ্গলের প্রাণীরা ভয়ে ছুটতে লাগল। রঙ্গিলাও ভয় পেয়ে দ্রুত গাছের ওপর উঠে গেল।

সিংহ চলতে লাগল একে একে পশুপাখিদের ধরে ফেলার জন্য। সবাই খুব ভীত ছিল। রঙ্গিলা দেখল, শুধু সৌন্দর্য দিয়ে সে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে না। ভয়ের মাঝেই তার মাথায় একটা জোরালো চিন্তা এলো।

সে গাছ থেকে নামল এবং সাহস করে সিংহের সামনে গেল। সিংহ দেখে অবাক হল। ময়ূরটির রঙিন পাখনা গড়িয়ে পড়ে, কিন্তু তার চোখে ছিল দৃঢ়তা।

“হে সিংহ রাজা,” রঙ্গিলা বলল, “তুমি জঙ্গলের সবচেয়ে শক্তিশালী। কিন্তু আমি জানি, বুদ্ধি দিয়েই তুমি বড় হয়ে উঠেছ। আমার তোমার কাছে এক প্রস্তাব আছে।”

সিংহ একটু থমকে বলল, “বলো তো, কী প্রস্তাব?”

রঙ্গিলা বলল, “আমি যদি তোমাকে সাহায্য করি, তুমি আমাকে এবং আমার বন্ধুদের কোনো ক্ষতি করবে না। আমি জঙ্গলের প্রাণীদের একত্রিত করে তোমার জন্য শান্তি নিশ্চিত করব।”

সিংহ ভাবল, “বুদ্ধিমান পাখি, যদি তুমি সত্যিই সাহায্য করতে পারো, তাহলে আমি তোমার সঙ্গে মিলে কাজ করব।”

রঙ্গিলা তখন জঙ্গলের সব প্রাণীকে ডাক দিল। সবাই মিলিত হয়ে সিংহের সঙ্গে বন্ধুত্বের হাত বাড়াল। সিংহও শান্ত হয়ে গেল, আর জঙ্গল শান্তির আস্তানা হয়ে উঠল।

সেই দিন থেকে রঙ্গিলা বুঝল, সৌন্দর্যই সবকিছু নয়। বুদ্ধি, মমতা আর একতাই প্রকৃত শক্তি। আর সে আর গর্ব করত না, বরং অন্যদের সম্মান করত।

জঙ্গলের সব প্রাণী রঙ্গিলাকে ভালোবেসে ডাকত ‘বুদ্ধিমান ময়ূর’ নামে, কারণ সে কেবল সুন্দরই ছিল না, বুদ্ধিও ছিল তার সঙ্গে।

এভাবেই বুদ্ধিমানের জয় হল এবং জঙ্গল শান্তিতে ভরে গেল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com