বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পীরগঞ্জে মসজিদের ঢালাই কাজের উদ্বোধন বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে আমাদের ভাবনা বিরামপুরে মুখর পরিবেশে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পালিত পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন  পীরগঞ্জ মাতৃসদন ক্লিনিকে প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যু, স্বজনদের আহাজারি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ইন্তেকাল করেছেন

গল্প- মা-খুকুর বইয়ের দেশ

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২৩০ বার পঠিত

মা – খুকুর বইয়ের দেশ
-রুদ্র দাস

খুকু ছয় বছরের এক ছোট্ট মেয়ে। গোল মুখ, বড় দুটো চোখ আর সবসময় হাজারটা প্রশ্ন নিয়ে সে মায়ের পিছু পিছু ঘোরে। সবচেয়ে প্রিয় কাজ—রাত হলে মায়ের কোল ঘেঁষে বসে গল্প শোনা।

এক সন্ধ্যায় খুকু জিজ্ঞেস করল,
“মা, বইয়ের ভেতরে মানুষ থাকে?”
মা হেসে বললেন, “থাকে না তো কী! রাজা-রানী, পরী-পাখি, জাদুকর-ডাইনী—সবাই তো বইয়ের পাতায় বাস করে।”

খুকু বিস্ময় নিয়ে বলল, “তাহলে আমি একদিন ওদের সঙ্গে দেখা করব!”
মা মুচকি হেসে আদর করে বললেন, “স্বপ্নে গেলে ঠিক দেখা পাবে, মা।”

সেই রাতে খুকু ঘুমিয়ে পড়ল মায়ের কোলে। আর স্বপ্নে কী আশ্চর্য ঘটনা! একটুখানি রঙিন পালক এসে তার নাকে ছোঁয়া দিতেই সে যেন অন্য এক জগতে পৌঁছে গেল।

চারপাশে বিশাল বিশাল বই দিয়ে তৈরি টাওয়ার, বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে গল্পের পাতা। পাতার ওপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে পিঁপড়েরা, যারা কবিতা মুখস্ত বলছে! আকাশে উড়ছে বইয়ের ডানা—ছোট ছোট গল্পেরা মিলে এক বিশাল কল্পনার দুনিয়া বানিয়ে ফেলেছে।

খুকু হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গেল এক রঙিন দরজার সামনে। সেখানে সোনালি অক্ষরে লেখা —
“কল্পনার বই-পাড়া”

ভেতরে ঢুকতেই এক বুড়ো বইওয়ালা তাকে দেখে বলল,
“খুকু, তুমি এসেছ! আমরা তোমায় চিনি। তুমি তো বইয়ের খুব ভালো বন্ধু।”

খুকু লজ্জা পেয়ে বলল, “আমি রোজ মায়ের কাছে গল্প শুনি।”

বইওয়ালা হাসলেন, “তাই তো বলি, তুমি তো বইয়ের দেশের অতিথি। এসো, তোমায় গল্পরাজ্যে নিয়ে যাই।”

সঙ্গে সঙ্গে খুকু এক রাজপ্রাসাদে পৌঁছাল—তুলোর মতো নরম মেঘে গড়া রাজদরবার। সেখানে রানী রুবি, যার জুতোর গল্প শুনলে সবাই হেসে গড়িয়ে পড়ে, আর রাজকুমার রাজু, যে ভুল করে ব্যাঙ হয়ে গিয়েছিল!

এরপর খুকু গেল কবিতার কাননে।
ফুলেরা কবিতা বলে, পাতারা ছড়া পড়ে। এক পাখি এসে খুকুর কানে গুনগুন করে বলল,
“জানো খুকু? তোমার মা-ই তোমার প্রথম বই।”
খুকু চোখ বড় বড় করে বলল, “মানে?”
পাখি মিষ্টি হেসে বলল,
“তোমার মা-ই তোমাকে প্রথম শব্দ শিখিয়েছেন, গল্প শুনিয়ে স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তার কোলেই শুরু তোমার গল্পযাত্রা।”

খুকুর মনটা হঠাৎ কেমন করে উঠল। মায়ের কোলে যাওয়ার ইচ্ছা জেগে উঠল তার মনে। ঠিক তখনই এক ঝলক আলোয় ভেসে এল সোনালি সিঁড়ি, মেঘের দরজা খুলে গেল।

এক কোমল কণ্ঠে কেউ বলল,
“খুকু, এবার ঘুম ভাঙার সময় হয়েছে…”

চোখ মেলতেই খুকু দেখে, সে তার পরিচিত নরম বিছানায়, আর মা পাশে বসে কপালে হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন।
মা মৃদু হেসে জিজ্ঞেস করলেন,
“কি খুকু, আজ বইয়ের দেশে ঘুরে এলে?”

খুকু আনন্দে মাকে জড়িয়ে ধরল। তার চোখে তখনো উড়ছে কবিতার পাখি, পাতার রাজকুমার আর গল্পের ফুলেরা।

সে বলল,
“মা, তুমিই তো বইয়ের দেশের রাণী! তোমার কোলে ঘুমালেই যে আমি গল্পদের দেশে চলে যেতে পারি!”

মা হেসে বললেন,
“আর তুমি আমার প্রিয় পাঠক। চল, আজ রাতে আবার নতুন এক গল্পে যাই।”

সন্ধ্যা নামলে মা আর খুকু আবার গল্পের পাতায় ভেসে যায়—স্বপ্নের দেশে, ভালোবাসার পথে, বইয়ের দেশ থেকে বইয়ের দেশে…

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com