বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫০ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পীরগঞ্জে মসজিদের ঢালাই কাজের উদ্বোধন বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে আমাদের ভাবনা বিরামপুরে মুখর পরিবেশে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পালিত পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন  পীরগঞ্জ মাতৃসদন ক্লিনিকে প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যু, স্বজনদের আহাজারি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ইন্তেকাল করেছেন

গল্প- হাতির রাজা মূর্খ মশা

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫
  • ১৭৬ বার পঠিত

হাতির রাজা ও মূর্খ মশা
-বিচিত্র কুমার

অনেক বছর আগের কথা। দূরে এক ঘন সবুজ জঙ্গলে বাস করতেন এক রাজা — হাতিমামা। তার বিশাল দেহ, লম্বা দাঁত আর মোটা শুঁড় দেখে সবাই ভয়ে কাঁপত, আবার সম্মানও করত। রাজা হাতিমামা ছিলেন ন্যায়ের প্রতীক। প্রতিদিন সকালে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে গম্ভীর গলায় বলতেন,
“আমি হাতির রাজা, সবচেয়ে জ্ঞানী, সবচেয়ে বিচারক!”

সেই জঙ্গলের এক কোণায় বাস করত এক বেয়াড়া মশা, নাম ছিল মশিন মিয়া। সে ছোট্ট, দুর্বল, কিন্তু তার অহঙ্কার ছিল আকাশ ছোঁয়া। সে কারও কথা শুনত না, কারও নিয়ম মানত না। সব সময় উড়তে উড়তে গুনগুন করত, “আমি সবচেয়ে বুদ্ধিমান! আমি কারও ভয় পাই না!”

একদিন সকালে রাজা হাতিমামা পাহাড়ি পথে হেঁটে যাচ্ছিলেন, পেছনে বাঘ, সিংহ আর হরিণ তার সঙ্গী। হঠাৎ করে মশিন মিয়া উড়ে এসে তার কানের পাশে বসে গুনগুন করে বলল,
“তুমি রাজা হয়েছ কীসের! আমি এতটুকু হয়েও তোমার কানে ঢুকে বসতে পারছি, তুমি আমায় ধরতেই পারছ না। এই বুঝি তোমার রাজত্ব?”

হাতিমামা থমকে দাঁড়ালেন। শুঁড় কাঁপিয়ে বললেন,
“এটা অপমান! এত সাহস তোমার?”

মশা হেসে বলল,
“তুমি বড় হলেই কি বুদ্ধিমান? আমি তো তোমার চেয়েও চালাক!”

হাতিমামা গর্জে উঠলেন,
“তুমি যদি নিজেকে এতই বুদ্ধিমান মনে করো, তবে এসো! আমরা এক ধাঁধার প্রতিযোগিতায় অংশ নিই। যে জিতবে, সে-ই হবে বনের সত্যিকারের জ্ঞানী।”

সেই বিকেলেই বনের মাঝখানে আয়োজিত হলো ধাঁধা প্রতিযোগিতা। বনের সব প্রাণী ভিড় করল। শেয়াল মাষ্টার ধাঁধা দিলেন—

“ছোট হয়ে আসে, বড় হয়ে যায়,
আকাশে ভাসে, পাখি নয়। দিন শেষে তার দেখা নাই,
বল তো দেখি, সে কী ভাই?”

মশিন মিয়া তড়িঘড়ি করে বলে উঠল,
“এই তো সহজ! উত্তর হচ্ছে মশার ঝাঁক! আমরা ছোট হয়ে আসি, দল বেঁধে বড় হই, আকাশে উড়ি!”

প্রাণীরা হেসে গড়াগড়ি খায়।

এদিকে হাতিমামা চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ ভাবলেন, তারপর মাথা তুলে শান্ত গলায় বললেন,
“উত্তর হচ্ছে মেঘ।
ছোট ছোট পানির কণায় তৈরি হয়, ধীরে ধীরে বড় হয়ে আকাশে ভাসে। আর সন্ধ্যায় হারিয়ে যায়। তাই তো বলা হয়—দিন শেষে তার দেখা নাই।”

সবার মুখে আনন্দের হাঁক! কাছিম পণ্ডিত বললেন,
“হাতির রাজাই জিতেছেন। উত্তর একদম সঠিক!”

মশা লজ্জায় লাল হয়ে গেল, কিন্তু অহঙ্কার ছাড়ে না সে। মুখ ফুলিয়ে বলল,
“এটা নকল ধাঁধা! এই প্রশ্নই ঠিক না! আমি আবার প্রমাণ করব, আমি বুদ্ধিমান!”

সেদিন রাতে চুপিচুপি উড়ে গিয়ে হাতিমামার কানে ঢুকে পড়ে সে।
“এই রাজা! ঘুম ভাঙাও! এবারও দেখো, তোমার কানে আমি, আর তুমি কিছুই করতে পারো না!”

কিন্তু এবার হাতিমামা ছিল প্রস্তুত। তিনি আগেই কানের পাশে মধু মাখিয়ে রেখেছিলেন। মশা লোভে পড়ে গিয়ে মধুতে বসতেই আটকে গেল!

সকালে বনের প্রাণীরা একজায়গায় জড়ো হলো। রাজা সবার সামনে দেখালেন সেই মশাকে, যে কানের পাশে মধুর মধ্যে আটকে গিয়েছে।

পেঁচা পণ্ডিত গম্ভীর গলায় বললেন,
“এই হচ্ছে অহঙ্কারের পরিণতি। ছোট বড় নয়, জ্ঞান ও বিনয়ই একজনকে শ্রেষ্ঠ করে তোলে।”

মশাকে বনের এক নির্জন কোণায় পাঠিয়ে দেওয়া হলো, যেখানে সে ধাঁধা বানায় আর নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করে। কিন্তু আর কেউ তা শুনতে চায় না।

আর হাতিমামা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মুচকি হেসে বললেন,
“রাজা শুধু শক্তিতে নয়, বুদ্ধিতেও শ্রেষ্ঠ হয়।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com