বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পীরগঞ্জে মসজিদের ঢালাই কাজের উদ্বোধন বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে আমাদের ভাবনা বিরামপুরে মুখর পরিবেশে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পালিত পীরগঞ্জে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত   বিষয়টি দেখা দরকার  পীপীরগঞ্জে ব্র্যাক এর  প্রবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির ত্রৈয়মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কবিতা-শরৎ রূপের অনুরাগে কবিতা-বর্ষার ব্রতে শরৎ হাসে করতোয়া নদিতে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন হয়   অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নেয়না প্রশাসন  পীরগঞ্জ মাতৃসদন ক্লিনিকে প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যু, স্বজনদের আহাজারি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ইন্তেকাল করেছেন

বাজিতপুর আমিনিয়া বালিকা বিদ্যালয় পীরগঞ্জের প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

রিপোটারের নাম
  • আপডেট সময় : রবিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২০
  • ৪৭৭ বার পঠিত

– এ্যাড. কাজী লুমুম্বা লুমু

ঐতিহ্যবাহী নারীশিক্ষা প্রতিষ্ঠান পীরগঞ্জ ‘কসিমননেসা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়’। উপজেলা সদরে ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়।এরপর মাধ্যমিকে উন্নীত হয় ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে।১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে কসিমননেসা বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঠিক ১০ বছর আগে উপজেলার ৯ নং পীরগঞ্জ ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামে প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘বাজিতপুর আমিনিয়া বালিকা বিদ্যালয়’। ওই প্রতিষ্ঠানের নথিপত্র ঘেঁটে জানা যায়,বাজিতপুরের ‘পীর’ খ্যাত মফিজ উদ্দিন আহমদ।পীর সাহেবের শিক্ষাগুরু ছিলেন আল্লামা রুহুল আমিন। তাঁর বাড়ি ভারতের বসিরহাটে। গুরু-শিষ্যের পারস্পারিক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ ছিলো খুব গভীর। নারীশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে উপলব্ধি করে পীরসাহেব তাঁর গুরুর নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়তে এলাকার শিক্ষানুরাগীদের কাছে প্রস্তাব রেখেছিলেন। তাঁর প্রস্তাব ও উদ্যোগে স্থানীয়রা ব্যাপকভাবে সাড়া দেয়। ফলে দেশবরেণ্য পরমানু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার বাবা শিক্ষানুরাগী আব্দুল কাদের মিয়ার দান করা জমিতে পীর সাহেবের নেতৃত্বে ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে এলাকার শিক্ষানুরাগীরা (যতোদূর জানা যায়)বাজিতপুরের ইউসুফ আলী মৌলভী, কিয়াম উদ্দিন মৌলভী,মজিবর রহমান মিয়া,হেছাব উদ্দিন ফকির ফতেহপুরের দছিম উদ্দিন মিয়া, রফিজ উদ্দিন মকিমপুরের শাহ্ আব্দুল কাইয়ূম মিয়া, আব্দুল হক, ডা.জহুর উদ্দিন হরিরাম সাহাপুরের আহমেদুল হক এলা,মাহমুদুল হক কিশোরগাড়ির আইয়ুব আলী মিয়া, দুবরাজপুরের আব্দুর রউফ মন্ডল, হিলি গ্রামের খাঁন মামুন তহশীলদার, গোবর্দ্ধানপুরের তসর উদ্দিন জমাদার, পঁচাকান্দরের কাজী আব্দুল হালিম ও কাজী মোফারত আলী ‘আমিনিয়া মক্তব’রূপে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করে। কিছুদিন পর মক্তবটি এম ই স্কুলে রুপান্তর হয়। এরপর ওই এম ই স্কুল ‘আমিনিয়া নি¤œ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে’ উন্নীত হয় ১/১/৫৪ খ্রিস্টাব্দে এবং ১/১/৬৫ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন সরকারের মঞ্জুরী পায়। তারপর ১৪/১২/৭৬ খ্রিস্টাব্দে মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় হিসেবে মঞ্জুরীপ্রাপ্ত হয়ে ২০১১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ‘বাজিতপুর আমিনিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়’ হিসেবে চালু ছিলো। এরপর সহশিক্ষার আওতায় ‘বালিকা’ তুলে দিয়ে ১/১/১২ খ্রিস্টাব্দে বিদ্যালয়টির নতুন নামকরণ করা হয় ‘বাজিতপুর আমিনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়’। এখানে বলে রাখা ভালো যে, শিক্ষাব্রতী,কবি ও লেখক উপজেলার ৩নং বড়দরগাহ ইউনিয়নের অঁজপাড়া বুজরুক মির্জাপুরের (বর্তমানে ছোট মির্জাপুর)মোছা.খাদিজা খাতুন ওরফে খদীজা পন্ডিত ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের ১মার্চ পৈত্রিক বাড়ির আঙিনায় পাঁচজন মেয়ে নিয়ে সর্বপ্রথম মক্তবরূপে একটি স্কুল চালু করেন। পরে তাঁর বাবার নামে স্কুলটির নামকরণ করা হয়- কাদেরিয়া প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়। ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দের ২২ ডিসেম্বর স্কুলটি তৎকালীন সরকারের মঞ্জুরি পায়। ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দের ৮ সেপ্টেম্বর খদীজা পন্ডিত পূর্বপাকিস্তানের অন্যতম সেরা শিক্ষক নির্বাচিত হন এবং ৫০০ টাকা পুরস্কার পান। দুঃখের বিষয়,স্বাধীনতার পর প্রাথমিক বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের সময় এর নাম পাল্টে ‘মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ করা হয়। গত ১৭/৮/২০২০ তারিখে আমার ফেসবুক পেজে ‘নারীশিক্ষায় উপজেলার প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কসিমননেসা বালিকা বিদ্যালয় এবং ওই প্রতিষ্ঠানের প্রথম শিক্ষিকা লায়লা আরজুমান্দ বানু’ শিরোনামে একটি লেখা প্রকাশ হয়েছিল। সেখানে মন্তব্য করেন বি টি ভি’র সাবেক প্রোগ্রাম প্রডিউসার উপজেলার কৃতিসন্তান বাজিতপুরের মনজুরুর রহমান রঞ্জু। তিনি বলেন,নারীশিক্ষায় বাজিতপুর আমিনিয়া বালিকা বিদ্যালয়কে আগে বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি স্কুলটি প্রতিষ্ঠার সাল উল্লেখ করতে না পারলেও দাবী করেন যে কসিমন নেসা বালিকা বিদ্যালয়ের অনেক আগে ওই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হয়। ১৯৭৮খ্রিস্টাব্দের মার্চ থেকে ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর পর্যন্ত মনজুরুর রহমান ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন বলেও জানান। তিনি প্রতিষ্ঠাতাদের নাম প্রকাশ করেন।ওই সূত্র ধরে আমি পুনরায় অনুসন্ধান শুরু করি এবং স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা ও বিদ্যালয়ের নথিপত্র ঘেঁটে এসব তথ্য বেরিয়ে আসে।জনাব,মনজুরুর রহমান রঞ্জুকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2022 বজ্রকথা।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Hostitbd.Com